বাংলা ভাষার একটা পরিপূর্ণ শব্দ কোষ রয়েছে। তার ভিতর যে শুধু বাংলা শব্দ রয়েছে তা নয়। স্বাধীনতার আগে অনেক দেশের শাসনামলে দেশের সম্পদ লুট হলেও তাদের ভাষার অনেক শব্দই থেকে গেছে বাংলা ভাষায়। বাংলা ভাষার আগে আর কোন ভাষা রক্ষার দাবিতে কেউ মারা গেছে এরকম নজির বিশ্বব্যাপী আর নেই। ভাবলেই আনন্দ বোধ হয়।
একটা দেশের উন্নতি,সমৃদ্ধি,ইতিহাস,সংস্কৃতি,সমাজ ব্যাবস্থা সহ সামগ্রিক সকল বিষয় নির্ভর করে সে দেশের শিক্ষার উপর। কারণ আমরা তো ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছি Education is the backbone of a nation. একটু সচেতনভাবে অনুভব করলে শিক্ষা,সুশিক্ষা,কুশিক্ষা আর অশিক্ষার ফলাফল আমরা দেখতে পাব। আগেরকালের লোকজন কখনো ভাবেননি যে কেউ একজন শিক্ষাকে মোট চার ভাগে ভাগ করবে। আমি নিশ্চিত। কারণ শিক্ষা নিজেই সু। তাকে বিশেষায়িত করার জন্য আবার অতিরিক্ত সু এর দরকার পড়ে না। কিন্তু আজ আমি বাধ্য।
জাতির মেরুদণ্ড যেমন শিক্ষা তেমনি ভাষা হচ্ছে শিক্ষার মূল বাহক। ভাষা ছাড়া শিক্ষা কল্পনা করাও অকল্পনীয়। আমাদের ভাষা বাংলা বলেই আমরা বাঙালী নাকি আমরা বাঙালী বলেই আমাদের ভাষা বাংলা এইটা ভেবে পাচ্ছি না। আগে বাংলা ভাষা তারপর বাঙালী জাতি হয়েছে বলে মেনে নিচ্ছি। আমাদের ভাষাটা খুব শীতল আর নম্র ভাষা বলেই আমার খেয়াল।
যে চিন্তাটা আমাকে ২০১১ সাল থেকে ভাবাচ্ছে তা হল-আমাদের এই নম্র ভাষায় কুরুচিপূর্ণ,অশ্রবণীয় আর অমার্জিত গালি গুলো কে যোগ করল??? বাংলা ভাষার যে অভিধান রয়েছে তা খুঁজে আমাকে কি কেউ দেখাবেন??? যে ভাষার জন্যে আজ আমরা বাঙালী সেই ভাষায় এত অভদ্র উচ্চারণ করে যারা ভাষাকে অপমান করে তাদের কথা কি সালাম,রফিক,জব্বারেরা জানত? জানলে ওঁরা জীবন বিসর্জন দিত না। মায়েরা নিশ্চয়ই ছোটবেলায় এই বাজে ভাষা শেখায়নি। নিশ্চয়ই রুক্ষভাবে বলেনি,ঐ .........এর বাচ্চা,কাঁদছিস কেন? খিদে? আয় ......... র পোলা,খাইয়ে দিই। বরং পৃথিবীর সব আদর নিয়ে বলেছে,ওরে আমার ময়না রে,খিদে লেগেছে? ওরে আমার সোনা রে, ওরে আমার পাখি রে, আমি রান্না করছিলাম বাবার জন্যে তাই একটু দেরি হল,পাখি। এই নাও সোনা,খাও। পৃথিবীর সব মায়েরাই অতুলনীয়া আদরের প্রতীক। সবচেয়ে খারাপ পেশাজীবীনি মায়েরা ও তার সন্তান কে ভালভাবে লালন করে আর তারা সব কিছু চাইলেও সন্তানের খারাপ চায় না।
যখন এই বাচ্চাগুলো বড় হয় তখনি এইসব এলোমেলো আর প্রচণ্ড যুক্তিহীন গালি গুলো শিখে ফেলে এবং কারণে অকারণে তার অযথা ব্যবহার করে। আমি এমনও মানুষ(!) দেখেছি যে কিনা তার বন্ধুদের ডাকতে গেলে ও নানারকম গালি দেয়। উদাহরণঃ ঐ,বোকা.........,বাড়ি থেকে কখন আসবি?
-আরে ......না,কাল-পরশু আসতে পারি।
আপনারা খেয়াল করে দেখেন। ভুরি ভুরি উদাহরণ পাবেন। মাঝে মাঝে এলাকার পিচ্চি ছেলে গুলোর কথাবার্তা শুনলে আমি নির্বাক হয়ে যাই। একটা বাক্য বলতে দশটা শব্দ লাগলে তার ছয়টা থাকে গালি। দেদারসে এক বন্ধু অন্য বন্ধুর মা,বাপ,ভাইবোন এমনকি বউকে(নাবালকেরাও) পর্যন্ত নানারকম গালি দেয়। আর অপর বন্ধু নির্বিকার ভাবে গালি ফেরত দেয়। গালি নামে কোন বিষয়ে চার বছরের কোর্স থাকলে নিশ্চিত ওরা সর্বোচ্চ রেজাল্ট করত। বড়ই অদ্ভুত।
খেলাধুলা হলে বিপক্ষ দলের প্লেয়ারকে উত্যক্ত করার ভাষা শুনলে পেটের ভিতর মুচড়ে ওঠে। আশ্চর্যের বিষয় হয় তখনি যখন দেশের মেধাবী কোন ছেলে সেই পেট মোচড়ের কারণ হয়। আজকাল মেয়েরা পিছিয়ে নেই। সমান্তরালে এগোচ্ছে। আমার ধারণা ওদের মা বাবা বাচ্চার মুখে ঐ গালি শুনলে সাথে সাথে তেজ্য করে দেবে। তারা শুধু গালি দিয়েই বসে থাকে না। জুনিয়র ছেলে দের ডেকে তাদের শেখায়। কেউ অনিচ্ছা প্রকাশ করলে যে পরিস্থিতি নেমে আসে তা অকল্পনীয়। অনিচ্ছাপোষণকারীদের পৃষ্ঠা ভর্তি গালি লিখে আনার অ্যাসাইনমেনট দেওয়া হয়।
আমার মনে হয় ওদের ভাষা নয়, ওদের জীবনই গালি। আমি অবাক হয়ে ভাবি গালি ছাড়া আমার জীবন কিভাবে চলছে।
শিক্ষাকে চার ভাগে কারণ ছাড়া ভাগ করিনি হে আমার পূর্ববর্তীগণেরা।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



