somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

=ভাবনার নথি-23.05.2006

২৩ শে মে, ২০০৬ রাত ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এ কাল-সে কাল ভেবে ভেবে আজকাল কখন যে ভোর হয়ে যায়, টের পাই না। আমার তো মনে হয় যে, টের পাওয়ার মত তেমন কিছুই ঘটছে না। না হয় কম্পিউটারে কথাবলা ঘড়িটার সেই ছোট্ট খুকিটি তো প্রতি 15 মিনিট পর পরই সময়ের জানান দিয়ে যাচ্ছে। কাজ সেরে আমার বন্ধু বলেন, আর শত্রু বলেন, রুম-মেট আর রাত জাগা সাথী, সবই এই কম্পিটার খানা। বড্ড এলোমেলো আচরণ ইদানিং, এই সাপের খেলা তো, রাম ছাগলের ব্যা ব্যা, কি সব সস্তা প্রচারণা পর্দাজুড়ে। সময়ের নাগাল ধরতে পারছি না, আর সে কিনা হাতে ধরিয়ে দিতে চাচ্ছে ছাগলের লাগাম, কখনো সাপের লেজ, বলে কি না ঃ একটা গুতো মেরেই দেখ না, দেখবি কি মজার খেলা দেখাচ্ছে।

অনেকটা 'কুকুরের লেজে কেরোসিন ঢেলে দেয়া' অবস্থা আর কি। বেচারা কুকুরের তখন আর হুঁশ থাকে না, সে কি দৌড় আর কিছু দূর গিয়েই ঘাসের সাথে প্রাণান্ত ঘষাঘষি, ভরা পেটে তা দেখা প্রায় অসম্ভব, পেটে খিল ধরে রীতিমত আবার ক্ষুধা লাগার মত করে পেট খালি হয়ে যাবে। খাওয়ার পর তাই নেট-উঠোনে খুব একটা ঘুরোঘুরি করতে পারি না। পরিচ্ছন্নতার অভ্যেস কি না, কখন আবার ঘাস মনে করে প্যান্টের পায়ের অংশেই ঘষাঘষি শুরু করে বেচারা। ইস্, খুব মায়া হচ্ছে। এমন কাজটা না করলেই তো পারতো, একটু মজা না হয় অন্য কোথাও থেকেই কিনে আনতে পারতে তোমরা, কি দরকার ছিল তার লেজে কেরোসিন দেয়ার? যত্তসব...।

আসলে সাপ নাচাতে, কুকুরকে দৌড়ানোতে লাগিয়ে দিতে, ছাগলের ব্যা ব্যা শুরু করাতে এমনকি বানরকে গাছে উঠিয়ে তরতাজা ডাব পেড়ে মজা করে খাওয়ার মত একটা মানসিকতা বা বস্তু প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান। আবার সুন্দর, সুস্থ ও রুচিশীল একটা গঠনমূলক মানসিকতা বা বস্তুও সেই একই মানুষের মধ্যেই পাওয়া যায়। প্রাবল্যতায়ই তার প্রকাশ ঘটে মাত্র, মন্দাংশের প্রাবশ্য মন্দে উৎসাহ যোগায়, আনন্দিত করে এবং মন্দ কাজ সম্পাদনে সহযোগিতা করে। পক্ষান্তরে সুস্থাংশ বা ভাল মানসিকতা সুন্দর, পরিচ্ছন্নতা আর কল্যাণের পথ সুগম করে দেয়।

কেউ চায় তার স্বভাবটা হোক সাক্ষাত রামছাগল, কেউ চায় সাপের মত অাঁকা-বাঁকা কুটিল, কেউ চায় কুকুরের মত সবটুকু নিজে খাই-কাউকেই কিছু দেব না আবার কেউ চায় বানরের মত ধূর্ত আর 'দাদু'র আদরের দুলাল হতে। তো সে যা যায়, তা হতে তো পৃথিবীতে কোন বাধা নেই, আর এমনটি তো হতেই পারে, সবগুলো যদি মানুষই হয়ে যাবে, তবে বেচারা ইবলীশের তো আর ত্রিভূবনে কেউ থাকবে না। কিয়ামত পর্যন্ত তো কেঁদে কেটে পৃথিবীতে বন্যা বইয়ে দেবে। অবশ্য বন্যা প্রতিরোধক কমিটির এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত, কি বলেন?

খেয়ে-দেয়ে এসব রামছাগল, কুকুর, সাপ আর বানরের পাল পোষার সময় আমার একদমই নেই; তাই ক'দিন হলো খাওয়ার পরই একটু কাত হই, যাকে বলে কায়লুলা । আপনাদের পাড়ায় আসবো না আসবো না করেও যখন এসেই গেছি, তখন আমার দু'টো প্রধান লক্ষ্য স্থির করেছি- প্রথমতঃ লিখবো, লেখায় হাত দিয়েছি। দ্বিতীয়তঃ আমার একটা নিজস্ব সংগ্রহ তৈরী করছি। এ জন্য ব্লগ পরিবারের কাছে আমি ঋণী এবং এখনো জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ,ধন্যবাদ, অভিনন্দন। কে আমার লেখা পড়লো আর কে পড়লো না, তা নিয়ে আমার কোন মাথা-ব্যাথা নেই। শুরু থেকেই এই মনোভাব রপ্ত করেছি, তাছাড়া খুঁজে খুঁজে সব পোষ্টে আমিও পারিনা পড়তে ও মন্তব্য করতে, লেখার মধ্যে কতকের তো শিরোনামেই উৎসাহ উধাও, কিছু কিছু অবশ্য ইমেজ পর্যন্ত গড়ায়, দেখা লেখাংশ পর্যন্তও, তাই যেসব হাতের লেখাগুলো আমার ভাল লাগে এবং যদি হয় মানসম্পন্ন, পরন্তু মেজাজ ও মনের কদর্যতা বৃদ্ধি না করে প্রশান্তি ও জ্ঞান বৃদ্ধি করে, আমি শুধু সে হাতগুলোকেই বেঁধে রাখতে সচেষ্ট হই আমার হাতের সাথে। কারণ, বান্দরওয়ালা, সাপুড়ে আর ছাগ-ছাগালীর উস্তাদী করার খোয়াইশ আমার কোন কালেও ছিল না, আজও নেই।

[সবিনয় নিবেদন ঃ এ আমার চঞ্চল মনের এলোমেলো ভাবনা, কোন বিষয় সন্ধান করবেন না যেন, যদি কেউ পড়ে থাকেন।]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের প্রতি জেনজি ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৮



বিএনপির জন্য ভোট চাইতে গিয়ে আমার স্ত্রী তাঁর স্বজন জেনজির তোপের মুখে পড়েন। তারা ভাবছে বিএনপি তাদের অপছন্দের আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদেরকে সহায়তা করছে। এবার বয়স্করা বিএনপিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাতের নিশ্চিত ভূমিধ্বস পরাজয়ের কারন

লিখেছেন কিরকুট, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪

*** জামাত শিবিরের পচা মস্তিষ্কের কেউ এই পোষ্টে এসে ল্যাদাবেন না***


রাজনীতির ইতিহাসে কিছু পরাজয় থাকে তা কেবল নির্বাচনী ফলাফলের ভেতর সীমাবদ্ধ নয় সেগুলো হয়ে ওঠে নৈতিক রায়।

জামাতের সাম্প্রতিক নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির যারা আজ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কথা ভাবছেন...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০


১. শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা বারবার বলেছেন, জিয়াউর রহমান নাকি পাকিস্তানের চর ছিলেন, তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। এমনকি তাকে শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলেও বলতেন…
২. খালেদা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধন্যবাদ ড. ইউনূস। আপনিই দেখিয়ে দিলেন।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৯


মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত হাসিনা বিগত ৩টি নির্বাচন এমনভাবে করেছিল যে সেখানে কোন নাগরিককে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হতোনা। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, আগের দিন হয়েছে অথবা তাহাজ্জোত পড়ে হয়েছে। এই আগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজাকারনামা-২ (অপরাধির জন্য আমাদের,মানবতা ! বিচিত্র এই দেশের মানুষ!!)

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৫



সনজীদা খাতুন তখন ইডেন কলেজে কর্মরত ছিলেন । ইডেনের মেয়েরা 'নটীর পূজা' নামে একটা নাটক করেছিলো। সেই নাটকে একেবারে শেষের দিকে একটা গান ছিলো। তিনি ছাত্রীদের সেই গানটা শিখিয়েছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×