somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জয়তু হে রাজনীতি...

১৩ ই জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৩:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুড়া হয়ে গেলাম মনে হয়। খালি স্মৃতিচারন করি। যাই মনে একটু দোলা দেয়, তাই অতীত থেকে মনে হয়। জীবনটা মনে হয় একটা সাইকেলে পরে গেল, একই ঘটনা, একই কাজ বার বার ঘুরে ফিরে আসছে, নতুন কোন ঘটনা নেই, নেই কোন বৈচিত্র।অথচ এই কিছু দিন আগে ও প্রতিটা দিন আসত নতুন করে, কি হবে সব অজানা। কত কিছু ঘটার ছিল, কত কিছু ঘটানোর ছিল। এখন হঠাৎ করেই নারী হয়ে উঠলাম, পিছনে পড়ে রইলো সেই সব অপবাদ, be like a girl, think like a girl

তখন ও আমি বুঝতাম না আমার সমস্যাটা। আসোলেই কি কোন সমস্যা এটা। সবচেয়ে বড় সকিং ছিল মনে হয় এই যে একটা মেয়ে এতো নির্লিপ্ত ভাবে এতো গুলো হরেক রকম ছেলের সাথে চলছে ফিরছে। আমার মেয়ে বন্ধু ছিল না এমন না। কিন্তু আমার যে সব ছেলে বন্ধু ছিল তাদের অনেকের সাথেই মেয়েরা মিশতে চাইত না। এটা ই সমস্যা। প্রথম যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি, পরিচয় হয় একগাদা ফাউল পোলা পানের সাথে। তার অধিকাংশই গানজুটি , হিরোইনচি, আর ডাইল খোর।10-12 বছেরের বড় বড় সব ছেলেদের সাথে বেড়ে উঠা মারদঙ্গা আমি খুব সহজেই মিশে যাই।ক্যাফেতে বসে তাসপিটানো আর আড্ডা েমরেই প্রথম বর্ষ পার করে দেই।

দেশীয় রাজনীতির পট পরিবর্তনে হলে হলে যখন দল পরিবর্তনের হিরিক পড়েছে, তখন আমি আমার কিছু বন্ধুদের বলেছিলাম, দল চেনজ না করতে। সাময়িক সুবিধার লোভে পরে দল পরিবর্তন করে পুরা দস্তর কেডার হয়ে গেল।তখন চলছে নিজেদের ক্ষমতা শো করার পালা, বিরুধীদলের পোলাপানকে ঠেঙ্গানো, আর বিতারিত করা।এই ঠেঙ্গানোর সময় আরও অনেকের সাথে তারা এমন কিছু নির্দোষ ছেলেকে সিলেক্ট করল, যা অপ্রয়োজনীয়।তারা ব্যাক্তি আক্রোশ মিটানোর ও একটা ওয়ে পেল।যেহেতু আমি তার সবই জানতাম তাই এই বিষয় গুলো মেনে নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমি প্রতিবাদ করেছি।বুঝানোর চেস্টা করেছি। আমি যেহেতু কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য না, বা আমার পিছনে বেকিং যেহেতু আমি নিজেই তাই আমাকে পত্তা দেবার কোন কারন তারা খুজে পেল না।ওরা যখন বিভিন্ন ছেলেদের ধরে ধরে জনসম্মুখে রাইফেলের বাটদিয়ে মারে, বা গুলি করে হাসপাতালে পাঠায়, আমার কিছুই করার ছিল না। সেই সময় গুলো খুব কস্টে কেটেছে। একটা অপরাধবোধ তাড়া করে ফিরত। কিছু করতে না পারার কস্ট। আমি যাদের সাথে যোগা যোগ করতে পেরেছি, তাদের জানিয়েছি, তাদের এই ঘটনা ঘটতে পারে। এটা আমার বন্ধুরাও জানত।আমার খুব অবাক লাগত , বাকী সাধারন ছেলেরা যারা জানত তাদের আমি বলেছি প্রতিবাদের জন্য, বা নিরীহ ছেলেদের সাহায্য করার জন্য। আমার সাথে কেউ আসে নি।তাদের তো হলে থাকতে হবে। একসময় আরও ছোটখাট, এমন কি প্রেম ভালবাসার মত পারসনাল বিষয়েও যখন তারা ক্ষমতা দেখানো শুরু করল, হজম করা আর সম্ভব হল না। চলে আসলাম। তাদের মাঝে অনেকে অনেক আজে বাজে সমালোচনা করেছে, কিন্তু কোন না কোনভাবে কানে চলে আসত, কারন ওদের মাঝেও কেউ কেউ আমার নিস্বার্থ বন্ধুত্বকে সম্মান করত, তারা তার প্রতিবাদ করত।

বাকীরা যখন জিগ্যেস করে কিরে এখন ওদের সাথে কি হয়েছে? বরা বড়ের মতই পিছনে সমালোচনা করার বিরোধি আমি এড়িয়ে যাই, কারন আমি কাউকে সুযোগ দিতে চাই না।আমার এই নির্লিপ্ততা ওদের গায়ে জ্বালা ধরিয়েছে, ওদের যখন জিগ্যেস করে, তখন তারা অনেক অভিযোগ করতে থাকে আমার বিরুদ্ধে,যদিও আমাকে নিয়ে আজে বাজে কমেন্ট করার মত এমন কিছু ছিল না, এটা সবাই জানত। ততদিনে আমি জীবনে চলার কৌশল শিখে গিয়েছি। আগের মত আর মাথা গরম নেই আমার। অন্যায় দেখলে নিজের দিকে না তাকিয়ে ঝাপিয়ে পড়ার প্রবনতা ও কমে এসেছে। তখন বুঝে গিয়েছি কৌশল প্রতিবাদের একটা বিশাল হাতিয়ার। আমার এই মৌন থাকার কৌশল তাদেরকে সবার কাছে আরও বেশী ঘৃন্য করে তুলে। তারা আরও হিংস্র হয়ে উঠে। আমাকে হুমকি দেয়, ক্যাম্পাস ছেড়ে যাবার। তাও আমার সামনে দাড়িয়ে কথা বলার মত সাহস হয়নি শেষ পর্যন্ত। এই আমি আরও 7 বছর দাপটের সাথেই ক্যাম্পাসে বিচরন করে এসেছি, কোন বেকিং ছাড়াই।

সেই কলেজ জীবনে যেসব ছেলে আমার হাতে মাইর খেয়েছে,হেংলামোর জন্য, আমার মধু মিশ্রিত বানী শুনেছে বান্ধবীদের ডিসটর্াব করার জন্য। তাদের আমি এক নিমিষে ক্ষমা করে দেই। রাস্তায় তারা আমাকে দেখলে যখন মথা নিচু করে পথ পরিবর্তন করে হাটত , তখন তাদেরকে ডেকে কথা বলি আমি ।তারা এখন ও এতোটা নীচ হয়নি। তাদের মাঝের মানুষটা মরে যায়নি ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৩:২৫
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সবাই জামাতের পক্ষে জিকির ধরুন, জামাত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে!

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১



চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা, তুমুল লড়াই হচ্ছে জামাত ও বিএনপির মধ্যে কোথাও জামাত এগিয়ে আবার কোথাও বিএনপি এগিয়ে। কে হতে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ সরকার- জামাত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন তাহলে হয়েই গেল

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ১৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে দলটির প্রার্থীরা।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ৫৬টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ : পর্যবেক্ষণ,পর্যালোচনা ও ফলাফল

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:২০



আজ রাত ১২ই ফেব্রুয়ারী, দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ এর ভোট গণণা চলছে ।

যত সমস্যার সৃষ্টি এই ভোট প্রয়োগ করা নিয়ে । কেউ বলছে ভোট দিতে হবে , কেন্দ্রে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেটিকুলাস ডিজাইনের নির্বাচন কেমন হলো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৪


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২১৩ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভালো ফলাফল করেছে জামায়াত ! এগারো দলীয় জোট প্রায় ৭৬ টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



অনেক জল্পনা কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় হয়েছে- এ যাত্রায় দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে বেঁচে গেলো। চারিদিকে যা শুরু হয়েছিলো (জামাতের তাণ্ডব) তা দেখে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×