জেলখানার খাবার খুব একটা ভালো হয় না। যারা ডিভিশনে খায় তারা ভালো খায়। কারণ তারা খাওন বাবদ আলাদা টাকা মেট'কে (ওয়ার্ড যে চালায়) দেয়। মেট সেই টাকা দিয়ে বাজার করে। আর চৌকায় (রান্না যেখানে করে) পাকায়। এই রান্না করা বাবদ চৌকার মেট'কে দৈনিক একশো টাকা করে দিতে হয়।
যারা খাওন বাবদ আলাদা টাকা খরচ করতে পারে না তারা জেলখানার খাবার খায়। জেলখানার খাবারের একটা নমুনা বলি। মাছ এক পিস এতোটাই পাতলা যে এক সাইড থেকে অন্য সাইড দেখা যায় এবং ছোট। আমরা যে সাইজকে সাধারণত ছোট বলি তার পাঁচ ভাগের একভাগ ছোট হইলো জেলখানার মাছের সাইজ। মুরগি ও গরুর মাংসের টুকরার সাইজ হাতের বৃদ্ধা আঙুলের তিন ভাগের এক ভাগ। একজনের ভাগে এক টুকরা। গরু অবশ্য কালে ভদ্রে দেয়। সবজি অবশ্য স্বাভাবিক । ভাত ডাল যা ইচ্ছা খাইতে পারে।
জেলখানার হাজতিদের এইসব ডায়েট দিয়া ভাত খাইতে খুবই কষ্ট হয়। তাই তারা কিছু অসাধারণ ভর্তা আবিস্কার করছে। তার মধ্যে উল্ল্যেখ যোগ্য হইলো চানাচুর আর পেঁয়াজু ভর্তা।
চানাচুর ভর্তার রেসিপি হইলো, পরিমান মতো চানাচুর লইয়া কাঁচা মরিচকে আধপোড়া কইরা পেঁয়াজ দিয়া কচলাইয়া তার সাথে একটু নুন মিশাইয়া এই ভর্তা করা হয়। খাইতে বেশ সুস্বাদু।
পেঁয়াজু ভর্তার রেসিপি, পেঁয়াজুকে ডালের মধ্যে কিছুক্ষণ ভিজাইয়া রাইখা নরম করা হয় তারপর কাঁচা মরিচকে আধপোড়া কইরা পেঁয়াজ দিয়া কচলাইয়া তার সাথে একটু নুন মিশাইয়া এই ভর্তা তৈরি করা হয়। খাইতে খারাপ লাগে না।
জেলখানায় আগুন জ্বালানো বিরাট অপরাধ। ধরা খাইলে কেইস খাইতে হয়। হাজতিরা দৈনিক পত্রিকার একটা পাতাকে সরু কইরা ওয়ার্ডের টয়লেটে চলে যায়। একজন পাহারায় থাকে অন্যজন টয়লেটে পত্রিকায় আগুন জ্বালাইয়া মরিচ পোড়ায়। পোড়ানোর জন্য মরিচগুলোকে লোহার চিকন শিকে গেঁথে নেওয়া হয়।
জেলখানায় যেকোন ধরনের ধারালো জিনিস ব্যবহার করা অপরাধ। হাজতিরা টিনের পাতকে পাকায় ঘইষা ধারালো কইরা নেয় আর তাই দিয়ে পেঁয়াজ মরিচ মাছ মাংস এইসব কাঁটে। আর এই টিনের ধারালো পাত ব্যবহার শেষে লুকাইয়া রাখে।
জেলখানায় যারা নগদ টাকা খরচ করতে পারে না তাদের জন্য জেলখানা বড়ই নির্মম এবং নির্দয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


