somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেষ সিগারেট

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি ঐশীর হাত ধরে হাটছি।মেয়েটাকে এখানকার অনেকেই চেনে না।আমিও দুদিন আগে চিনেছি।

সেদিন রাতে ছাদে যখন আমি চুপটি করে সিগারেট খাচ্ছিলাম তখন হঠাৎ মেয়েটাকে দেখে চমকে উঠি।

অবাক ব্যাপার!!এত রাতে তো কারো ছাদে থাকার কথা না।
আর মেয়েদের জন্য তো ইমপসিবল।তাহলে মেয়েটা কে?

আচ্ছা,এই কি সেই মেয়েটা যে কাল দোতালায় নতুন উঠেছে?কিন্তু মেয়েটা এত রাতে ছাদে কেন?
কাদছে নাকি?
হুম্ম।কান্নার শব্দ পাচ্ছি।
গুমরে যাওয়া কান্না...

সামনে এগিয়ে যাব নাকি?
মাথায় হাত বুলিয়ে দেই...
না,থাক।তাহলে মেয়েটা লজ্জা পাবে।আর লজ্জা পেলে হয়ত কাল থেকে সামনেই আসবে না।তার চেয়ে বরং দাড়িয়ে থাকি।যখন সিড়ি দিয়ে নামবে তখন কথা বলব।

রাতে অবশ্য আমি খুব বেশী সিগারেট খাই না।বেশী হলে তিনটা।প্যাকেটের বাকি সাতটা হিমেলের।দেড়টা বাজলে ওর সিগারেটের প্রয়োজন হবে।ছাদে চলে আসবে।

মেয়েটা আমার দিকে পিছন ফিরে আছে।তার মানে এটা নিশ্চিত মেয়েটা আমাকে দেখছে না।তাহলে একটু আয়েশ করে পা মেলে বসলেই হয়।নাটক দেখার সময় আয়েশ করে বসতে হয়।
আচ্ছা,এই মেয়েটার নাটকটা কখন শেষ হবে?দেড়টার আগে শেষ হবে তো?তা নাহলে তো হিমেল চলে আসবে!!কিন্তু এই মেয়েটার সাথে তো আমি একা কথা বলতে চাই...

ছাদে মরা চাদের হালকা আলো।বেশ ভাল লাগে আমার এই আলোটা।কিছু অংশে আলো কিছু অংশ অন্ধকার।
অল্প আলোতে মেয়েটাকে মায়াবতী মনে হচ্ছে।খোলা চুলগুলো হালকা বাতাসে মৃদ্যু উড়াউড়ি করছে।আর আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছি...

দেড়টা বাজছে।আমি আমার ভাগের ৩টা সিগারেট শেষ করে ফেলেছি।এখন টেবিলে বসে অংক করার কথা আমার।কিন্তু মেয়েটা যে নামছেই না।কখন নামবে?
কী করব এখন?চলে যাব।
নাকি আরেকটু বসব?
আচ্ছা,আমি বরং আরেকটু অপেক্ষাই করি।

ঐযে মেয়েটি ফুপিয়ে কাদছে।চোখ মুছবে এখন।তারপর হয়ত নেমে যাবে।

কী ব্যাপার মেয়েটা এখনও নামছে না কেন?আচ্ছা,তারও কি আমার মত রাতে তারা দেখার বাতিক আছে?

হিমেলও এখনও আসছে না।দুইটা দশ বাজে এখন।আমি পাচটা সিগারেট শেষ করে ফেলেছি।কিন্তু সময় যত এগুচ্ছিলো মেয়েটার ব্যাপারে আমার আগ্রহ তত বাড়ছিলো।
ভয় পাচ্ছিলাম কিছুটা!!
কিন্তু প্রচন্ড জেদ চেপে গেছিল।ভাবছিলাম,"এত রাতে যদি মেয়েটা একা ছাদে থাকতে পারে তাহলে আমি থাকতে পারব না কেন ?

মেয়েটা তারা গুনছিল মনে হয়।একবারের জন্যেও পিছন ফিরে তাকায় নি।ধুর!!একটা মানুষ এরকম হয় কি করে?

আমি অবশ্য অন্য কথা ভাবছিলাম।ভাবছিলাম হিমেলের কথা।
হিমেল আজকে ছাদে আসল না কেন?
কি ব্যাপার?
ওই কি তমার সাথে কথা বলছে নাকি ঘুমিয়ে পড়েছে?
যাই হোক একদিক থেকে ভালই হচ্ছে।সিগারেটের ভাগ অন্তত কাউকে দিতে হচ্ছে না।এত রাতে সিগারেট ছাড়া ছাদে শুধু শুধু বসে থাকা অসম্ভব।তার উপর আবার ল্যাপটপটা রুমে।ল্যাপটপ সাথে করে আনলে না হয় ছাদে বসে গুতাগুতি করতে পারতাম।ফোনেও অবশ্য ফেবুতে ঢুকা যায়।কিন্তু আজকাল আবার ফোন দিয়ে ঢুকতে ইচ্ছে করে না।প্রচুর লোড নেয়।

রাতও প্রায় শেষ।আলো ফুটতে শুরু করেছে।আমি আমার শেষ সিগারেটটা ধরাচ্ছি।মেয়েটার উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে আমার।ভাবছি,নামার সময় প্রথমেই ওর গালে একটা ঠাস করে চড় বসে দিয়ে বলব "বেয়াদব মেয়ে;এত রাতে কোন মেয়ে ছাদে থাকে?কোথায় শিখেছ এসব?"

আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।অথচ মেয়েটা এখনও ঠায় দাড়িয়ে আছে।আরে বাবা,রাত জাগায় আমি Expert না তুই?

এইবার মেয়েটা পিছন দিকে ঘুরে তাকিয়েছে।
আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকাচ্ছে।যেন ভুত দেখছে।
মেয়েটার চোখে অসম্ভব মায়া।মুখটা লাবন্যময়।এতক্ষন যে কান্না করছিল তার কোন চিহ্নই নাই।

হঠাৎ রেলিংয়ের দিকে ছুটে গেল মেয়েটা।তারপর শুন্যে ভাসিয়ে দিল লতার মত শরীরটা।আমি পিছন পিছন ছুটছি।ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ল মেয়েটা।

কিন্তু মেয়ে্টা নিচে পড়ে যাচ্ছে না কেন?
তার বদলে আস্তে আস্তে বাতাসের সাথে মিশে যাচ্ছে!!
মাথাটা এখন বন বন করে ঘুরছে।
প্রচন্ড বমি পাচ্ছে আমার।

চোখে একটা হালকা আলোর ঝাপ্টা লাগছে।বুঝতে পারছি জ্ঞান হারাচ্ছি আমি...

(একটা ভুতের গল্প লিখতে চাচ্ছিলাম,কিন্তু রোমান্টিক থ্রীলার হয়ে গেছে।শেষ করলাম না।শেষেরটুকুতে ভয় মিশিয়ে তারপর শেষ করব।)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:২৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×