আগেকার চেনা শিশু! বাড়ী সিলেটের জকিগন্জে। হাতের কম্বলটি তার ফুটপাতে ঘুমানোর সম্বল! চুরি হয় বলে হাতেই রাখতে হয়। গতকাল বিকাল ৫ টার সময় হঠাৎ কমলাপুর ষ্টেশনে দেখা। আমার খুব ভাল লাগে এ সকল শিশুরা আমাকে দেখার সাথে সাথে জড়িয়ে ধরে। দেখা হতেই বলল স্যার, "সকালেও খায়নি দুপুরেও কিছু খায়নি খুব ক্ষুধা লাগছে আমাকে একটু ভাত খাওয়াবেন"? ক্ষুধার্ত অনাথ শিশুর এ কথা শুনে কিভাবে না করি বলেন? বললাম বিমান বন্দর ষ্টেশনে চল, সে বলল ঠিক আছে দুই মিনিট পরেই ট্রেন ছেড়েদিল। আমি নামার সাথে সাথেই সে দেখি আবারও দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল। তারা সাধারন যাত্রী বগিতে উঠতে পারে না। ইন্জিনের ঝুঁকিপূর্ন জায়গা বা চলতি ট্রেনে ঝুলে তারা ছাদে উঠে। মানুষের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য আর টিটির হুমকি ধমকি তাদেরকে এভাবে ট্রেনে চলতে অভ্যস্ত করেছে। কেউতো তাদের নেই?? আমরা তাদের অন্তর দুঃখকে অনুভব করতে চাই না, আর আমরা সাহেবদের সেই সময়ও নেই। তুই ছাডাতো কথায় বলি না? একবারও ভাবি না সেও আমার ঘরের শিশুর বয়সী! সে অভুক্ত? সে অসুস্থ? সে নিরাপত্তা বলয়ে নেই? সে এতিম! সে অভিভবাক হীন! এই আর কি? সন্ধ্যা ছয়টা হলেও অতঃপর বরাবরের মত একবেলা খাওয়ালাম। আমি বড় পাগল হলাম, খাওয়ার সময় এ সকল খুশীমন দেখা! আমি এ নেশায় আসক্ত! আমার সবকিছু ক্ষুধার্ত এ সকল শিশুকে খাওয়ায়ে বিলীন করতে চাই। মহান আল্লাহ যেন এ রমজানের মুহূর্তে আমার এ ইচ্ছা কবুল করেন সে দোয়া করবেন। সত্যি এ সকল শিশুদের সাথে মিশলে এ মন দারুন কাঁদে। চোখে পানি আসে। তখন মনে হয় কিসের সভ্যতা? কোমল প্রানের শিশুর কষ্টকেই বুঝতে পারলাম না? এ পৃথিবীর সবচেয়ে সবচেয়ে আনন্দের এ দর্শন( খাওয়ার সময়ের অনাথ শিশুর তৃপ্তিকর খুশীমন) আমাকে দারুন অভিভূত করে। সত্যি পৃথিবীতে এর চেয়ে শ্রেষ্টময় সুখের কোন মুহূর্ত আর হতে পারে না। শিশুর হাসি আর প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য ১০০% নিখুঁত! তাই বারবার তা দেখতে ইচ্ছা করে। আমেরিকা প্রবাসী এক সাজ্জাদ ভাই তিনি আমাকে বলেন আমার এ কাজ নাকি তার খুব ভাল লাগে অনেকদিন ধরে তিনি নাকি ফলো করছেন। তিনি আমাকে তার যাকাতের কিছু টাকা পাঠিয়েছেন বলেছেন প্লীজ ডু ইট। তিনিও আমার সাথে আছেন। মানুষ যে নেই তা নয় তবে তুলানমূলক অনেক কম! ইচ্ছা আছে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কিছু করার জানিনা কখন করতে পারব? দোয়া করবেন, মনের ইচ্ছা যেন পূরন হয়! বন্ধুরা জায়গা জমি কিনছে সম্পদ করছে আমার একান্ত ইচছা যা আছে তা বিক্রি করার। বিনিময়ে মহান আল্লাহ কাছে একটায় প্রার্থনা করি আমার ঔরসজাত তিন ছেলে সন্তান যেন মানবতা প্রেমিক ভাল মানুষ হয়। মানুষের কষ্টকে তারা যেন অনুধাবন করে! আবারও দোয়া চেয়ে মনের আবেগপূর্ণ লিখা শেষ করলাম। আল্লাহ হাফেজ!




অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
