somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোমেন্টস

৩১ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ সেই বিশেষ দিন।
তোমার সাথে আবার ও আমার দেখা হবে...

সব কিছু শুরু হয়েছিলো যখন তুমি ছিলে মোবাইলে বিপ বিপ করে জ্বলতে থাকা একটি সবুজ
বাতি।
শুধুমাত্র একটি আওয়াজ!!

ডিজুসের দু টাকায় সারারাত কথা যে হাজারো অদেখা প্রেমের জন্ম দিয়েছিল
তার মধ্যে আমরাও ছিলাম।

তবে আমাদের প্রেমটা অদেখা থাকে নি...
কলেজ ফাকি দিয়ে একশ আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আড়াই ঘন্টা পর যখন কুমিল্লা পৌছালাম তখন তুমি বিশ্বাস করতে পারছিলে না ঢাকা থেকে একটা ছেলে তোমার সাথে দেখা করতে চলে এলো!!

এরপর আরও তিন ঘন্টা অপেক্ষার পর তুমি এসেছিলে মাত্র পাচ মিনিটের জন্য!!
কিন্তু ওই পাচ মিনিটই যথেস্ট ছিল আমার বাকিটা জীবনটা তোমার সাথে যুক্ত করতে...

আমরা বড় হলাম।
সাথে সাথে আমাদের প্রেমটাও...
তুমি ঢাকায় আসলে...
আর আমরা কাটাতে শুরু করলাম আমাদের জীবনের সবচাইতে সুন্দর সময়টুকু...

তখন বলতে গেলে প্রায়ই প্রতিদিন দেখা হত।
আর এখন চাইলেও দেখা করা যায় না!!

আমরা রিকসায় প্রচুর ঘুরেছি...
তুমি বলতে আমি রিক্সার ডান পাশে বসলে তোমার জন্য আমার কাধে মাথা রাখতে সুবিধা হয়।

রিকশার চাকা ঘুরত।
আর তুমি চোখ বন্ধ করে আমার কাধে মাথা রাখতে আর আমার নিজেকে দুনিয়ার সব চাইতে সুখি মানুষ মনে হত।

কতই না ভালবাসতে তুমি আমাকে!!
আচ্ছা,তুমি এখন যার সাথে আছ তাকেও কি তুমি একই রকম ভালবাস?

ভালবাসতাম আমিও তোমাকে।
মনে আছে,একবার প্রচন্ড গরমে তুমি হিট স্ট্রোক করলা...
তোমাকে অজ্ঞান দেখে আমার যে কি অবস্থা হয়েছিল?

তুমি অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে সেরে উঠলেও আমাকে ঠিক করতে তোমার অনেক সময় লেগেছিল...

উত্তরা থানা কি কখনো ভুলতে পারব আমরা?
অই থানার সামনে তুমি আমাকে প্রথম বারের মত কিস করেছিলা...
তোমার সাহসও ছিল বটে!!

ভীতু তো ছিলাম আমি...
তাই সময় থাকতে তোমাকে পেতে পারি নি...

মনে আছে,
কুলার রোডের আইল্যান্ডের উপর কুয়াশার চাদর আলাদা করেছিল তোমাকে আর আমাকে।
তখন আমাদের শরীর যতটা কাছে ছিল; মন ছিল তার চেয়েও কাছে।

এখন সবকিছুই দুরে।
বহুদুরে...

অন্যদের মত আমাদের মাঝেও ঝগড়া হত।
তবে শেষের দিকে ঝগড়াটা একটু বেড়েই গিয়েছিল।
তুমি বিয়ের কথা বলতে আর আমি ভাবতাম ক্যারিয়ারের কথা।

বলতাম,বিয়ের জন্য তো বাকি জীবন পড়েই আছে...
তোমার কথা,বিয়ের জন্য তোমার পরিবারের চাপের কথা আমি ভাবতাম না।

অনেক সেলফিস হয়ে গেছিলাম।
অনেক বেশী!!

শেষ যে দিন তোমার সাথে আমার কথা হল , সে দিন আমার জ্যাকেটটা বুকে জড়িয়ে ধরে প্রচুর কেদেছিলে তুমি।
কিন্তু জানতো আমি না কিছুই করতে পারছিলাম না।

এরপর পাচটি বছর কেটে গেল।
আজ তোমার সাথে আমার আবারো দেখা হবে।
অবাক হই এটা ভেবে যে তোমার জামাই এখনো কিভাবে তোমাকে তোমার এক্স-বিয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে দেয়!!?
আমি হলে কিন্তু জীবনে দিতাম না।

ওই যে তুমি চলে এসেছ।
হাতে বরাবরের মত গোলাপফুল।
ফুলগুলো আস্তে করে আমার কবরের উপর রাখলে...
এখন যদিও এই কবরটা আর আমার না!!
গত পাচ বছরে এখানে প্রায় দশজনকে দাফন করা হয়েছে.....
যাই হোক,তোমার কান্না শুরু হয়েছে।
জানি তোমার কান্না আরো বাড়বে।
বাড়তেই থাকবে...

সেদিন এ্যাক্সিডেন্টের পর হাসপাতালে যখন আমি নিজের শেষ নিঃশ্বাসগুলো গুনছিলাম...
তুমি আমার জ্যাকেটটা বুকে জড়িয়ে ধরে এভাবেই কাদছিলে।
পাগলের মত কাদছিলে...

আমি খুব ছোটবেলায় তলস্তয়ের একটা উক্তি পড়েছিলাম...
উনি বলেছিলেন-"অতীত বা ভবিষ্যত বলে কিছু নাই।

কিছু করার থাকলে এখনি করতে হবে।
ভালবাসতে হলেও এখনি ভালবাসতে হবে।
ভবিষ্যত একটা মরিচীকা।

এখন আমার খুব মনে হয়,যখন তুমি আমার সামনে ছিলে তখন কেন আরেকটু ভালো করে দেখলাম না!!
অনুভব করলাম না!!...

তলস্তয়ের উক্তিটা আমি শুধু আমি শুনেছিলাম।
ধারন করতে পারি নি।
আসলে আমরা কেউই পারি না...

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×