গিয়ে তো ছিলাম একান্ত প্রয়োজনে, থাকতে হবে বেশ কিছুদিন জানতাম, ভেবেছিলাম কোথাও ভাড়া নেব ঘর, স্কুল দিনের বন্ধুরা দেখালো লাঠির ভয়, অবশেষে তাদেরই আয়োজনে নিয়োজিত করে দিলাম আপনার কর্মকারণে বিশ্রামিত দিনরাত। দিলে কি হবে, কত বছরের রাত জাগা, বন্ধুদের ডাকা নিশাচর পাখি আমি, অথচ ওরা সকলেই কর্মমুখর জীবনোপলদ্ধিতে উদ্দীপ্ত প্রতিদিন; কি করে মেলাবো? রাতের খাওয়া যখন শেষ হয়, তখন গভীরতায় তাকালে দেখা যায় এক, দেড় কিংবা দু'টো; ঘুমপরী কি কখনো এই মধ্য রাতে এসেছিল আমার অভিসারে? নোকিয়া-১১০০ মোবাইলের স্বল্প অথচ দেখার মত যথেষ্ট আলোতে দেখে নেই 'মুসলিম মনীষা', হুমায়নের 'হেঁয়ালী' অথবা রবি বাবুর '', দু'খানা মোসাল্লা (যদিও শুধু বসার সুবিধার্থে) পকেটের কলম আর বন্ধুর হিসাবের খাতা, কখনো 'হাশর' গ্রামের 'বড় বাড়ী' মিযী বাড়ী'তে যাওয়ার জন্য অপেক্ষিত লেটারপ্যাড ছেঁড়া, কখনো লিফলেটের উল্টো পিঠের সাদা ধবধবে কবিতার পট। তারপর কবিতার সেই 'ছিটকিনীটা আস্তে খুলে পেরিয়ে যেতাম ঘর'-এর মতই মধ্যোপারের নিঝুম রাত্রির দুয়ার খুলেই যেন বেরিয়ে পড়তাম আকাশ আর প্রকৃতির অসীম প্রান্তরে।
দিনের ক্লান্তি মুছে মনকে কিছু অতীত স্মৃতি মনে করিয়ে দিতেই হয়তো ওদের কেউ কেউ বসতো এসে খোলা আকাশের নীচের সেখানটায়। আমাকে পর পর কয়েক রাত দেখার পর এবং দু'এক কথা বলার পর অপরিচিতদেরই কয়েকজন চারখানা আরবী ইট আর এক খণ্ড তক্তা বিছিয়ে বানিয়ে দিল মঞ্চ, যেখানে ওদের আলাপচারিতা চলতো আমি আসার আগ পর্যন্ত। এসে পড়লেই জানা-অজানাকে ধারণ করে অন্যরা চলে যেত নিদ্রারূপ বিশ্রামে আর আমি ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে থাকতাম আমার একান্ত সাম্রাজ্যে; যেখানে বিচরণে আমার কোন ভয়-দ্বিধা-সংকোচ নেই। যেখানে আকাশ থাকতো নুয়ে, যেমন কবিতার ছন্দ আমায় ঘিরে, চাঁদ-তারারা কত কথাই না শোনাত অন্তরে বাহিরে, আর থাকতো শাহানার প্রিয় বিড়ালগুলোর মত ওরাও ক'জন; আমি ক্রমেই ভুলতে শুরু করতাম আধুনিক সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের হাইওয়ের ল্যাম্পপোষ্ট, নিয়ন বাতি আর গতিবান ইঞ্জিনের শব্দ-ছন্দ পতনকে। কি জানি হয়তো নিজেকেও...।
১৬.০১.২০০৭, মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।
ছবিঃ !@@!404684 !@@!404685।
((ছবিটা লিংকে এখনো আপলোড করতে পারিনি বলে দুঃখিত, শীঘ্রই হবে।))
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







