somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

:| :| কাঠ বিড়ালি :) :)

২৪ শে মে, ২০১৬ রাত ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাৎ গাছ নড়ে ওঠায় থাকাতেই দেখি কাঠবিড়ালি(সিলেটি ভাষায় যাকে আমরা খটা! বলি) পেয়ারা গাছ থেকে একটি পেয়ারা নিয়া পালানোর চেষ্টা করছে। আমি তাড়াতাড়ি উঠে হাত তালি দেওয়াতেই কাঠবিড়ালি মুখ থেকে ফল ফেলে দিয়ে লাফিয়ে চলে গেল।

গিয়ে ফলটি কুঁড়িয়ে এনে দেখলাম এর কিছু অংশ কাঠবিড়ালি খেয়ে ফেলেছে। ফলটি যথেষ্ট বড় হওয়ায় এর আহত অংশকে কেটে ফেলে দিয়ে খাওয়ার উপযুক্ত করলাম। এ থেকে হঠাৎ শৈশবের ঘটনা মনে পড়ে গেল। বলেই ফেলি...

আমার শৈশব কেটেছে নানা-বাড়িতে। গ্রামে প্রায় বড় বড় বাড়িতে ঘর গুলোর কাঠামো থাকে এমন যে, মুখোমুখি দুটি ঘর থাকবে একটিকে সামনের ঘর এবং আরেকটিকে পূবের ঘর বলা হয়।বুঝাই যাচ্ছে সামনের ঘরটি পশ্চিম দিকে থাকে। নানা-বাড়ির ঘর গুলো ঠিক সে রকম। শুধু উত্তরের দিকে একটি বাড়তি ঘর আছে যাকে আমরা উৎরের ঘর বলি। আর সামনের এবং পূবের ঘরের মাঝের খালি অংশকে বলা হয় উঠান।নানা-বাড়ির সেই উঠোন জুড়ে একটি গাছ ছিল(এখন নেই)। পেয়ারা গাছ...। এত বড় পেয়ারা গাছ আজ অবধি দেখি নাই। গাছটি অতিরিক্ত বড় হওয়ায় এর সব ফল দেখা যেত না। আর দেখলেও গাছে উঠতে পারতাম না বা এত লম্বা বাঁশ ছিল না যার সাহায্যে ফলটি পাড়া যায়। তো আমরা অসহায়ের মত হাল ছেড়ে দিতাম আর বিকেল বেলার অপেক্ষা করতাম। আমরা বলতে আমি, ভাইয়া এবং আপু। বিকেল বেলার অপেক্ষা করতাম এজন্য যে, বিকেল বেলা কাঠবিড়ালি আসবে এবং সে এসে গাছের সেরা ফলটি বেছে নিয়ে যেইনা পালাতে চাইবে তখনই আমরা নিচ থেকে খটা খটা! বলে চিৎকার দিতাম। চিৎকার শুনে বেচারা কাঠবিড়ালি পেয়ারা ফেলে দিয়ে পালাতো।
এবার আসি আসল কথায়। বর্তমানে আমরা মানে মুসলমানরা সেই রকম কাঠবিড়ালির অপেক্ষায় থাকি। যেমন গত দিন সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক কে কান ধরে উঠ-বস করালেন। অভিযোগ ছিল ও নাকি আল্লাহ্‌ ও নবীকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। যেই শুনলাম আমরা তখনই ওই হাততালির মত হাত তালি দিলাম। এবং এ থেকে কুড়ানো ফল নিয়ে ঘরে উঠে গেলাম।
হে জাতি! আর কতদিন এভাবে কাঠবিড়ালির অপেক্ষা করব! আমরা কি নিজে থেকে ঐ ফল গাছে উঠা শিখবনা।

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১৬ রাত ১০:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩

নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী

নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব  এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু  ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল,  মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×