
গরমে, ঘামে শরীর ভিজে হোসেনের ঘুম ভাংলো। রুমে কোনো ঘড়ি নেই। হোসেন জানালা দিয়ে শুয়ে শুয়ে বাইরে দেখে আন্দাজ করে নিল সন্ধ্যা ৭.৩০ এর মত বাজে। বাইরে যানবাহনের হর্নের শব্দ এখন তীব্র, কয়েকজন লোক চিল্লাচ্ছে, ৭টা থেকে ৮টা নাগাদ এই সময়ে জ্যামের জটলা পাকে এবং নিয়ম করে প্রতিদিন এই চেচামেচি চলে। হাফ হাতা টি শার্ট ঘেমে ভিজে চুপচপা। হোসেন খালি গায়ে ঘুমাতে পারে না একদম ই, গায়ে কিছু না কিছু থাকা চাই। ৬ তলা বিল্ডিং, কারেন্ট গেছে কখন বোঝা যাচ্ছে না। এক গ্লাস পানি খেতে খেতে হোসেন দেখল পুরো এলাকা অন্ধকার, এর মাঝে কোনো কোনো বাসায় জেনারেটর চলছে, একটা গমগম শব্দ।কয়েকটা বাসায় জেনারেটর দিয়ে রুমে লাইট জলছে। নিচে তাকিয়ে অসংখ্য গাড়ির লাইট, হর্ন, মানুষের চিল্লাপাল্লা।
হোসেনের মনে মনে বলল, এটা কোনো অন্ধকার হোলো?
যান্ত্রিক শহরে, অন্ধকার ও যেন যান্ত্রিক, পিচ ঢালা রাস্তার মতই কর্কশ, কর্পোরেট মানুষের মতই রোবট।
নাহ, এ অন্ধকার ভালো লাগছে না, চোখে সয় না। কেমন জানি জন্ডিস এর মত ঘোলা। কোনো স্নিগ্ধতা নেই।
অন্ধকার হবে, কোমল। মানুষ বাদে, রাত প্রহরী যে পোকা আছে তাদের গোল্লাছুট খেলা শুরু হবে, জোনাকিরা লুকোচুরি খেলা শুরু করবে, তাদের সাথে তাল দিয়ে বাতাস বইবে। দূর থেকে মানুষের হেটে আসবার শব্দ শোনা যাবে।
চোখে সয়ে যাবে অন্ধকার। একসময়, চোখ সয়া অন্ধকারে মধ্য দিয়েও আবছা আবছা দেখা যাবে।
চাদের আলো মেখে, মন পছন্দ গান মাথায় গুন গুন করবে। এমন অন্ধকার দরকার।
হোসেন দরজা টা টেনে ছিটকিনি আটকে দিল। আজ গন্তব্য সেখানে যেখানে চোখ সয়ে যাওয়া অন্ধকার আছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:৩০