somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন বছরের প্রথম দিন কেমন গেল আমাদের

০২ রা জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বছর, দিন, মাস এসবের হিসাব নিকাশ করিনা আমি খুব একটা। কি লাভ এসব করে। চলছে সময় তার গতিতে, চলুক। সময়ের সাথে আমাকেও চলতে হয়, তাই চলা। ৩১শে ডিসেম্বর রাতে আমার বাসায় পারিবারিক বারবিকিউ পার্টি করেছিলাম। তারপর সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করেছি, ফায়ার ওয়ার্ক দেখেছি। আমার বাসার সামনেই অনেক হোটেল, বার। তারা ১২টার পর পর ফায়ার ওয়ার্ক শুরু করেছিল।

নতুন বছরের শুরুর দিন আমাদের দাওয়াত ছিল সকাল ১০টাই। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেছি আমরা ১১টাই। উঠেই দেখি আমাদের ড্রাইভার ম্যাসেজ দিয়ে রেখেছে সে আসতে পারবেনা, তার শরীর খারাপ। মন খারাপ হয়ে গেল দাওয়াতে যেতে পারব না ভেবে। দাওয়াত খাওয়া বড় কথা না, আমি কারো বাড়ি গেলে তাদের লাইফ স্টাইল দেখি, বাড়ি দেখি, খাবার দেখি, ভিন্ন কালচার দেখি। এসব দেখাতেই আমার আনন্দ।আর এই দাওয়াত হচ্ছে আমার বরের অফিসের হেড অফ ফিন্যান্স এর দুই জমজ বাচ্চা হয়েছে তার বাচ্চাদের নামকরণের উপলক্ষে।আমরা যেখানে থাকি তারা নাকি এই স্ট্যেট এর শ্রেষ্ঠ ধনীদের একজন। তাই আমার আগ্রহ একটু বেশিই ছিল, কেমন করে তারা এই অনুষ্ঠান করে তা দেখার, কেমন তাদের বাড়ি তা দেখার।

আমার বর বলল তুমি কি যেতে চাও? আমি বললাম অবশ্যই চাই।তখন আমার বর এক পুলিশ কমিশনারকে ফোনে বলল সে যাওয়ার সময় যেন আমাদের নিয়ে যায়। সে লোক ২০ মিনিটের মধ্যেই চলে এল। আমরাও তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে তাদের সাথেই রওনা দিলাম। একেতো ক্রিস্টমাস সিজন আবার নিউ ইয়ার, তাই জায়গা জায়গাতেই পুলিশ গাড়ি আটকায় বকশিস দেওয়ার জন্য। কিন্তু সাথে পুলিশ কমিশনার থাকাতে এক পয়সাও কোথাও দিতে হয়নি।

অবশেষে গেলাম সেই বাড়িতে যেখানে দাওয়াত। গেইটের সামনেই বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকজন। তারপর পরিচয় জেনে বাড়ির ভেতর যেতে দিল। গেটের ভিতর ঢুকে তো মাথা খারাপ, আরে বাবা এ কোথায় এলাম? সুন্দর সুন্দর বাড়ী অনেক দেখিছি কিন্তু এতো দেখি অন্য আরেক দুনিয়া। গেইটের ভেতর ঢুকার পর বিভিন্ন দিকে রাস্তা চলে গেছে বাড়ি দিকে, আমরা কোন রাস্তা দিয়ে যাব তাই বুঝতে পারছিনা। এক ফটোগ্রাফার দেখি ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যারা বাড়িতে যাচ্ছে তাদের ছবি তুলছে, হয়ত নিরাপত্তার জন্য। সে আমাদের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দিল। তার দেখানো রাস্তা দিয়ে আমরা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলাম। সেখান থেকে দেখি বিভিন্ন দিকে সিঁড়ি, কোন সিড়ি দিয়ে আমরা উঠব তাও বুঝতে পারছিলাম না। তারপর আমার বর সেই লোককে ফোন দিল। তিন চারজন লোক এসে আমাদের ভেতরে নিয়ে গেল।





গেইটের ভেতর এসে এই পথ দিয়ে বাড়িতে ঢুকতে হয়। একপাশে পায়ে হাঁটার আরেকপাশে গাড়ি ঢুকার রাস্তা।




মূল বাড়ি পার হয়ে একটু দূরে এই বাড়ি। এটার নিচের তলায় বয়েজ কটেজ আর উপরে তারা বিভিন্ন পার্টি করে।




তাদের বাড়ির কম্পাউন্ড থেকে দূরের বাড়িঘর দেখা যায়।

আমরা অনেক দেরিতে গিয়েছিলাম। তার আগেই তাদের মূল অনুষ্ঠান শেষ। সবার সাথে পরিচিত হলাম, শুভেচ্ছা বিনিময় করে খাবার খেয়ে বাচ্চাদের দেখে কোলে নিলাম। সময়ের অভাবে গিফট কিনতে পারিনি তাই খামে করে কিছু টাকা নিয়ে গিয়েছিলাম, তাই দিলাম। মনে মনে বাড়ি দেখার জন্য তাড়া অনুভব করছিলাম। এত বড় বাড়ি, একা একা দেখতে গেলে আমি নিশ্চিত হারিয়ে যাব। তাই আমার বরকে বললাম কাউকে বল যে আমরা তাদের বাড়ি দেখতে চাই। আমার বর বলার পর দুইজন লোক আমাদের নিয়ে নিচে নামল বাড়ি দেখাতে। বাড়ির ভেতরে দেখার আমার আগ্রহ নাই, আমি শুধু তাদের বাইরের কম্পাউন্ড দেখতে চাই। তাই নিচে নেমে যেদিকেই তাকাই আর অবাক হই। ছবি তোলার চাইতে চোখে দেখাই যেন বেশি আনন্দের। কারো ব্যক্তিগত বাড়ি এতবড় হতে পারে আমার ধারনা ছিলনা।

আমি এদিক ওদিক ঘুরে দেখছি আর হঠাত দেখি আমার সাথে কেউ নেই। আমি একা। ভয় পেয়ে গেলাম, কোনদিকে যাব, কি করব বুঝতে পারছিনা। বুঝলাম সত্যি সত্যি হারিয়ে গেছি। বাড়ির কম্পাউন্ডে বিভিন্ন দিকে অনেক রাস্তা, অনেক গেইট। আমি এদিক ওদিক হাঁটতে লাগলাম। পরে একটা গেট দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি আমার লোকজন অনেক দূরে দাঁড়িয়ে কি যেন দেখছে, দৌড়ে তাদের কাছে গেলাম। অন্য একজন তাদের বাড়ির বিভিন্ন দিক দেখাচ্ছে।

বছরের প্রথমদিনেই পথ হারিয়ে মন খারাপ হয়ে গেল। তারপর এদিক ওদিক দেখে বাসায় ফিরে এলাম। রাতে বাইরে খাওয়ার পরিকল্পনা ছিল আগেই কিন্তু ড্রাইভার আসেনি বলে সেই পরিকল্পনা বাদ দিতে হল। সব মিলে বছরের প্রথমদিন এভাবেই গেল।



বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা। উপরে এসে আবার কয়েকভাগ হয়ে গেছে। কোনটা সরাসরি ঘর থেকে বের হওয়ার আবার কোনটা নিচের থেকে উপরে যাওয়ার।



সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। সবার ভাল কাটুক নতুন বছর।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬
৩৭টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

×