somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@শুধুমাত্র তাওহীদুর্ রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতি প্রকৃত মুসলমান হওয়া ও আযাব মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়-১

১৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব পড়ুন
তাওহীদ তথা একত্ববাদে বিশ্বাস ব্যতীত মানুষের পক্ষে আল্লাহর প্রকৃত বান্দা হওয়ার কোন অবকাশ নেই। ইতিপূর্বে আমরা জেনেছি যে, তাওহীদ তিন প্রকার- তাওহীদুর্ রুবুবিয়্যাহ্ (প্রভুত্বে একত্ববাদ), তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ্ (ইবাদাতে একত্ববাদ) ও তাওহীদুল আসমা ওয়াস্ সিফাত (নাম ও গুণাবলীতে একত্ববাদ)। এ পর্বে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- কেউ শুধুমাত্র তাওহীদুর্ রুবুবিয়্যাহতে বিশ্বাস স্থাপন করলে সে সত্যিকার অর্থে তাওহীদ পন্থী নয়; কেননা, উল্লেখিত তিন প্রকার তাওহীদে বিশ্বাসের সমন্বয়ই হলে পরিপূর্ণ তাওহীদ, আর এই তিন প্রকার তাওহীদে বিশ্বাসের ফলেই মানুষ সত্যিকার অর্থে আল্লাহর বন্দেগীর সীমানায় প্রবেশ করে তথা মুসলমান হয়ে থাকে।

বলা হয়েছে যে- "দুনিয়া আখেরাতের শস্যক্ষেত্র"। তাই এই শস্যক্ষেত্রে আপনার আবাদ করা ও তা থেকে অর্জন করার জন্য সর্ব প্রথম কাজটিই হলো এই আবাদী ভূমির প্রকৃত মালিকের সম্মতি আদায়। আর একথা বলাই বাহুল্য যে, সম্মতি আদায় করতে হলে অবশ্যই ভালভাবে তাঁকে চিনতে হবে। সেই চেনার প্রকিয়াটাকেই তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে যা তিন প্রকার তাওহীদ নামে পরিচিত। অতএব, আমাদের ও আমাদের এই আখেরাতের আবাদভূমি পৃথিবীর প্রকৃত মালিককে চিনতে হলে, তাঁর প্রকৃত গোলাম হতে হলে এবং আখেরাতে তাঁর নিকট হতে দুনিয়াবী শ্রমের প্রতিদান-ফসল লাভ করতে হলে অবশ্যই একই সাথে তিন প্রকার তাওহীদে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে; এর কোন বিকল্প নেই। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ .
((আর তাদের অধিকাংশই আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করে এমতাবস্থায় যে, তারা মুশরিক।)) [সূরা ইউসুফ: ১০৬]
অর্থাৎ, তারা আল্লাহর প্রভুত্বে তথা তাওহীদুর্ রুবুবিয়্যাতে বিশ্বাস স্থাপন করে থাকে। তিনি যে সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, বিশ্বব্যবস্থার পরিচালক তা স্বীকার করে। কিন্তু ইবাদাতের ক্ষেত্রে তথা তাওহীদুল উলুহিয়্যাতে এসে আল্লাহর সাথে শির্ক করে বা তাঁর ইবাদাতে অংশীদার স্থাপন করে থাকে। আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনে বলেন:
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ ...
((আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, 'আল্লাহ্।)) [সূরা আয্-যুমার: ৩৮]

তাওহীদুর্ রুবুবিয়্যাহতে বিশ্বাসী এ পর্যায়ের মুশরিকদের সম্পর্কে বিশিষ্ট তাফসীরবিদগণের কয়েকজনের মন্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: 'তাদের ঈমান হলো এমন যে, যখন তাদেরকে বলা হয়: কে আসমান সৃষ্টি করেছেন? কে যমীন সৃষ্টি করেছেন? কে পর্বতমালা সৃষ্টি করেছেন? তখন তারা বলে: "আল্লাহ্", অথচ তারা মুশরিক।'

ইকরিমা বলেন: 'আপনি যদি তাদেরকে প্রশ্ন করেন যে, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং কে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা বলবে: আল্লাহ্। এটাই হলো আল্লাহর প্রতি তাদের ঈমান, অথচ তারা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদাত করে থাকে।'

মুজাহিদ বলেন: 'তাদের ঈমান হলো একথা বলা যে, আল্লাহ্ আমাদের স্রষ্টা এবং তিনিই আমাদের রিযিক দান করেন ও মৃত্যু দান করেন। এটাই হলো গাইরুল্লাহর (আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো) ইবাদাতের মাধ্যমে শির্ক করার পাশাপাশি তাদের ঈমানের স্বরূপ।'

আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম ইবনে যায়েদ বলেন: ' যে ব্যক্তিই আল্লাহর সাথে অন্য কারো ইবাদাত করে, সে-ই আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং জানে যে, আল্লাহ্ তার রব, তার স্রস্টা ও রিযিকদাতা। অথচ সে আল্লাহর সাথে শির্ক করে। আপনি কি দেখেননি ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম কিরূপ বলেছেন:
قَالَ أَفَرَأَيْتُمْ مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ * أَنْتُمْ وَآَبَاؤُكُمُ الْأَقْدَمُونَ * فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِي إِلَّا رَبَّ الْعَالَمِينَ .
((তিনি (ইবরাহীম) বললেন, 'তোমরা কি ভেবে দেখেছ, কিসের ইবাদাত তোমরা করে আসছো- তোমরা এবং তোমাদের অতীত পিতৃপুরুষেরা? নিশ্চয়ই বিশ্বজাহানের প্রতিপালক ব্যতীত এরা সকলেই আমার শত্রু।)) [সূরা আশ্-শু'আরা: ৭৫-৭৭]

(অসমাপ্ত)
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের ওভারব্রীজ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৪

বেশ অনেকদিন আগের কথা। আমি কোন এক দুর্ঘটনায় পা এ ব্যাথা পাই। হাসপাতালে ইমারজেন্সি চিকিৎসা নেই। কিন্তু সুস্থ হতে আরো অনেক দেরী। সম্ভবত চিটাগাং রোডে (নারায়ণগঞ্জ) এ রাস্তা পার হবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×