somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

।। জেলখানার জিন্দেগী ।।

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জেলখানার খাবার খুব একটা ভালো হয় না। যারা ডিভিশনে খায় তারা ভালো খায়। কারণ তারা খাওন বাবদ আলাদা টাকা মেট'কে (ওয়ার্ড যে চালায়) দেয়। মেট সেই টাকা দিয়ে বাজার করে। আর চৌকায় (রান্না যেখানে করে) পাকায়। এই রান্না করা বাবদ চৌকার মেট'কে দৈনিক একশো টাকা করে দিতে হয়।

যারা খাওন বাবদ আলাদা টাকা খরচ করতে পারে না তারা জেলখানার খাবার খায়। জেলখানার খাবারের একটা নমুনা বলি। মাছ এক পিস এতোটাই পাতলা যে এক সাইড থেকে অন্য সাইড দেখা যায় এবং ছোট। আমরা যে সাইজকে সাধারণত ছোট বলি তার পাঁচ ভাগের একভাগ ছোট হইলো জেলখানার মাছের সাইজ। মুরগি ও গরুর মাংসের টুকরার সাইজ হাতের বৃদ্ধা আঙুলের তিন ভাগের এক ভাগ। একজনের ভাগে এক টুকরা। গরু অবশ্য কালে ভদ্রে দেয়। সবজি অবশ্য স্বাভাবিক । ভাত ডাল যা ইচ্ছা খাইতে পারে।

জেলখানার হাজতিদের এইসব ডায়েট দিয়া ভাত খাইতে খুবই কষ্ট হয়। তাই তারা কিছু অসাধারণ ভর্তা আবিস্কার করছে। তার মধ্যে উল্ল্যেখ যোগ্য হইলো চানাচুর আর পেঁয়াজু ভর্তা।

চানাচুর ভর্তার রেসিপি হইলো, পরিমান মতো চানাচুর লইয়া কাঁচা মরিচকে আধপোড়া কইরা পেঁয়াজ দিয়া কচলাইয়া তার সাথে একটু নুন মিশাইয়া এই ভর্তা করা হয়। খাইতে বেশ সুস্বাদু।

পেঁয়াজু ভর্তার রেসিপি, পেঁয়াজুকে ডালের মধ্যে কিছুক্ষণ ভিজাইয়া রাইখা নরম করা হয় তারপর কাঁচা মরিচকে আধপোড়া কইরা পেঁয়াজ দিয়া কচলাইয়া তার সাথে একটু নুন মিশাইয়া এই ভর্তা তৈরি করা হয়। খাইতে খারাপ লাগে না।

জেলখানায় আগুন জ্বালানো বিরাট অপরাধ। ধরা খাইলে কেইস খাইতে হয়। হাজতিরা দৈনিক পত্রিকার একটা পাতাকে সরু কইরা ওয়ার্ডের টয়লেটে চলে যায়। একজন পাহারায় থাকে অন্যজন টয়লেটে পত্রিকায় আগুন জ্বালাইয়া মরিচ পোড়ায়। পোড়ানোর জন্য মরিচগুলোকে লোহার চিকন শিকে গেঁথে নেওয়া হয়।

জেলখানায় যেকোন ধরনের ধারালো জিনিস ব্যবহার করা অপরাধ। হাজতিরা টিনের পাতকে পাকায় ঘইষা ধারালো কইরা নেয় আর তাই দিয়ে পেঁয়াজ মরিচ মাছ মাংস এইসব কাঁটে। আর এই টিনের ধারালো পাত ব্যবহার শেষে লুকাইয়া রাখে।

জেলখানায় যারা নগদ টাকা খরচ করতে পারে না তাদের জন্য জেলখানা বড়ই নির্মম এবং নির্দয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৫১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×