ছোটবেলায় যখন পরীক্ষায় ভালভাবে পাশ করতাম, সবাই শুধু উইশ করত।অথচ আমার অনেক বন্ধুদেরকে দেখতাম পরীক্ষায় মোটামোটি পাশ করে ও অনেকগুলো গিফট পেয়েছে। আমরা অনেকগুলো ভাইবোন একসাথে ছিলাম আর পারিবারিকভাবে সবাই শিক্ষিত, তাই পরীক্ষায় ভাল করলে এইটা নরমাল আর খারাপ হলেই সমস্যা।
বাড়ি সিলেট, তাই ছোটবেলা থেকে দেখতাম অনেকেই লন্ডনে এসে খুব ভাল লাইফ লিড করতেছে। ভাবতাম সব সুখ মনে হয় লন্ডনেই। নিজের পরিবারের যখন সবাই (আমি ছাড়া) জার্মানি চলে আসল, তখন তো আমি রাজা!!
একসময় নিজে ও চলে এলাম। পড়ার চাপ আর ভাষার জন্য বেশ সমস্যায় পড়লাম। পড়াশোনা যে এতো কঠিন, এই প্রথম বোঝলাম। এখানে পড়াশোনায় পে করতে হয় না, কিন্তু এডমিশন খুব কঠিন। আর পরীক্ষাগুলো মনে হয় এক একটা অঙ্গি পরীক্ষা। সবচে বেশী ভয় হতো যদি পরীক্ষা অপেন বোক হয়। তাহলে ঘুম উদাও। কোথা থেকে যে প্রশ্ন হবে, প্রফেসর নিজে ও মনে হয় জানে না। প্রায় 10/12 বছর পর নিজের মা-বাবার কাছে এসে ও ইউনিভার্সিটি হোস্টেলে থাকতে হতো। অবশ্য রান্না করার পূর্ব অভিক্ষতা ছিল।এক বছর পর ভাবলাম সুখ মনে হয় জার্মানি তে নয় ইংল্যান্ড হবে। ব্যস সবার মত উপেক্ষা করে যাত্রা শুরূ ইংল্যান্ড। বেশ কিছুদিন ঘোরা হলো, কিন্তু কোথাও ভাল লাগে না। মোটামোটি ইংল্যান্ডের সব জায়গায় ঘুরা হলো। লাইফটা বেশ কঠিন মনে হলো, টাকা ভালই ইনকাম করার রাস্তা আছে, কিন্তু লাইফ নাই। কোন রূলস, রেগুলেশন নাই। একমাত্র লন্ডন ছাড়া অন্য কোথাও আন্ডারগ্রাউন্ড, ট্রাম নেই। বাসের কোন সময়ঙ্গান নেই। জার্মানির সাথে তুলনা করে মনে হলো আমি যেন আবার দেশে চলে এলাম। প্রায় বছর খানিক থাকার পর আবার সুখের খুজে জার্মানি বেক। এইবার ভাবলাম যে করেই হোক মাষ্টার্স শেষ করতে হবে। নতুন একটি ভার্সিটিতে এডমিশন নিলাম। ভার্সিটি বাসার কাছেই ছিল,তারপর ও নিজে ফ্লাট নিলাম। সারাজীবন হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে এখন আর বাসায় পড়া যায় না। বাসার কেই কিছু বলে নাই। সরকার থেকে আমাকে থাকা খাওয়ার টাকা দেওয়া হতো। এদিকে মা শুধু কান্নাকাটি করে আমি বাসায় চলে যাবার জন্য।
প্রতিদিন ক্লাস করে এসে রান্না করতে মেজাজটা খারাপ হয়ে যেতো। তাই শুধু চিপস অথবা সালাদ খেয়ে শুয়ে পড়তাম।মা আবার সবসময় কি খেয়েছি জিঙ্গেস করতো। কতো আর মিথ্যা বলা যায়, একদিন বললাম, তুমি খাবার ব্যাপারে কোন প্রশ্ন করতে পারবে না।
শেষ পর্যন্ত সবার যুক্তির কাছে হেরে বাসায় সহানান্তর । এখন আর রান্না করতে হয় না, বাজার করতে হয় না। শুধু কাজে যাওয়া, বাসায় ফিরে খাওয়া.....।তারপরও মনে হয় সুখে নেই। এখন মনে হচ্ছে সুখটা মনে হয় দেশে।দেশে চলে যাবার কথা এখনও উচ্চারন করিনি, তাহলে বেশ বড় একটা ঝামেলা হয়ে যাবে।
মাঝে মাঝে মনে হয় বেশ সুখেই আছি। তাই আরও সুখ খোজতেছি। আবার মনে হয় মানুষ বলেই আমার সুখ েখাজা। দেখা যাক কোথায় শেষ হয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



