

অনেক খারাপ লাগে এজন্য যে, তারা প্রায় সকলেই মাদকাসক্ত। অভিভাবক বা মাবাবাহীন এ সকল শিশুরা অভুক্ত বা আন কেয়ার অবস্থায় পথে ঘাটে থাকতে থাকতে সস্তা মাদক ড্যান্ডি বা ঘুমের ঔষুধ নক্টিন এ আসক্ত হয়ে যায়। আমি এ যাবত এ রকম কম হলেও লক্ষ শিশুর সাথে মিশেছি তাদের অবস্থা বিবেচনায় আমার পর্যবেক্ষণ হল তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই এ শিশু বয়সে মাদকের দিকে ধাবিত হয়। যে প্রতিকূল পরিবেশে তাদের দিন রাত কাটে যে কেউই এ পথে ধাবিত হবেই। শান্তিতে একটু হলেও তো ঘুমাতে হয়। আর তাদের যেখানে যেভাবে ঘুমাতে হয় তা একবার ভাবুন। আমি আপনি দু চার মিনিট দাঁড়িয়ে থাকাও মুশকিল। মশা, ধুলাবালি, গন্ধ, আওয়াজ, গোসল বিহীন এক কাপড়ে অনেকদিন, অভুক্ত, অসুস্থ ইত্যাদি চরম প্রতিকূল পরিবেশে তাদের থাকতে হয়। আর যারা এরকম শিশু থেকে বড় হয়েও এখনো পথে থাকে তাদের সানিধ্যে থেকে এ সকল মাসুম শিশুরা কি শিখছে তা ভেবে দেখুন। বাস্তবে তারা চরম অকালপক্ব হয়ে যায়।


সমাজের জন্য কি উৎপাদন হচ্ছে? আমি বাস্তবিকই বুঝছি এবং দেখছি তাদেরকে এ পরিবেশ থেকে নিয়ে গিয়ে কোনদিনও সহজে কেউই সুস্থ পথে আনতে পারবে না। সুস্থ পথে আনার পূর্বশর্ত হলো মাদকের চিকৎসা ( বড় প্রয়োজন) এবং মন সংশোধনের চিকিৎসা। যা একমাত্র এ রকম পথে থাকা শিশুদের জন্য স্পেশালাইজড আবাসিক হসপিটাল বেইজড শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তুলে তা করা সম্ভব বলে মনেকরি। সাথে সাথে এটাও খেয়াল কোন শিশু পথে আসামাত্র তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে হবে যা অত্যন্ত জরুরী।কারন কয়েকদিন পথে থাকলেই সে মাদকাসক্ত হয়ে যায়। তখন জটিলাকার ধারন করে।সরকার এবং আমাদের সত্য কেয়ারের অভাবে আজ এতিম বা অভিভাবক হীন শিশুদের এ দূর্গতি! যারজন্য দায়ী তারা নয় দায়ী সরকার এবং সমাজের সক্ষম লোকজন।

আজ শিশু বিষয়ক এনজিও গুলো তাদের এ দূরবস্থাকে সঠিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে বলে মনে করি না। পথে আসা এ শিশুগুলোর বড় প্রয়োজন হল চিকিৎসা সমৃদ্ধ নিরাপদ আবাসন। অতঃপর শিক্ষা বা অন্যকিছু। প্রতিদিনই দেখি নতুন নতুন শিশু আসছে। শিশুর এ প্রবাহ এবং কঠিন পরিবেশ বহাল তবিয়তেই আছে। যে পরিবেশে তারা থেকে থেকে অভুক্ত অাসক্ত এবং অসুস্থ হয়ে বড় হচ্ছে। মানব প্রাণের অবহেলিত শিশুর ক্ষুধার কষ্ট ও অসুস্থতার এ কষ্ট আমি কাছ থেকে দৈনিকই দেখি প্রতিকী কিছু সময় তাদের সাথে কাটায়। সামান্য একটু আদর বা খাওয়াতে তারা যে খুশী হয় তা আমাকে দারুন তৃপ্তি দেয়। তখন পাশে বসে চরম আফসোস করি তাদের ও সমাজের ভবিষ্যত নিয়ে। আমি তো ব্যক্তি কি করব? দীর্ঘদিন আফসোস এর সাথেই দিন পার করছি সরকার এবং মানুষের অবগতির জন্য আমার বাস্তবিক পর্যবেক্ষণ এর লেখাগুলো তুলে ধরি। তবে প্রতিদিন শিশু প্রানের ক্ষুধার পাশে সামন্যতম দাঁড়িয়েও দারুণ এক তৃপ্তি পাই। তাই প্রতিদিন যাই আর আপনাদের দেখায়।


সরকার এবং সক্ষম ব্যাক্তিবর্গকে বলব প্লিজ এদের পাশে দাঁড়ান। মহান আল্লাহ প্রানের এ কাজে দারুন সহয়তা দেয় বলে আমি মনেকরি। আপনি নীজেই তা বুঝতে পারবেন যদি মানবিক এ কাজ করেন। তাই বলছি, ফলপ্রসূ মূলক যথোপযুক্ত প্রকল্প হাতে নিয়ে মাসুম অসহায় এ সকল শিশুদের ভবিষ্যত এবং সমাজকে নিরাপদ করুন।
দয়াপূর্বক।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৫