মমতার দিনগুলোতেই আমরা দুষ্টোমী করতে ভালবাসি, আজো কোথাও কোন হৃদয়ে যদি মমতা অনুভব করি, তো মন ফুঁড়েই যেন উঠে আসে কিছু ছেলেমী, কিছু দুষ্টোমী।
মনিপুরের 'অজক স্যার' আসতেন প্রতিদিন বিকেলে বিকেলে। একে তো স্কুলের পড়া তার উপর প্রাইভেট টিউটরের পড়া, ভাল্লাগে এত্ত? একটুও নিশ্চিন্ত মনে খেলাধুলা করতে পারি না। সেইসব দিনে ঘুমানোটাকে আমার অপচয় ছাড়া আর কিছু মনে হতো না; ঘুম মানেই খেলাধুলার কত্তগুলো সময় নষ্ট; যত্তসব। অবশ্য রাতে আটটার পর পরই পীরের আস্তানার যিকিরের স্টাইলে মাথা হেলিয়ে-দুলিয়ে ঝিঁমুতে শুরু করতাম; আম্মুকে আর পায় কে তখন, ব্যস পরদিনের জন্য আইন জারি হয়ে গেল। দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার পর ঘুম অনিবার্য। দু'ভাইকে শুইয়ে দিয়ে আম্মু পাখা করতেন যতক্ষণ না ঘুমিয়ে পড়তাম, আম্মু একটু ওদিকে গেলেই মাসুদকে কানে কানে বলতাম, চোখ বন্ধ করে থাকবি কিন্তু, আম্মু গেলেই দেবো ছুট্।
কথা মত দু'জনেই কৃত্রিম ঘুমে তলিয়ে যেতাম আর পাখা বন্ধ হলেই একটুওওও করে চোখের কোণা খুলে দেখে নিতাম আম্মু কি এখনো বসে আছেন শিয়রের পাশে নাকি চলে গেছেন। যেই না নিশ্চিত হতাম, অমনি হুড়মুড় করে দে ছুট্, আর পায় কে, আম্মু তখন দরজায় দাঁড়িয়ে বলতেন রাতে তো ঘরে আসতে হবে, তখন ঝিঁমুনী এলেই বুঝবে মজাটা। ভয় ভয় হতো কিছুটা কিন্তু আম্মুর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেতাম আমাদের কাণ্ড দেখে তিনিও কিছুটা মুচকি মুচকি হাসছেন, তাই পূর্ণ আনন্দ নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়তাম বিকেলের আনন্দ ধারায়।
পঁচিশের কোঠায় এসেও ঘুমকে তেমনি অপচয় জাতীয় কিছুই মনে করতাম, কিন্তু দিনে দিনের পরিপক্কতায় এখন যেন প্রাকৃতিকভাবেই বুঝতে শিখেছি ঘুম দয়াময় আল্লাহ্র কত্ত বড় নেয়ামত আমাদের জীবনে।
লিখেছি ঃ 19.08.2006, মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।
ছবির জন্য [link|http://www.riversofhope.com/ImagesforSale/BoyatChinaSea.jpg|K
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



