হাল-এর বাতাসে সন্দেহের গন্ধ মৌ মৌ করছে; ছেলেবেলায় দেখেছি কুনো ব্যঙেরা বেরোয় সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে। সকল নতুন প্রভাতের জন্যই উত্তরী বায়ু বিভ্রান্তিময়; কে জানে, কোথায় আবার ঝড় শুরু হয়? হলে হবে, কিন্তু ঝড়ের পূর্বাভাস কি, সে সতর্কবাণী না হয় অসংখ্য জনেই শোনাল; আসলে বায়ুর পরিচয় কি আর প্রভাতের সূচনা কোথায়? কিভাবে? সে পত্রপল্লবেই গেঁথে রাখি মালা, প্রত্যাশা এই যে, সুবাসে সুবাসিত করুক কেউ কারো জীবন। কেউ পেয়ে যাক তার শেকড়ের সন্ধান; যাঁর নাম আদম 'আলাইহিস্ সালাম, তার কথা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে সর্বমোট ২৫ টি আয়াতে ২৫ বার এসেছে। তন্মধ্যে কিছু আয়াতে তার নামের উল্লেখ এসেছে তার ইতিহাস বর্ণনায়। আর কিছু আয়াতে এসেছে সন্তানদের প্রতি আদেশ-নিষেধ প্রদান প্রসঙ্গে। তিনিই আমাদের প্রথম পিতা, মানব জাতির সূচনা তার মাধ্যমেই, আল্লাহ্ তা'আলা তার অবয়বই সর্বপ্রথম বানিয়েছেন, রূহের বন্টনও তার মধ্যে রূহ দেয়ার মাধ্যমেই শুরু করেছেন। তার বাঁ পাঁজরের হাড় থেকেই তার জন্য সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন। মানব জাতির চির শত্রু শয়তানের প্ররোচনায় জান্নাতের আবাসন থেকে তার আগমনের মাধ্যমেই পৃথিবীতে শুরু হয় মানুষের ইতিহাস। (সূচনার কথাগুলোকে একত্রিক করলাম শুধু; এয়াড়া বিশেষ কোন কৃতিত্ব নেই পোষ্টদাতার।)
কুরআনে বর্ণিত আয়াতগুলোর ধারাবাহিক সাজানো প্রকাশ এরূপঃ
"বিতাড়িত শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই"
[গাঢ়]সূরা আল-বাকারাহঃ[/গাঢ়]
৩০) আর স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ফিরিশ্তাদের বললেন, 'আমি যমীনের উপর খলীফা বানাবো,' তারা বলল, 'আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে অশান্তি ঘটাবে ও রক্তপাত করবে? অথচ আমরাই আপনার সপ্রশংস গুণবর্ণনা ও পবিত্রতা ঘোষণা করি। তিনি বললেন, 'নিশ্চয়ই আমি তা জানি, যা তোমরা জান না'।
৩১) আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফিরিশ্তাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, 'এগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও'।
৩২) তারা বলল, 'আপনি কতইনা পবিত্র! আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের তো কোন জ্ঞানই নেই। বস্তুত আপনি জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়'।
৩৩) তিনি বললেন, 'হে আদম! তাদেরকে এসবের নাম বলে দিন'। তিনি তাদেরকে সেসবের নাম বলে দিলে তিনি(আল্লাহ্) বললেন, 'আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আসমান ও যমীনের যাবতীয় অদৃশ্য বস্তু সম্বন্ধে আমি নিশ্চিতভাবে অবহিত এবং তোমরা যা ব্যক্ত কর ও যা গোপন রাখ আমি তাও জানি'।
৩৪) যখন আমরা ফিরিশ্তাদের বললাম, আদমকে সিজ্দা কর, তখন ইব্লিস ছাড়া সকলেই সিজ্দা করল; সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল। কাজেই সে কাফেরদের অন্তভর্ুক্ত হল।
৩৫) আমরা বললাম, 'হে আদম! আপনি ও আপনার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করুন এবং যেখান থেকে যা ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করুন, কিন্তু এই গাছটির কাছে যাবেন না; তাহলে আপনারা হবেন যালেমদের অন্তর্ভুক্ত'।
৩৬) কিন্তু শয়তান সেখান থেকে তাদের পদস্খলন ঘটালো এবং তারা যেখানে ছিল সেখান থেকে তাদেরকে বের করল। আমরা বললাম, 'তোমরা একে অন্যের শত্রু রূপে নেমে যাও, কিছু দিনের জন্য তোমাদের বসবাস ও জীবিকা রইল পৃথিবীতে'।
৩৭) তারপর আদম তার প্রতিপালকের কাছ থেকে কিছু বাণী পেলেন। অতঃপর আল্লাহ্ তার তাওবা কবূল করলেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৩৮) আমরা বললাম, 'তোমরা সকলে এখান থেকে নেমে যাও। পরে যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট সৎপথের কোন নির্দেশ আসবে তখন যারা আমার সৎপথের অনুসরণ করবে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না'।
[গাঢ়]সূরা আল-আ'রাফঃ[/গাঢ়]
১১) আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তারপর তোমাদের আকৃতি দান করেছি এবং এরপর ফিরিশ্তাদেরকে আদমকে সিজ্দা করতে বলেছি; ইবলীস ছাড়া সবাই সিজ্দা করল। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হল না।
১২) তিনি বললেন, 'আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কি তোমাকে নিবৃত্ত করল যে, তুমি সিজদা করলে না?' সে বলল, 'আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কাদামাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।'
১৩) তিনি বললেন, 'এখান থেকে নেমে যাও, এখানে থেকে অহংকার করবে, এটা হতে পারে না। কাজেই বের হয়ে যাও, তুমি অধমদের অন্তর্ভুক্ত।'
১৪) সে বলল, 'পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন।'
১৫) তিনি বললেন, 'যাদেরকে অবকাশ দেয়া হয়েছে তুমি অবশ্যই তাদের অন্তর্ভুক্ত হলে।'
১৬) সে বলল, 'আপনি আমাকে শাস্তি দিলেন, এজন্য আমিও আপনার সরল পথে মানুষের জন্য নিশ্চয় ওঁত পেতে থাকব ।'
১৭) 'তারপর আমি তাদের কাছে আসবই তাদের সামনে, পিছনে, ডান ও বাম দিক থেকে এবং আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।'
১৮) তিনি বললেন, 'এ স্থান থেকে বের হয়ে যাও ধিকৃত ও বিতাড়িত অবস্থায়। মানুষের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সবাইকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করবই।'
১৯) 'হে আদম! আপনি ও আপনার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করুন অতঃপর যেথা হতে ইচ্ছা খান, কিন্তু এ গাছের ধারে-কাছেও যাবেন না, তাহলে আপনারা যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।'
২০) তারপর তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল তা তাদের কাছে প্রকাশ করার জন্য শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল এবং বলল, 'পাছে তোমরা উভয়ে ফিরিশ্তা হয়ে যাও কিংবা তোমরা স্থায়ী হও এ জন্যেই তোমাদের রব এ গাছ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।'
২১) সে তাদের উভয়ের কাছে শপথ করে বলল, 'আমি তো তোমাদের শুভাকাংখীদের একজন।'
২২) এভাবে সে তাদেরকে প্রবঞ্চনার দ্বারা অধঃপতিত করল। এরপর যখন তারা সে গাছের ফল খেল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগল । তখন তাদের রব তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, 'আমি কি তোমাদেরকে এ গাছের ধারে-কাছেও যেতে নিষেধ করিনি এবং আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, শয়তান তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?'
২৩) তারা বলল, 'হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি, যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।'
২৪) তিনি বললেন, 'তোমরা নেমে যাও, তোমরা একে অন্যের শত্রু এবং পৃথিবীতে কিছুদিনের জন্য তোমাদের বসবাস ও জীবিকা রইল।'
২৫) তিনি বললেন, 'সেখানেই তোমরা জীবন যাপন করবে, সেখানেই তোমাদের মৃতু্য হবে এবং সেখান থেকেই তোমাদেরকে বের করে আনা হবে।'
[গাঢ়]সূরা ত্বা-হাঃ[/গাঢ়]
১১৫) আমি তো ইতিপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দান করেছিলাম, কিন্তু তিনি ভুলে গিয়েছিলেন; আমি তাঁকে সংকল্পে দৃঢ় পাইনি।
১১৬) স্মরণ করুন, যখন ফিরিশ্তাগণকে বললাম, 'আদমের প্রতি সিজ্দা কর,' তখন ইবলীস ছাড়া সবাই সিজ্দা করল; সে অমান্য করল।
১১৭) তারপর আমি বললাম, 'হে আদম! নিশ্চয়ই এ আপনার ও আপনার স্ত্রীর শত্রু, কাজেই সে যেন কিছুতেই তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, দিলে তোমরা দুঃখ-কষ্ট পাবে।
১১৮) 'আপনার জন্য এটাই রইল যে, আপনি জান্নাতে ক্ষুদার্তও হবেন না ও নগ্নও হবেন না।
১১৯) 'এবং সেখানে পিপাসার্ত হবেন না এবং রোদে আক্রান্তও হবেন না।'
১২০) তারপর শয়তান তাঁকে কুমন্ত্রণা দিল; সে বলল, 'হে আদম! আমি কি আপনাকে বলে দেব অনন্ত জীবনপ্রদ গাছের কথা ও অক্ষয় রাজ্যের কথা?'
১২১) তারপর তারা উভয়ে তা থেকে খেল; তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের গাছের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে ঢাকতে লাগল। আদম তাঁর প্রতিপালকের হুকুম অমান্য করল, ফলে তিনি ভুলে পতিত হলেন।
১২২) এরপর তাঁর প্রতিপালক তাঁকে মনোনীত করলেন, তাঁর তাওবা কবূল করলেন ও তাঁকে পথনির্দেশ করলেন।
১২৩) তিনি বললেন, 'তোমরা উভয়ে একসাথে জান্নাত থেকে নেমে যাও। তোমরা পরস্পর পরস্পরের শত্রু। পরে আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সৎপথের নির্দেশ আসলে যে আমার পথ অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না ও দুঃখ-কষ্ট পাবে না।
[গাঢ়]সূরা বনী-ইসরাঈলঃ[/গাঢ়]
৬১) স্মরণ করুন, যখন ফিরিশ্তাদেরকে বললাম, 'আদমকে সিজ্দা কর', তখন ইব্লীস ছাড়া সবাই সিজ্দা করল। সে বলেছিল, 'আমি কি তাকে সিজ্দা করব যাকে আপনি কাদা থেকে সৃষ্টি করেছেন?'
৬২) সে বলেছিল, 'আপনি কি বিবেচনা করেছেন, আপনি আমার উপর এ ব্যক্তিকে মর্যাদা দান করলেন, কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দেন তাহলে আমি অল্প কয়েকজন ছাড়া তার বংশধরকে অবশ্যই কর্তৃত্বাধীন করে ফেলব।'
৬৩) আল্লাহ্ বললেন, 'যাও, তাদের মধ্যে যারা তোমাদের অনুসরণ করবে, তবে জাহান্নামই তোমাদের সবার শাস্তি, পূর্ণ শাস্তি।
৬৪) 'তোমার ডাকে তাদের মধ্যে যাকে পার পদপদস্খলিত কর, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা তাদেরকে আক্রমণ কর এবং তাদের ধনে ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যাও ও তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দাও।' শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ছলনা মাত্র।
৬৫) নিশ্চয়ই 'আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই।' কর্মবিধায়ক হিসেবে আপনার প্রতিপালকই যথেষ্ট।
[গাঢ়]সূরা কাহ্ফঃ[/গাঢ়]
৫০) এবং স্মরণ করুন, আমি যখন ফিরিশ্তাগণকে বলেছিলাম, 'আদমের প্রতি সিজ্দা কর', তখন তারা সবাই সিজ্দা করল ইব্লীস ছাড়া; সে জিনদের একজন, সে তার প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল। তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করছ? ওরা তো তোমাদের শত্রু। যালিমদের এ বিনিময় কত নিকৃষ্ট!
[গাঢ়]সূরা আলে-ইমরানঃ[/গাঢ়]
৩৩) নিশ্চয় আল্লাহ্ আদমকে, নূহ্কে ও ইব্রাহীমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের উপর মনোনীত করেছেন।
৫৯) আল্লাহর নিকট নিশ্চয়ই 'ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তসদৃশ। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন; তারপর তাকে বলেছিলেন, 'হও', ফলে তিনি হয়ে গেলেন।
[গাঢ়]সূরা আল-মায়েদাঃ[/গাঢ়]
২৭) আদমের দু'ছেলের কাহিনী আপনি তাদেরকে যথাযথভাবে শুনান। যখন তারা উভয়ে কুরবানী করেছিল তখন একজনের কুরবানী কবূল হল এবং অন্যজনের কবূল হল না। সে বলল, 'আমি তোমাকে হত্যা করবই।' অন্যজন বলল, 'অবশ্যই আল্লাহ্ মুত্তাকীদের পক্ষ হতে কবুল করেন।'
-সময়ে সময়ে হয়ত বিস্তারিত লেখায় বিস্তারিত কথা এসে যাবে। এখন শুধু অনুরোধ- যারা জানতে চান প্রথম মানুষ সম্পর্কে, নিজেদের প্রথম পিতা সম্পর্কে, মানব জাতির সূচনা সম্পর্কে, প্রথম নবী সম্পর্কে তাহলে উক্ত আয়াতগুলোর তাফসীর পড়ে নিন ভালভাবে। সম্ভব করতে পারলে অনেকগুলো তাফসীর থেকে এ আয়াতগুলোর তাৎপর্য বুঝার জন্য চেষ্টা করা উচিত। সকলের জন্য হেদায়াতের দো'আ সর্বশক্তিমানের নিকট।
ছবির জন্য !@@!608802 যেখানে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


