somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুফিইজম-খুব সাধারন কিছু কথা

১৮ ই জুলাই, ২০০৬ দুপুর ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুফিইজম এর ধারনা নতুন না।ইসলামে প্রথম সুফি মোহাম্মদ।আর নারী সূফি ফাতিমা।পথ পরিক্রমায় ইসলাম অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে,সাথে সাথে সুফিইজম ও।আমার শেষ কথায় মনে হতে পারে সুফিইজম কি আলাদা কোন পথ,ইসলামের বাইরে।কিন্তু তা না।সুফিইজম কে বলা হয় ইসলামের আত্মা।

এই বিষয়ে আমার পড়াশুনা কি খুব বেশি? তা না। তবে আমি কিছু সময় কাটিয়েছি উপমহাদেশীয় বিভিন্ন সুফি সাধকের জীবনী আর তাদের ইসলাম নিয়ে ভাবনা নিয়ে। আমার বাবার সাথে আমি ঘুরে বেড়িয়েছি বেশ কিছু সাধকের দ্্বারে দ্্বারে।

সেই দিন গুলো থেকে সরলীকৃত কিছু কথা বলব।রেফেরেনস তেমন দিতে পরবনা,কারন হাতের কাছে আমার কোন বই নেই।ভুল হলে ধরিয়ে দিবে বাকীরা সেই প্রত্যাশা।




"We are nearer to him than his juggular vein."
(Qur'an 50:16)


"To God belongs the East and the West: wherever you
turn, there is the Face of Allah; Allah is All
-Embracing, All-Knowing." (Qur'an 2:115)


যখন এই ধরনের আয়াত গুলো মানুষের মনে প্রশ্ন জাগায় তখন ই খুজা শুরু হয়,কেন এই কথা বলা হল।তা হলে খোদা আমার মাঝে। কোথায় খোদা। তারা তাকে অনুভব করতে চায়। না তারা তাকে কোন ভাবেই তার প্রতিকৃতি তৈরী করে অনুভব করতে চায় না।

সেই অনুভব টা কি করে করা যায় কত স হজ ভাবে পারা যায়,সে পথ খুজার জন্য অনেকে নিজে চেস্টা করে, অনেকে আগে যারা করে গিয়েছে, তারা কিভাবে করেছে সেই পথে আগায়।এই জন্য আগে যারা সেই পথে চলেছেন তাদের কাছে যান। আর সেই হল শিক্ষক বা মুর্শেদ।

প্রকৃত মুর্শেদ কেউ গেলেই তাকে তার শিষ্য বা মুরিদ করে নেয় না। সে কোরান হাদিসের বাতেনী দিক নিয়ে ভাবেন কি না, তা বুঝার চেস্টা করেন।বা সর্ব শক্তিমান কে চিন্তা করে কি না।তিনি যখন মনে করেন যে সে চিন্তায় চেতনায় চেস্টায় সর্বশক্তমান কে খুজেন তখন ই তিনি মুরিদ করেন।

তার পর শু রু হয় সেই পথে চলা।
অনেকে মনে করেন সুফি রা শরীয়াত মানে না। কথা টার সবই ভুল।তাদের কাজের চারটি ধাপ

1। শরীয়ত 2।তরিকত 3।মারফত 4।হকিকত

সুফিইজমের প্রথমে যে ধাপ তা হল শরিয়ত।শরিয়ত কি তা আমরা সবাই জানি।প্রথমে একটা মানুষকে অবশ্যই এই শরীয়ত মানতে হবে।

তখন শুরু হবে এই যে আমি এই গুলো মানছি কেন মানছি, এর পর কি আছে।কোরআন আর হাদিসএর বাতেনী দিক গুলো দেখার চেস্টা করেন।সুফি মন তার মাঝে ই আসবে যে কোরনের শুধু শাব্দিক অর্থ ই করবে না, এর ভাবগত অর্থটাও অনুধাবন করবে।যাকে ওরা বলে বাতেনি।

সেই পথে কামিয়াব হবার জন্য যে পথ বাতলে দেন সে পথ হল তরিকত।উদাহরন হিসাবে বলা যায়-নামাজে দাড়াতে হবে, দাড়ানোর পর কি চিন্তা করবে,কিভাবে করবে,তার পর নামাজ শুরু হবে।সেখানে নামাজটা শুধু প্রর্থনা না, এটা মেডিটেশন। নিজের ভিতর থেকে পর্থিব চিন্তা বের করে শুধু খাদার চিন্তা থাকবে। তারা বলেন নামাজ নামজ ই নয় হুজরী দিল ব্যাতিত। তারা প্রথমে যে বক্যটা বলে, মন মুখ এক করিয়া নামাজে বস।

ভোরে নামাজের আগে কিছুটা সময় মেডিটেশন কর।
খোদা কে পেতে হলে প্রথমে নবী কে বুঝতে হবে।তাকে ভালবাসতে হবে। নবী প্রেমের মধ্য দিয়ে ই আসবে খোদা প্রেম।মানুষ মাত্রই ভাই ভাই ।নারী পুরুষ আলাদা কোন ভাগ নয়, সব শ্রস্টার সৃষ্টি, সেই হিসাবে সবাই মানুষ। শরীয়ত মেনে চলো, বা খোদা কে খুজ ভালবাসা নিয়ে, যেমন প্রেমিক ছুটে যায় প্রেমিকার কাছে ,তাকে একবার দেখার জন্য তেমনি প্রেম জাগাও স্রস্টার জন্য। আর সেই পথে যাবার ওয়ে হল তরিকত।

মারফত আসে তার পর।যা তাকে বস্তু থেকে বের করে আনবে। যার কোন বাস্তবিক অস্তিত্ব নেই কিন্তু সে আছে। এই অনুভবটা হবে মারফাতে এসে।এই অনুভব হলেও মুরিদকে আগের দুইটা স্তরে কাজ করতে হয়।

সর্বশেষ মকাম হলো হকিকত। বা সত্যের সাথে পরিচয়। খোদা এক। সে আছে, সে আমার প্রেম সে ই একমাত্র সত্য ,এটা আবিস্কার। সেই সত্য বিভিন্ন ভাবে ধরা দিতে পারে বিভিন্ন সুফির কাছে।

সব মুরিদ সব স্তর পার করতে পারে না।যারা পার করে তা কি করে করে বুঝে যে পরের স্তরে যাবে?
এটা কোন স্কুলের ক্লাশ না। সে নিজেই ই বুঝবে,এখন সে কোথায়।আর কত দূর।

আমদের উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারে কোন ইসলামী স্কলারের বা মাওলানার অবদান খুব ই কম। সেই দিকে বিচার করলে দেখা যায় সুফি সাধকরাই সবচেয়ে বেশী গ্রহনযোগ্য মানুষের কাছে, তাদের অবদানই সবচেয়ে বেশী। কেন?

তাদের মূলমন্ত্র ভালোবাসা, প্রেম, খোদার প্রতি খোদার স ৃস্টির প্রতি। তাই হয়ত তাদের দরবারে যেমন মুসলমান দেখা যায় তেমনি আমি অনেক অনেক বিধর্মিকে দেখেছি। অনেক কে দেখেছি ইসলাম গ্রহন করতে।আর ভালবাসা কোন আইন না, এটা শুধু অনুভব, কিন্তু এর শক্তি অফুরন্ত। আইন দিয়ে যা করা যায় না তা খুব স হজে করা যায় ভালবাসা দিয়ে। তাই তাদের কোন আইন লাগে না ধর্ম মানানোর বা পালনের জন্য।



সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×