somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যানজট, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সত্য উক্তি ,সাধারন মানুষের দুর্ভোগ ও সত্য গবেষনা !

০৯ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যানজট আমাদের শহরের বিরাট সমস্যা বিশেষ করে রাজধানীতে বসবাস করলে তো কথায় নেই। ২৫ মিনিট দূরত্বের উত্তরা মতিঝিলের রাস্তা পার হতে জীবনের অনেক মূল্যবান ২ ঘন্টা সময় পার হয়ই রমজানের এই সময়ে তা তিন ঘন্টায়ও যাওয়া যায় না। আজ কয় ঘন্টা লাগে বলা মুশকিল অবস্হা খুবই খারাপ ! সোয়া ঘন্টায় এসেছি দৈনিক বাংলা থেকে কাকরাইলের মোড়। কে কিভাবে ভোগে? সাধারন মানুষ যন্ত্রনায় ছঠফট করে সাধারন পরিবহনে। তাঁদের পরিবারের ভাগ্যও সেই পরিবহনে। আমার অবাক লাগে তাঁদের ধৈয্য দেখে। আর আমলা, তথাকথিত ব্যবসায়ী বড়লোক ও রাষ্ট্র পরিচালনার আইন তৈয়ার কারী ও তাঁদের ঘনিষ্টরা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ীতে বসে সাধারনের কষ্টের জন্য কি আফসোস করে জানিনা? নাকি তাড়াতাড়ি আরও পয়সা কামিয়ে ধনী হওয়ার চিন্তা করে তা নিয়ে আমি দ্বিধান্বীত। প্রশ্ন করি একজন অফিস প্রধানের কয়টি গাড়ী লাগে? গাড়ীর মালিক কে? বড় ব্যবসায়ী ভাইদের পরিবারে মাথাপিছু গাড়ী বিদ্যমান। ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ভাইদের অবস্হাও অনুরুপ।ব্যতিক্রম হয়তঃ হাতে গোনা। এই মূহুর্তে মনে পড়ল বাংলার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু সরকারের এক প্রয়াত মন্ত্রী মরহুম এডভোকেট নূরুল ইসলাম চৌধুরী সাহেবকে। একদিন সকাল ১০ টার সময় শাপলা চত্বরের নিকটে মতিঝিল এলকায় সাধারণ পরিবহনে দেখে অবাক হয়েছিলাম ! তখন আমি ছাত্র ছিলাম। ঊনার আমার বাড়ী চট্রগ্রামের পটিয়ায় ।আজ সেই অবস্হা নেই বললেই চলে। তিনারা সকলেই ভি আই পি। তাঁরা সাধারন পরিবহনে আসতে নারাজ। যানজট নিরসনের সত্য গবেষনার ধারে কাছেও আসতে চায় না তাঁরা। শুধু মুখে বলে দেশের মালিক জনগন।এটি যদি তাঁদের অন্তরের কথা হত দেশের আপমর জনগণকে যানজট সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে যন্ত্রনায় এত ছটফঠ করতে হত না।শুনেছি বিশ্বের অনেক দেশে পিক্ hour এ শহরে গাড়ী চালনার বিষয়ে অনেক নিয়ম যেমন মানতে হয় তেমনি টোলও নাকি গুনতে হয়।এই দেশে সে ধরনের আইন অনুপস্হিত কেন? কারন একটাই। সেটি হল আমরা তথাকথিত উচ্চশ্রেনী সম্পদ ও ভোগ লিপ্সু। আজ ব্যাস্ত রাস্তা সমুহের ভাগ যদি আমরা মাথাপিছু হিসাব করি তাহলে দেখা যায় ৮০% বা তারও বেশী তথাকথিত উচ্চশ্রেনীর দখলে? পাশাপাশি সাধারণ মানুষ চরম কষ্ট করে।গরম হলে তো কষ্টের চরম সীমায় যন্ত্রনা ভোগ করতে হয়। এখন আরো রমজান মাস । প্রশ্ন হল সধারনের জায়গা দখল করে এবং তাঁদের চরম কষ্টের কি মূল্য দেয় তাঁরা? আজ সময় এসেছে হিসাব নেয়ার। কেন তাঁরা বা তাঁদের পরিবার বর্গ সাধারন পরিবহনে আসে না? কোথায় গলদ? গলদ হল আইন প্রনয়ণের সব কিছু তাঁদের হাতে বলেই। তাঁরা হল শোষকের ভূমিকায়।এ জন্য এহেন তাঁদের কে ঘৃনা করি। বিশ্বের সত্য কবিদের পছন্দ করি যাঁরা মানবের পক্ষে বলিষট ভাবে সত্য বলে। বিদ্রোহী কবি নজরুল ও গায়ক ভূপেন হাজারিকাকে কে চরম ভালবাসি। শুধুমাত্র মানবের পক্ষে অকপটে সত্য বলার জন্য।
এখন উপায় কি? উপায় হল সকল কে সাধারনের স্তরে আনার চেষ্টা যেমন করতে হবে তেমনি বড় বড় গাড়ীর প্রবাহ বাড়াতে হবে। তাঁদেরকে বাধ্য করতে হবে বড় সাধারন গাড়ী করে অফিসে যাতায়ত করতে।গাড়ী থাকবে সরকারী পুলে, বাসায় নয়। জরুরী কজে পুলের গাড়ী ব্যবহৃত হবে শুধুমাত্র সরকারী প্রয়োজনে। গাড়ী ব্যবহারের কঠোর আইন করতে হবে। একজন যাতে দশজনের জায়গা দখল না করে সেদিকে সজাগ দৃষটি থাকতে হবে। পিক্ hour এ অহেতুক গাড়ী ব্যবহারে tax বা টোল এর ব্যবস্হা করতে হবে।পিক্ সময়ে প্রাইভেট গাড়ীর যাত্রী অনুযায়ী টোল নিতে হবে। সিট খালি থাকলে ট্যাক্স বর্ধিত হারে নিতে হবে। সহজ car loan বন্ধ করতে হবে।বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে বাধ্যতামূলক স্কুল বাস চালু করতে হবে।আমলা, রাজনীতিবিদ সহ সকলকে সাধারণ পরিবহনে চড়ার নির্দিষ্ট রুলস্ করতে হবে। সাধারণ পরিবহনের মান উন্নয়ন করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে ট্যাক্স কমানো যেতে পারে। কাজকে ডিজিটালাইজেশন করার চেষ্টা করতে হবে। যাতে মানুষ ঘরে বসে অনলাইনে অনেক কাজ করতে পারে ।যেখানে সেখানে গাড়ী পার্কিং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্হা নিতে হবে। প্রয়োজনে আইনের মাধ্যমে সবাইকে general class এ রুপান্তর করার ইচ্ছা থাকতে হবে । আমার দৃঢ বিশ্বাস, এহেন সত্য গবেষনার পদক্ষেপে যানজটের দুঃখ লাঘব হবে। এ বিষয়ে গতকাল সংসদে পরিবারের সকলকে এক জায়গায় এক গাড়ীতে চড়ে যাওয়ার যে মনোভাবের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন তা উল্লেখ্য। এর সত্য গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি যদি আইনের মাধ্যমে প্রাইভেট পরিবহন, বিশেষ করে কার ও জীপ এর জন্য উপরের আলোচনা মোতাবেক কড়াকড়ি আরোপ করেন তাহলে হয়তঃ রাজধানীর সাধারন জনগন কিছুটা সস্তি পাবে বলে আমার বিশ্বাস।
বরাবর ২ ঘন্টা পার করলাম এখন কাকরাইল মসজিদের সামনে। মুষুলধারে বৃষ্টি চলছে। নিশ্চিতভাবে বলা যায় গাড়ীর সকলকেই রাস্তায় ইফতার করতে হবে।

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:১৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×