somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধু হিন্দুও হলেও ভালোবাসবো শত্রু মুসলমান হলেও ঘৃণা করবো ।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খালেদা জিয়া তার নেতা কর্মী এবং সমর্থকদের নির্দেশ দিয়েছে , তারা যেনো আর ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য না দেয় এবং এইদেশে ভারতের প্রতি বিদ্বেষ না ছড়ায় ।

আমার কাছে মনে হয়েছে , খালেদা জিয়া নীতি, সততা, কৃতজ্ঞতা এবং আদর্শের উপর ভিত্তি করে বিএনপির নেতা কর্মী এবং সমর্থকদের এই নির্দেশ দে নাই । এই নির্দেশ দিয়েছে একটা কৌশলগত কারনে । খালেদা জিয়া মনে করে , এই বাঙলাদেশে ভারতের ইশারা ছাড়া সরকার পরিবর্তন হয়না । বিএনপির নেতা কর্মীরা যদি এই মুহুর্তে ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেয় তাহলে আগামী নির্বাচনে ভারত বিএনপি’কে সাহায্য সহযোগিতা করবে না । তাই খালেদা জিয়া বিএনপির নেতা কর্মী সমর্থকদেরকে কৌশলগত কারনে ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিতে নিষেধ করেছে ।

এই বাঙলাদেশে ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা যারা বলে তাদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় । তাদের এক ভাগ মনে করে , ভারত হিন্দু রাষ্ট্র আর বাঙলাদেশ মুসলমান রাষ্ট্র । একজন মুসলমান হয়ে একটি হিন্দু রাষ্ট্রকে কোন ভাবেই সমর্থন করা যায় না । তাই তারা শুধুমাত্র ধর্মীয় গোঁড়াময় আবেগ অনুভুতি থেকে ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলে । আরেকভাগ মনে করে , ভারত বাঙলাদেশের ব্যবসা বানিজ্য, শিল্প সাহিত্য, মানুষের আচার আচরণসহ সংস্কৃতির সকল শাখায় আগ্রাসন চালাচ্ছে । তাই তারা ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলে ।

কিন্তু এই দুই ভাগের একভাগও মনে রাখে নাই , বাঙলাদেশের জন্মযুদ্ধে ভারতের অবদান । ভারত বাঙলাদেশের জন্য কি কি করেছে । পৃথিবীর একটি দেশ আরেকটি দেশের স্বাধীনতা এনে দেওয়ার জন্য এতো ত্যাগ স্বীকার করেছে কি না আমার জানা নাই ভারতের মতো । এক কোটি মানুষকে থাকতে দিছে । নয় মাস ধরে খাওয়াইছে । চিকিৎসা দিছে । মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র দিছে । গোলাবারুদ দিছে । ট্রেনিং দিছে । বাঙলার মানষের মুক্তির জন্য ভারতের প্রায় চারহাজার সন্য জীবন দিছে এবং আন্তর্জাতিক ভাবে পাকিস্তানের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ইন্দিরাগান্ধী বিশ্বসফর করছে । বাঙলাদেশের জন্মযুদ্ধে ভারত যে মানবিকতা এবং বন্ধুর পরিচয় দিছে এই দেশের জনগনের প্রতি তা একজন বাঙালি হয়ে অস্বীকার করলে নিশ্চয় বাঙালির ইজ্জত বাড়বে না !

জন্মযুদ্ধে পরাজিত হওয়া শক্তি ঘাতক দালাল রাজাকার যুদ্ধাপরাধী জামাতিরা ভারতের এই সাহায্য সহযোগিতা মেনে নিতে পারে নাই । তাই তারা একাত্তরেও এই দেশে অপপ্রচার চালাইছিলো পাকিস্তানীদের পক্ষ হয়ে । তারা বলতো, পাকিস্তান মুসলমান রাষ্ট্র এবং বাঙালিদের বেশির ভাগও মুসলমান । ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ করার কোন দরকার নাই । দেশ স্বাধীন হওয়ারও কোন দরকার নাই । যারা দেশের স্বাধীনতা চায়, যারা দেশ ভাগ চায় তারা ভারতের দালাল তারা মুসলমান না । আর ভারতের দালাল মানে হিন্দুদের দালাল ।

ঘাতক দালাল রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের এই যে দেশপ্রেমহীন ধর্মীয় গোঁড়াময় অপরাজনীতি তা তারা স্বাধীনতা পরবর্তী ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক বাঙলাদেশেও ছড়িয়ে দিচ্ছে । তারা ভারতের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে এই দেশের মানুষের ভেতর পাকিস্তানের প্রতি প্রেম ভালোবাসা জাগিয়ে তুলতে চায় । জন্ম দিতে চায় ধর্মভিত্তিক পশ্চাৎপদ একটি রাষ্ট্রের । আর তাতে পানি দিচ্ছে এই দেশের বিএনপি ।

এইদেশে বিএনপি হলো জন্মযুদ্ধে পরাজিত শক্তি ঘাতক দালাল রাজাকার যুদ্ধাপরাধী জামাতিদের রক্ষাকবচ । তাই বিএনপি জামাতিদের পক্ষ হয়ে জামাতিদের ফায়দা দেওয়ার জন্য এই দেশে ভারত বিদ্বেষ ছড়িয়ে হিন্দু মুসলমান ইস্যুটিকে জিইয়ে রাখে । এই বিএনপির জন্যই মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাঙলাদেশ গড়া সম্ভব হচ্ছে না ।

বন্ধু হিন্দুও হলেও ভালোবাসবো
শত্রু মুসলমান হলেও ঘৃণা করবো ।
ভারত হিন্দু হলেও বাঙলাদেশের বন্ধু
পাকিস্তান মুসলমান হলেও বাঙলাদেশের শত্রু ।
ভারতকে ভালোবাসি
পাকিস্তানকে ঘৃণা করি ।

জয় বাঙলা ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:৫৭
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হয় না দেখা আর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


কতদিন হলো, হয় না দেখা
রঙধনু মেলা, শীত কাটে না
আর ঐশ্বর্য উষ্ণ বেলা
চঞ্চলতায় টিপুটিপু খেলা;
বিস্মৃতির পাতায় ডুবে যাচ্ছে
চাঁদ না দেখার আর্তনাদ,
ভেঙ্গে পরেছে অমোঘ
অপেক্ষায় দীর্ঘশ্বাস ঘুণ ধরেছে
নুনে পরেছে সময়ের ছলনা
মুখ ফিরেছে বাতাসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×