তখন ও আমি বুঝতাম না আমার সমস্যাটা। আসোলেই কি কোন সমস্যা এটা। সবচেয়ে বড় সকিং ছিল মনে হয় এই যে একটা মেয়ে এতো নির্লিপ্ত ভাবে এতো গুলো হরেক রকম ছেলের সাথে চলছে ফিরছে। আমার মেয়ে বন্ধু ছিল না এমন না। কিন্তু আমার যে সব ছেলে বন্ধু ছিল তাদের অনেকের সাথেই মেয়েরা মিশতে চাইত না। এটা ই সমস্যা। প্রথম যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি, পরিচয় হয় একগাদা ফাউল পোলা পানের সাথে। তার অধিকাংশই গানজুটি , হিরোইনচি, আর ডাইল খোর।10-12 বছেরের বড় বড় সব ছেলেদের সাথে বেড়ে উঠা মারদঙ্গা আমি খুব সহজেই মিশে যাই।ক্যাফেতে বসে তাসপিটানো আর আড্ডা েমরেই প্রথম বর্ষ পার করে দেই।
দেশীয় রাজনীতির পট পরিবর্তনে হলে হলে যখন দল পরিবর্তনের হিরিক পড়েছে, তখন আমি আমার কিছু বন্ধুদের বলেছিলাম, দল চেনজ না করতে। সাময়িক সুবিধার লোভে পরে দল পরিবর্তন করে পুরা দস্তর কেডার হয়ে গেল।তখন চলছে নিজেদের ক্ষমতা শো করার পালা, বিরুধীদলের পোলাপানকে ঠেঙ্গানো, আর বিতারিত করা।এই ঠেঙ্গানোর সময় আরও অনেকের সাথে তারা এমন কিছু নির্দোষ ছেলেকে সিলেক্ট করল, যা অপ্রয়োজনীয়।তারা ব্যাক্তি আক্রোশ মিটানোর ও একটা ওয়ে পেল।যেহেতু আমি তার সবই জানতাম তাই এই বিষয় গুলো মেনে নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমি প্রতিবাদ করেছি।বুঝানোর চেস্টা করেছি। আমি যেহেতু কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য না, বা আমার পিছনে বেকিং যেহেতু আমি নিজেই তাই আমাকে পত্তা দেবার কোন কারন তারা খুজে পেল না।ওরা যখন বিভিন্ন ছেলেদের ধরে ধরে জনসম্মুখে রাইফেলের বাটদিয়ে মারে, বা গুলি করে হাসপাতালে পাঠায়, আমার কিছুই করার ছিল না। সেই সময় গুলো খুব কস্টে কেটেছে। একটা অপরাধবোধ তাড়া করে ফিরত। কিছু করতে না পারার কস্ট। আমি যাদের সাথে যোগা যোগ করতে পেরেছি, তাদের জানিয়েছি, তাদের এই ঘটনা ঘটতে পারে। এটা আমার বন্ধুরাও জানত।আমার খুব অবাক লাগত , বাকী সাধারন ছেলেরা যারা জানত তাদের আমি বলেছি প্রতিবাদের জন্য, বা নিরীহ ছেলেদের সাহায্য করার জন্য। আমার সাথে কেউ আসে নি।তাদের তো হলে থাকতে হবে। একসময় আরও ছোটখাট, এমন কি প্রেম ভালবাসার মত পারসনাল বিষয়েও যখন তারা ক্ষমতা দেখানো শুরু করল, হজম করা আর সম্ভব হল না। চলে আসলাম। তাদের মাঝে অনেকে অনেক আজে বাজে সমালোচনা করেছে, কিন্তু কোন না কোনভাবে কানে চলে আসত, কারন ওদের মাঝেও কেউ কেউ আমার নিস্বার্থ বন্ধুত্বকে সম্মান করত, তারা তার প্রতিবাদ করত।
বাকীরা যখন জিগ্যেস করে কিরে এখন ওদের সাথে কি হয়েছে? বরা বড়ের মতই পিছনে সমালোচনা করার বিরোধি আমি এড়িয়ে যাই, কারন আমি কাউকে সুযোগ দিতে চাই না।আমার এই নির্লিপ্ততা ওদের গায়ে জ্বালা ধরিয়েছে, ওদের যখন জিগ্যেস করে, তখন তারা অনেক অভিযোগ করতে থাকে আমার বিরুদ্ধে,যদিও আমাকে নিয়ে আজে বাজে কমেন্ট করার মত এমন কিছু ছিল না, এটা সবাই জানত। ততদিনে আমি জীবনে চলার কৌশল শিখে গিয়েছি। আগের মত আর মাথা গরম নেই আমার। অন্যায় দেখলে নিজের দিকে না তাকিয়ে ঝাপিয়ে পড়ার প্রবনতা ও কমে এসেছে। তখন বুঝে গিয়েছি কৌশল প্রতিবাদের একটা বিশাল হাতিয়ার। আমার এই মৌন থাকার কৌশল তাদেরকে সবার কাছে আরও বেশী ঘৃন্য করে তুলে। তারা আরও হিংস্র হয়ে উঠে। আমাকে হুমকি দেয়, ক্যাম্পাস ছেড়ে যাবার। তাও আমার সামনে দাড়িয়ে কথা বলার মত সাহস হয়নি শেষ পর্যন্ত। এই আমি আরও 7 বছর দাপটের সাথেই ক্যাম্পাসে বিচরন করে এসেছি, কোন বেকিং ছাড়াই।
সেই কলেজ জীবনে যেসব ছেলে আমার হাতে মাইর খেয়েছে,হেংলামোর জন্য, আমার মধু মিশ্রিত বানী শুনেছে বান্ধবীদের ডিসটর্াব করার জন্য। তাদের আমি এক নিমিষে ক্ষমা করে দেই। রাস্তায় তারা আমাকে দেখলে যখন মথা নিচু করে পথ পরিবর্তন করে হাটত , তখন তাদেরকে ডেকে কথা বলি আমি ।তারা এখন ও এতোটা নীচ হয়নি। তাদের মাঝের মানুষটা মরে যায়নি ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৩:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




