প্রহর প্রগমনে শুনেছে প্রকৃতি ক্ষীণতর চিৎকার
আবির্ভাবেই প্রভাবিত প্রাণ চেয়েছিল অধিকার,
পৃথিবী-পথের শুরু, দিনের গণণা বিয়োগের ধারাপাতে
চেয়েছি কি চাইনি; আগমনে এই, নেই কোন প্রতিকার।
দেখেছি আনন্দ, দেখেছি অশ্রু, প্রারম্ভ অসহায়,
যে হাতে দুলেছি, যে কোলে চড়েছি, অধরের মমতায়;
বুঝেছি তা নেই বুঝিবার দিনে, ফিরবে না কোনদিন,
হারালো কোথায়, কোথা চলে যায়, কোন সেই অজানায়?
দেখেছি হেথায় ফুল ফোটে ভোরে, পাতা ঝরে নব-বায়,
বদলায় দিন, বদলায় রঙ আর মানুষের কায়,
ভাবনায় মরি! সময়ের স্রোতে ভাসিছে ভুবন কেন?
আদরের দিন ফুরিয়ে এখন দাঁড়িয়েছি যাতনায়।
এখানে এখন কঠিন শিলায় ধ্বংস-বারুদ খনি
পাথরে পাথরে মানব-খুলির সমতা শ্লোগান শুনি
পথে-প্রান্তরে, পদ-ধুলি তলে বিস্ফোরণের চাবি
বৃষ্টি এখানে বোমার ধারা, বজ্্র প্লেনের ধ্বনি!
এসেছিল প্রাণ, গড়েছে পৃথিবী, চলে গেছে পুরানায়
নব নব আসে, কিছুদিন থাকে, ফের চলে অদেখায়
কোথা হতে আসে? যায় কোথা শেষে? নিত্যচিন্তনীয়,
কেন এল এই বেদনা-বিরহে, কি কর্ম সাধনায়?
ক'জন খুঁজিছে? ক'জন বুঝিছে? নিদারুন কড়িকাঠি
অথচ মানব শ্রেষ্ঠ বিবেকী, জ্ঞানী আর পরিপাটি।
নিস্পাপ প্রাণ ঝরে গেল কেন? দেহ কেন কারাগারে?
হলো না বিচার, কেন অবিচার? কোথা সে ন্যায়ের কাঠি?
অন্ধকারের গ্রন্থাগারে খুঁজিয়া ক্লান্ত মন
স্বার্থ যেখানে সমীচীন বাজী- লক্ষ লক্ষ প্রাণ!
শান্তি-ন্যায়ের দণ্ড লক্ষ্য- আগাছা মুক্ত ভূমি;
কষাই কি বোঝে চৌপদী-মায়া, সঞ্চয় যার ধ্যান।
জীবন-সকালে গ্রহিত অাঁধার কালো কালো চারদিক,
অথৈ সাগরে ছেঁড়া পালে আর বৈঠাবিহীন নাবিক।
অবশেষে শুনি মহিয়ান ও-বাণী! দিক-দিগন্ত জুড়ে...
সমূহ "জিন আর মানব সৃজনে ইবাদাত হলো ঠিক"।
শোষিত আত্মা, মজলুম দেহ, কেঁদোনা এ প্রহসনে
ভূবন 'তাসের ঘর' তাদের আর বীজতলা মুমিনের,
প্রশংসা-সাথে ধৈর্যের পথে আগে চলো অবিচল
আখেরাত আর প্রভূ-সাক্ষাত দিন পানে বিচারের।
20.05.2006, হারাতুশ্ শারকিয়্যাহ্, মাদীনাহ্।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



