somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

= দিব্য যেন দু'চোখ জুড়ে

০৫ ই মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৫:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় প্রজন্ম,
ঈর্ষণীয় দিন কি চলে গেছে, না কি চলছে কিংবা আগামীতে অপেক্ষা করছে; কিছুই নির্দিষ্ট করতে পারছি না। জীবনের ধুম্রোজালে ঠিক মত কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। আগে তো খোলা চোখেই পৃথিবীকে দেখতে পেতাম; ছোট বেলায় অবশ্য অনেক কাছের গাছালী কিংবা প্রান্তরশেষের গ্রামকে দূরের মনে হত, ছোট চোখ বলেই হয়ত, তারপর বড় হওয়ার সাথে সাথে যেন দৃষ্টির আয়তনও বাড়তে লাগলো। অথচ এখন দেখতে হয় স্বল্প পাওয়ারী হলেও একটি গ্লাসের আড়াল হতে; যেন অনেকটা উঁকি মেরে। হবেই বা না কেন, একদার আগ্রহ, আকর্ষণ অথবা নিতান্তই অজানাকে জানার প্রেরণায় যে কম্পিউটারকে মন থেকে চেয়েছিলাম, কে জানতো যে সে এখন দিনের চব্বিশ ঘন্টার প্রায় পনর/ষোল ঘন্টাই গলায় ঝুলে থাকবে? কখনো তো তারো বেশী, অবশ্য ছুটির দিনগুলোতে কিছুটা নিষকৃতি মেলে। প্রজন্ম, তোদের জীবনকেও কি প্রযুক্তি এমনি দায়বদ্ধতায় নিমজ্জিত করেছে?

আমার কি মনে হয় জানিস্, স্রষ্টা যেন দৃষ্টির লেন্স বিভাজনের সময় অজস্রতা এনেছেন আর সেখান থেকে আমায় দিয়েছেন আড়ালগুলো দেখার ভাগটি; অনেকেই পেয়েছেন তেমনটি হয়ত, কিন্তু আমার দারুন পছন্দ হয়েছে এমন ধারার লেন্স; তাইতো প্রতিটি দৃষ্টিময় ভাবনাতেই আমি সপ্রশংস আন্তরিক সিজ্দা করি তাঁর সমুন্নত সকাশে। অবশ্য এমন দিব্যতেও জ্ঞানের বাইরে তেমন কিছুই দেখতে পাইনা। বুঝতে শেখার দিনগুলোতেই দারিদ্রতা আর কিছুটা দুঃখ আমাদের জড়িয়ে নিল বুকে। সচ্চলতা আর সুখের সাথে আমাদের কি আড়ি ছিল; তা আমার জানা ছিল না। জীবনের যে অংশটাকে যখনি বুঝতে শিখতাম, পৃথিবীময় যেন তারই স্বরূপ খুঁজতে শুরু করতাম, কি জানি এটাই হয়ত আমাদের মৌলিক স্বভাবের একটি, নয়ত টিপু, অপু, সুলতানা, সোহাগ ওদেরেই কেন খেলার জন্য বেছে নিলাম; অথচ বড়দের অনেকেই কত্ত আদর করত তাদের কোলে যাওয়ার জন্য।

ভুবনময় যেন খুঁজে বেড়াতাম ব্যাথার দোসর, হয়ত এ কারণেই যে, যদি জানতে পারতাম এ শুধু আমার একারই নয়; এ পথের ক্লান্ত পথিকের দল অনেক বড়, তবেই যেন ক্লান্তি মুছে যাবে, শক্তি ফিরে আসবে; যমীনকে শক্ত ভিত্তি করে আকাশের নীচে আমি দাঁড়াতে পারবো মাথা উঁচু করে। দৃষ্টির দিব্যতায় আমি স্থির তাকাতাম (এখনো তাকাই) রিকশা ওয়ালার প্রতি, হাত-পা হীন ভিক্ষুকের প্রতি, সন্তানকে একটি বিস্কিট কিনে দিতে পারায় তৃপ্ত বাবার প্রতি, একজন বিধবার প্রতি, একটি ইয়াতীমের প্রতি, সম্পদের প্রাচুর্যে এবং অকাজের প্রাবল্যে নূয়ে পড়া কারো প্রতি, সাম্যবাদের অন্ধত্বে নিমজ্জিত ক'জনের প্রতি, যুলুমের শিকার এক সস্প্রদায়ের প্রতি, যালেমের বিরুদ্ধে একদল মুজাহিদের প্রতি, আল্লাহর ভালবাসায় পৃথিবীর প্রতি নির্মোহ একজনের প্রতি; আমি হারিয়ে যেতাম, কখনো বেদনায়, কখনো ঈর্ষায়, কখনো চেতনায়।

তারপর আমি জানলাম প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাঃ তিনি দৃষ্টিকে নীচের দিকে রাখতে বলেছেন; ঊর্ধ্বে নয়, তবেই সম্ভব অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা থেকে নিস্কৃতি পাওয়া। অমানিশার অন্ধকার রাত্রিতে উদ্ভ্রান্ত পাঞ্জেরীর সরণদ্বীপের সন্ধান লাভের মতই জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গেল আমার। না চাইতে যা পেয়েছি আর পেয়ে যাচ্ছি তা নিয়েই রীতিমত লজ্জিত, প্রশংসাকারী, অবনত; কি লাভ বলো অন্যের গাছের টসটসে পাকা আম দেখে দেখে নিজের জিভের জল অব্ধলী দেয়ায়?
প্রজন্ম, তুই ভাল আছিস্ রে? থাকিস্ অন্ততঃ, আমার জন্য।

তোরই-
"ফএমু"

৫-৬.০৩.২০০৭, মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।

ছবির জন্য !@@!544825 যেখানে।

!@@!544827 !@@!544828 !@@!544829 !@@!544830

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৪:৫২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×