হোষ্টেল লাইফে চুরি করার কোন পরিকল্পনা করিনি। অনেক কড়াকড়ি আইন ছিল। এস.এস.সি পাশ করে যখন সিলেট এম.সি কলেজে ভর্তি হলাম, ব্যস, বিরাট ক্যাম্পাস। সিট পেলাম 5ম ব্ললকে। যেটি ছিল পুরো কলেজের হোস্টেলের মধ্যে সবচে পেছনের সারির। সব নেতারা এই ব্ললকে থাকতেন। প্রতি বছর পিকনিক হতো, কিন্তু এমন কোন পিকনিক ছিল না যেখানে এই ব্ললকের ছাত্ররা মারামারি করেনি। আমাদের কয়েক বন্ধুর অনেক চেষ্টায় এইচ,এস.সি এর শেষ বর্ষে সব বলকের স্টুডেন্ট একসাথে পিকনিকে গেলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিকই মারামারি হলো।
হোসটেলের সব বলকের নিজস্ব সিমানা আছে। সবারই কিছু ফসলের গাছ আছে। আমাদের বলকে ছিল আম, কাঠাল, বরই। অন্যান্য বলকে কিছু নিয়ম ছিল। হোস্টেল সুপার আম, কাঠালগুলো হোস্টেলের ছাত্রদের মধ্যে সমানভাবে বিতরন করে দিতেন। আমাদের তো কে কার কথা মানে। বড় ভাইয়েরা সবাই অনার্সেপড়ে। সবাই বেশ আদর করত। মা-বাবা বাইরে ছিল। টাকা ভালই ছিল। ব্যস বেশ বন্ধু হয়ে গেল। তো অন্যান্য বলকের আম কাঠালগুলো দেখে আমাদের তো মাথা খারাপ। পুর্বে থেকে চুরির কিছু অভিক্ষতা ছিল। একদিন রাত দু'টোয় অভিযান হিন্দু ছাত্রাবাসে। অনেক আম কাঠাল চুরি করা হলো। অবশ্য বড় ভাইয়েরা ও সাথে ছিল।
একবার আমাদের বলকের সিনিয়র ভাইদের সাথে কলেজের প্রিনিসপালের সাথে সমস্যা হলো। হোস্টেলের সবাই সন্ধ্যার পর মিছিল করে প্রিনিসপালের বাংলোয় সমযোতার জন্য যাই। প্রিনিসপালের বাসা ছিল টিলার উপর (সিলেট)। একদিকে মিটিং চলতাছে অন্যদিকে প্রিনিসপালের যতো ফুলের টব আছে সব হোস্টেলে চলে আসে। অনেক দামি দামি ক্যাকটাস ও ছিল।
কলেজে আরও কতো যে চুরি করেছি!!
কলেজ জীবনটা ছিল সবচে মজার।আড্ডা.....
আমাদের সুখের দিন দুই বছরেই শেষ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



