প্রিয় প্রজন্ম,
পথ চলতে গিয়ে যদি কখনো হোঁচট খেয়ে পড়ে যাই, যদি বালুকণার কাছাকাছি পেঁৗছে যায় আমার নাক, তখনি যেন মাটির শরীর বেয়ে নেমে আসে টাটকা রক্তের ঘ্রাণ। বলতে পারিস্, পৃথিবীটা কেন এত রক্তস্নাত? আমার কি মনে হয় জানিস্, পৃথিবীতে সবচেয়ে অবিচার হয় যে বিধানটির সাথে, তা হলো মানুষ হত্যার বিধান। আজ হত্যা আর রক্ত দিয়েই শুরু করলাম।
আচ্ছা বলতো, এমন কোন সংস্থা বা গোষ্ঠীকে কি তুই কখনো বিচারের দণ্ড তুলে দিতে পারিস্, যে কি না শক্তিশালীর সাতখুন মাফ করে আর দুর্বলের রুখে দাঁড়ানোকেই দণ্ডে ঝুলিয়ে দিয়ে পৃথিবীব্যাপী সাফল্যের অট্টহাসি ছড়িয়ে দেয়? পৃথিবী এখন অদৃশ্য আলোকের দোদুল্যতায় দুলছে। যে আলোকে দিন-রাতের ব্যবধান উল্টো। এখানে আমাদের চরিত্রগুলো বড়ই বিদঘুটে, সহসাই ভুলে যাই অতীতকে, চেতনার যে ধোঁয়া মাঝেমধ্যে নেতাদের পাঁজর ফেটে বেরুতে দেখছিস্, তা এখন হাতিয়ার মাত্র। আর এ হাতিয়ারের ব্যবহার ওরা ভালভাবেই রপ্ত করেছে, যা এখন ডালের বড়া আর আলুর চপের মতই গেলাতে সক্ষম হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই তো, নির্বাচনের হাওয়ায় দোল খাচ্ছে আমার দেশের পতাকায়, মানচিত্রে, ক'জন ভাবছে তাদের ভবিষ্যত, দেশের ভবিষ্যত; অধিকাংশই তো ওমর খৈয়াম-নীতিতে বিশ্বাসী- 'নগদ যা পাও হাত পেতে না, বাকীর খাতা শূণ্য থাক'।
আজকের সন্ধ্যাটা ছিল মরুর বেয়াড়া বাতাসে ভর করা, ধুলি-ঝড়ে ছিল শীতের কুয়াসার কারসাজি, প্রচণ্ড বেগের বিপরীতে চলছিলাম ঝড়কে রুধে রুধে, আমার প্রশান্ত সিজ্দার অবনত-প্রান্তরের পথে। বাতাসের গন্ধে ছিল ফিরে যাও ফিরে যাও ভাব, কিন্তু গতির মাঝেই যে আমাদের বেঁচে থাকা, আমাদের অর্জন, আমাদের অনন্ত-সন্ধান। আমি দুর্বল এক প্রাণ, আমার চতুভর্ূজে আরো অসংখ্য দুর্বলতা কিন্তু সততা, শক্তিগুলো যদি আজ পঙ্গু হয় তবে কি লক্ষ লক্ষ দুর্বলের যোগফল শক্তি হতে পারে না? আমি আকণ্ঠ শ্বাস রুদ্ধ করে দিতে চাই প্রবল অত্যাচারীর বিষ-কণ্ঠনালী; হাত মেলাবে তো প্রজন্ম? ভাল থেকো তুমি।
প্রজন্মের 'ফএমু'
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




