somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@ তাওহীদুল্ উলুহিয়্যাহ্ বা ইবাদাতে একত্ববাদ-এর প্রমাণাদি (২)

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পড়ুন-@ তাওহীদুল্ উলুহিয়্যাহ্ বা ইবাদাতে একত্ববাদ-এর প্রমাণাদি (১)
তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ্ বা ইবাদাতে একত্ববাদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই আল্লাহ্ তা'আলা যুগে যুগে তাঁর বাণী সম্বলিত কিতাবসমূহ প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁর পক্ষ হতে এসব নির্দেশ পাঠানোর কাজে ব্যবহার করেছেন ফিরিশতাগণের মাধ্যম, আর একথা সকল ঐশী কিতাব প্রাপ্তদের জানা রয়েছে যে, নবী-রাসূলগণের নিকট ওহী পৌঁছানোর দায়িত্ব জিবরীল 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের। কখনো কখনো বিভিন্ন প্রয়োজনে আল্লাহ্ একাধিক বা একদল ফিরিশ্তাকেও পাঠিয়েছেন। আল্লাহ্ তা'আলা ইবাদাতে একত্ববাদের প্রমাণ তথা উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বলেন:

((তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা স্বীয় নির্দেশ ওহীসহ ফিরিশ্তাদেরকে এই বলে নাযিল করেন যে, তোমরা সতর্ক করে দাও যে, নিশ্চয়ই আমি ছাড়া কোন প্রকৃত ইলাহ্ নেই। অতএব, আমাকে ভয় কর।)) [সূরা আন্-নাহ্ল: ২]

কিন্তু কি হবে তাওহীদুল্ উলুহিয়্যাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কি সুফল পাওয়া যাবে দুনিয়ার এই পার্থিব জীবনে এবং কি প্রতিদান ও মর্যাদাই বা অপেক্ষমান অনন্ত আখেরাতে; এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ সোবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেন:

((যারা ঈমান এনেছে এবং ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই সৎপথ প্রাপ্ত।)) [সূরা আল-আন'আম: ৮২]
লক্ষ্যণীয় যে, (১) ঈমান আনা, (২) ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত না করা। এখানে যুলুমের বর্ণনা বিস্তর, তা হতে পারে ব্যক্তির একান্ত মনে মনে, দৃষ্টিতে, শ্রবণে, অনুভবে কিংবা হতে পারে সমষ্টির সাথে কৃত যুলুমে। সর্বোপরি এ দু'টির বিনিময়ে বলা হয়েছে- (১) নিরাপত্তা লাভ ও (২) সৎপথ প্রাপ্তি। প্রথমটি অর্থাৎ, নিরাপত্তার বিষয়টি দুনিয়াতে যেমন কার্যকর থাকছে তেমনি আখেরাতে পরিপূর্ণরূপ নিয়েই কার্যকর থাকবে; বরং আখেরাতের নিরাপত্তা লক্ষ দুনিয়ার নিরাপত্তার চাইতেও শ্রেয়। কেননা, সেদিন নিরাপত্তা দানকারী এবং পাকড়াওকারী হবেন আল্লাহ্ সোবহানাহু ওয়াতা'আলা; যদিও দুনিয়াতেও তিনিই সে ক্ষমতা রাখেন, কিন্তু এ জাগতিক জীবন তো আমাদের পরীক্ষাকেন্দ্র, তাই এখানে ছাড় রয়েছে।

যারা তাওহীদুল উলুহিয়্যাহর ব্যাপারে উদাসীন(গাফেল), অস্বীকারকারী(কাফের) কিংবা অংশীবাদী(মুশরিক), তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:

((নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শরীক করবে আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম। আর যালেমদের কোন সাহায্যকারী হবে না।)) [সূরা আল মায়েদাহ্: ৭২]
তিনি আরো বলেন:

((আর আপনি আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ্ সাব্যস্ত করবেন না, করলে আপনি নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবেন।)) [সূরা আল-ইসরা: ৩৯]

মূলতঃ তাওহীদুল উলুহিয়্যার ক্ষেত্রে তিন প্রকার হতে পারে মানুষেরা- (১) গাফেল বা উদাসীন, এদের বেশীর ভাগই ঈমানদারদের মধ্য থেকে। তারা কখনো জানার চেষ্টাটুকুও করে না যে, কার উপর তারা ঈমান এনেছে, তাঁর পরিধি কতদূর, তাঁর ক্ষমতা কি, তাঁর নাম-গুণাগুণ ইত্যাদি সম্পর্কে বেমালুম-বেখবর হয়েই তারা নিশ্চিন্ত থাকছে যে, তারা তো মুসলমান। অথচ আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাসে বিন্দুমাত্রা হেরফের হলেই যে তাদের মুসলমানিত্ব ধোঁয়ার মত উবে যাবে, সে ব্যাপারে কোন চেতনাবোধই তাদের দেখা যায় না।

এছাড়া বাকী দু'পক্ষের কেউ তো অস্বীকারের দোষে প্রারম্ভেই বাদ পড়ে যায় এবং যারা কিছু কিছু স্বীকার করে বাকী বিশ্বাসের সাথে অংশীবাদ মিশ্রিত করার মাধ্যমে চরমতম ক্ষতি করে ফেলছে নিজেদের। বিশ্ববাসীর জন্য ইবাদাতে একত্ববাদ বা তাওহীদুল উলুহিয়্যার প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাসী হওয়ার মধ্যেই নিহিত রয়েছে যাবতীয় দুনিয়াবী কল্যাণ এবং আখেরাতের অনন্ত শান্তি। অন্যথা কেউ নেভাতে পারবে না এই অশান্ত পৃথিবীর দাউ দাউ আগুনকে; ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধিই পাবে কেবল। অবশেষে মৃত্যুর মাধ্যমে অনন্ত প্রজ্জ্বলন!!!!!!!!

আল্লাহ্ আমাদের হেফাযত করুন, তাঁর তাওহীদ বা একত্ববাদ বিশ্বাসের ভ্রান্তি, গাফলতী ও অংশীবাদের নিমজ্জন থেকে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হঠাৎ কেন ঢাকায় র প্রধান?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:২২


দিল্লী দখল ঠেকাতে ঢাকায় চলে এলেন র প্রধান!

হ্যাঁ, ঠিকই শুনলেন। ক'দিন ঐ র‍্যাডিসন ব্লুতে বসে অনেকের হাতে-পায়ে ধরলেন; বললেন, "তোমরা প্লিজ দিল্লী আক্রমণ করো না। আমাদের মিসাইল, অস্ত্র সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী কারা

লিখেছেন কিরকুট, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬


বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা হলেই আমাদের সামনে সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা কিংবা অন্যান্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কথা আসে। কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×