সিনেমাটিতে দিল্লির সম্রাট আলাউদ্দিন খিলজির চরিত্র, ইতিহাস ও অবদান বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভারতের অগ্রণী ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার, ইরফান হাবিব, রুচিরা শর্মা প্রমুখ । ইতিহাসবিদ রুচিরা শর্মার দাবি, আলাউদ্দিন খিলজি ভিলেন তো নয়ই, বরং তাঁর কাছে ভারত ঋণী । তিনি ভারতের ঐক্য আনেন, পাঁচবার মোঙ্গল আক্রমন ঠেকিয়ে ভারতকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচায় । মোঙ্গলদের দখলে গেলে ভারতের পরিণতি হতো পারস্যের সতো : গণহত্যা ও নগর ধ্বংস ।
আলাউদ্দিন দিল্লি কেন্দ্রিক ছোট একটি রাজ্য থেকে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্টা করেন । সেই ঐক্যবদ্ধ ভারতই মোগলদের হাত হয়ে ব্রিটিশ ও তারপর স্বাধীন ভারত হিসেবে টিকে আছে । খিলজি নিষ্ঠুর হতে পারেন, তাঁর রাজ স্পৃহা থাকলেও তাঁর নারী স্পৃহার কথা শোনা যায় না । খিলজির বাহিনীতে বেশ কজন দাস জেনারেল ছিলেন । তার প্রশাসনে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিম্ন শ্রেণির মানুষদের উঠিয়ে আনা হতো । এতে হিন্দু-মুসলিম অভিজাতেরা নাখোশ হয় ।
তাঁর চালু কর ব্যবস্থা বিশ শতক পর্যন্ত চালু ছিল । এই সংস্কারে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের উচ্ছেদের ঘটনাটা রাজপুতদের খেপিয়ে তোলে । গঙ্গা-যমুনা মধ্যবর্তী দোয়াব অঞ্চলের অনেক সুফির করমুক্ত জমির অধিকারও তিনি বাতিল করেন ।সেই সুফিদেরই অনুসারী হিসেবে খিলজির উপর চটা ছিলেন পদ্মাবত-এর কবি জয়সী । আড়াইশ বছর পর পদ্মাবত কাব্যে তিনি খিলজিকে পদ্মাবত-এর প্রতি লোলুপু হিসেবে দেখান । কিন্তু খিলজির চিতোর অভিযানের সময় পদ্মাবতী বলে তো কোন রাজপুত রানি ছিলেন না ।
মেবার রাজ্যের দরবারি ইতিহাসবিদ শ্যামল দাস একবার পদ্মাবতীর কথা এনেছিলেন, তবে সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গে । আলা্উদ্দিন খিলজির সঙ্গে পদ্মাবতীর কোন দিনই দেখাই হয়নি । এমন কি কবির লেখা কাহিনীন বাইরে গিয়ে খিলজির হাত থেকে বাঁচতে পদ্মাবতীকে স্বামীর চিতোই তুলছেন বলিউডি পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালী । মূল কাহিনীত পদ্মাবতী খিলজির ভয়ে নয়, প্রথা অনুযায়ী স্বামীর চিতোই সতীদাহ হন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৮ দুপুর ১:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




