এ কাল-সে কাল ভেবে ভেবে আজকাল কখন যে ভোর হয়ে যায়, টের পাই না। আমার তো মনে হয় যে, টের পাওয়ার মত তেমন কিছুই ঘটছে না। না হয় কম্পিউটারে কথাবলা ঘড়িটার সেই ছোট্ট খুকিটি তো প্রতি 15 মিনিট পর পরই সময়ের জানান দিয়ে যাচ্ছে। কাজ সেরে আমার বন্ধু বলেন, আর শত্রু বলেন, রুম-মেট আর রাত জাগা সাথী, সবই এই কম্পিটার খানা। বড্ড এলোমেলো আচরণ ইদানিং, এই সাপের খেলা তো, রাম ছাগলের ব্যা ব্যা, কি সব সস্তা প্রচারণা পর্দাজুড়ে। সময়ের নাগাল ধরতে পারছি না, আর সে কিনা হাতে ধরিয়ে দিতে চাচ্ছে ছাগলের লাগাম, কখনো সাপের লেজ, বলে কি না ঃ একটা গুতো মেরেই দেখ না, দেখবি কি মজার খেলা দেখাচ্ছে।
অনেকটা 'কুকুরের লেজে কেরোসিন ঢেলে দেয়া' অবস্থা আর কি। বেচারা কুকুরের তখন আর হুঁশ থাকে না, সে কি দৌড় আর কিছু দূর গিয়েই ঘাসের সাথে প্রাণান্ত ঘষাঘষি, ভরা পেটে তা দেখা প্রায় অসম্ভব, পেটে খিল ধরে রীতিমত আবার ক্ষুধা লাগার মত করে পেট খালি হয়ে যাবে। খাওয়ার পর তাই নেট-উঠোনে খুব একটা ঘুরোঘুরি করতে পারি না। পরিচ্ছন্নতার অভ্যেস কি না, কখন আবার ঘাস মনে করে প্যান্টের পায়ের অংশেই ঘষাঘষি শুরু করে বেচারা। ইস্, খুব মায়া হচ্ছে। এমন কাজটা না করলেই তো পারতো, একটু মজা না হয় অন্য কোথাও থেকেই কিনে আনতে পারতে তোমরা, কি দরকার ছিল তার লেজে কেরোসিন দেয়ার? যত্তসব...।
আসলে সাপ নাচাতে, কুকুরকে দৌড়ানোতে লাগিয়ে দিতে, ছাগলের ব্যা ব্যা শুরু করাতে এমনকি বানরকে গাছে উঠিয়ে তরতাজা ডাব পেড়ে মজা করে খাওয়ার মত একটা মানসিকতা বা বস্তু প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান। আবার সুন্দর, সুস্থ ও রুচিশীল একটা গঠনমূলক মানসিকতা বা বস্তুও সেই একই মানুষের মধ্যেই পাওয়া যায়। প্রাবল্যতায়ই তার প্রকাশ ঘটে মাত্র, মন্দাংশের প্রাবশ্য মন্দে উৎসাহ যোগায়, আনন্দিত করে এবং মন্দ কাজ সম্পাদনে সহযোগিতা করে। পক্ষান্তরে সুস্থাংশ বা ভাল মানসিকতা সুন্দর, পরিচ্ছন্নতা আর কল্যাণের পথ সুগম করে দেয়।
কেউ চায় তার স্বভাবটা হোক সাক্ষাত রামছাগল, কেউ চায় সাপের মত অাঁকা-বাঁকা কুটিল, কেউ চায় কুকুরের মত সবটুকু নিজে খাই-কাউকেই কিছু দেব না আবার কেউ চায় বানরের মত ধূর্ত আর 'দাদু'র আদরের দুলাল হতে। তো সে যা যায়, তা হতে তো পৃথিবীতে কোন বাধা নেই, আর এমনটি তো হতেই পারে, সবগুলো যদি মানুষই হয়ে যাবে, তবে বেচারা ইবলীশের তো আর ত্রিভূবনে কেউ থাকবে না। কিয়ামত পর্যন্ত তো কেঁদে কেটে পৃথিবীতে বন্যা বইয়ে দেবে। অবশ্য বন্যা প্রতিরোধক কমিটির এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত, কি বলেন?
খেয়ে-দেয়ে এসব রামছাগল, কুকুর, সাপ আর বানরের পাল পোষার সময় আমার একদমই নেই; তাই ক'দিন হলো খাওয়ার পরই একটু কাত হই, যাকে বলে কায়লুলা
। আপনাদের পাড়ায় আসবো না আসবো না করেও যখন এসেই গেছি, তখন আমার দু'টো প্রধান লক্ষ্য স্থির করেছি- প্রথমতঃ লিখবো, লেখায় হাত দিয়েছি। দ্বিতীয়তঃ আমার একটা নিজস্ব সংগ্রহ তৈরী করছি। এ জন্য ব্লগ পরিবারের কাছে আমি ঋণী এবং এখনো জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ,ধন্যবাদ, অভিনন্দন। কে আমার লেখা পড়লো আর কে পড়লো না, তা নিয়ে আমার কোন মাথা-ব্যাথা নেই। শুরু থেকেই এই মনোভাব রপ্ত করেছি, তাছাড়া খুঁজে খুঁজে সব পোষ্টে আমিও পারিনা পড়তে ও মন্তব্য করতে, লেখার মধ্যে কতকের তো শিরোনামেই উৎসাহ উধাও, কিছু কিছু অবশ্য ইমেজ পর্যন্ত গড়ায়, দেখা লেখাংশ পর্যন্তও, তাই যেসব হাতের লেখাগুলো আমার ভাল লাগে এবং যদি হয় মানসম্পন্ন, পরন্তু মেজাজ ও মনের কদর্যতা বৃদ্ধি না করে প্রশান্তি ও জ্ঞান বৃদ্ধি করে, আমি শুধু সে হাতগুলোকেই বেঁধে রাখতে সচেষ্ট হই আমার হাতের সাথে। কারণ, বান্দরওয়ালা, সাপুড়ে আর ছাগ-ছাগালীর উস্তাদী করার খোয়াইশ আমার কোন কালেও ছিল না, আজও নেই।
[সবিনয় নিবেদন ঃ এ আমার চঞ্চল মনের এলোমেলো ভাবনা, কোন বিষয় সন্ধান করবেন না যেন, যদি কেউ পড়ে থাকেন।]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



