somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"জয় বাঙলা" হোক উগ্রদেশপ্রেমিকের একমাত্র পবিত্র কালেমা"।

১৭ ই জুলাই, ২০২৫ সকাল ৯:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"গোপালগঞ্জ থেকে গোটা বাঙলাদেশ হোক একাত্তরের লাশে ভরা রণাঙ্গন। আমাদের মৃত্যু যেনো হয় বাঙলাদেশ রক্ষায়,উগ্রদেশপ্রেমিকের পবিত্র কালেমা ‘জয় বাঙলা’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে। আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু চাই না; আমাদের মৃত্যু হোক ইতিহাসের বুকে, যেখানে পতপত করে উড়বে জয় বাঙলা খচিত স্বাধীনতার পতাকা।”

বাঙলাদেশ এখন আর শুধু একটি ভূখণ্ডের নাম নয়; এটি এখন এক বিপ্লবের নাম, এক কাব্যিক জ্বালাময় রাজনৈতিক আদর্শের নাম, যার শিরোমণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং যার প্রাণস্পন্দন হলো ‘জয় বাঙলা’। যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি ইঞ্চি জমি দখলে নিতে চায় শকুনের মতো উড়ে আসা বিশ্বাসঘাতক চক্র, তখন আমাদের মনে রাখতে হয়, বাঙালিরা যখন লাশ হয়ে পড়ে, তখন তারা শোকাহত হয় না; তারা দেয় জাগরণ।

গোপালগঞ্জ শুধু একটি জেলা নয়, এটি এখন আত্মত্যাগের প্রতীক, একটি আদর্শিক রণভূমি। যারা আজ ইতিহাস ভুলে গেছে, তাদের মনে করিয়ে দিতে হবে গোপালগঞ্জের মাটির নিচে শুয়ে থাকা প্রতিটি শহীদের কণ্ঠ থেকে আজও ভেসে আসে, "মিয়া ভাইরে বাঁচাও"। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, তারা কেবল মুজিবকে নয়, পুরো বাঙলাদেশকে বাঁচিয়েছে। তারা আমাদের শেখিয়েছে, কোনো প্রেম মরে না যদি তা জাতির জন্য হয়, কোনো আদর্শ মরে না যদি তা ‘জয় বাঙলা’র উপর দাঁড়িয়ে থাকে।

যখন বাঙালি লাশ হয়ে যায়, বঙ্গবন্ধু তবুও লাশ হয়ে যাওয়া বাঙালির আত্মায় বেঁচে থাকেন।

“বাঙালিরা মইরা গেছে, বঙ্গবন্ধু মরে নাই”—এই বাক্য শুধুমাত্র কোনো গানের লাইন নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। এই সত্য জানে তারা, যারা ১৫ই আগস্টের ট্রাজেডিকে হৃদয়ে ধারণ করে পথ চলে। যারা জানে, বঙ্গবন্ধুকে যারা শারীরিকভাবে হত্যা করেছিল, তারা আদর্শকে কখনও হত্যা করতে পারেনি।

আজ যারা রাষ্ট্রদ্রোহের পতাকা উড়ায়, যারা শহীদের রক্তের বিনিময়ে গঠিত রাষ্ট্রে বসে ষড়যন্ত্র করে, যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই:
তোমাদের অস্তিত্বই অস্থায়ী, কারণ তোমাদের ইতিহাস নেই, উত্তরাধিকার নেই। তোমাদের পূর্বপুরুষ বাঙলাদেশের জন্মদাত্রীদের ধর্ষণ করেছে, আর আমাদের পূর্বপুরুষ ৭ই মার্চে দাঁড়িয়ে বলেছিল, "এইবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম।"

ওরা চোখ রাঙ্গায়, গোপালগঞ্জ বাঙলাদেশ হয়ে বীরোচিত জবাব দেয়। যখন একেকটা মিডিয়া হাউস একেকটা এনজিও মুখে গণতন্ত্র আর পিছনে পশ্চিমা গোয়েন্দার চক্রান্তে লিপ্ত থাকে, তখন গোপালগঞ্জ আমাদের শেখায় কীভাবে লাশ হয়ে লড়তে হয়।

“এই মৃত দেহে কিসের এত মৃত্যু ভয়?”—এই একটি লাইনেই লুকিয়ে আছে আমাদের প্রতিবাদের চূড়ান্ত দর্শন।

গোপালগঞ্জের মানুষ ‘মিয়া ভাই’ বাঁচাতে গিয়ে নিজের বুক ছিঁড়ে দিয়েছে। আজ আমাদের সবার উচিত গোপালগঞ্জ হয়ে ওঠা। সবাইকে একেকটা জাগ্রত গোপালগঞ্জ বানিয়ে ফেলা।

জয় বাঙলা: উগ্রদেশপ্রেমিকের একমাত্র ধর্ম, একমাত্র শ্লোগান।

আজ সময় এসেছে ‘জয় বাঙলা’কে কালেমা হিসেবে শপথ নেওয়ার।
যে শ্লোগান উচ্চারিত হয়েছিল স্বাধীনতার আগে, যেটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্রের সমতুল্য- সেটিই হোক আজকের প্রতিরোধের ভাষা।

এই মৃত্যু উপত্যকায় দাঁড়িয়ে, আজ যারা ‘নিরপেক্ষ’ হয়ে রক্তের ইতিহাস ভুলে গেছে, তাদের বলে দেই— নিরপেক্ষতা আজ কাপুরুষতা। এই রাষ্ট্রের রক্তে ‘জয় বাঙলা’, এই রাষ্ট্রের গর্ভে শেখ মুজিব, এই রাষ্ট্রের আত্মায় গোপালগঞ্জ, আর এই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শুধুই মুজিববাদ।

যদি মৃত্যু আসে, আসুক; কিন্তু তা যেনো হয় বুক ফুলিয়ে ‘জয় বাঙলা’ উচ্চারণের মধ্যে দিয়ে। আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু চাই না। আমরা চাই, মৃত্যু হোক রাষ্ট্র রক্ষায়, মৃত্যু হোক ইতিহাসের অংশ হয়ে।

আজ থেকে আমরা সবাই গোপালগঞ্জ। আজ থেকে আমাদের হৃদয়ে একটাই পতাকা, একটাই নাম: মুজিব।
এবং আমাদের একটাই কালেমা: “জয় বাঙলা।”
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০২৫ সকাল ১০:১৯
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর সম্পূর্ণ সময়সূচি

লিখেছেন শিমুল মামুন, ২৭ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০২


২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর সম্পূর্ণ সময়সূচি (FIFA World Cup 2026 Round of 32 schedule)
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ীবিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ফিক্সচার (World Cup knockout fixtures Bangladesh time) নিচে দেওয়া হলো:

২৮ জুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্রিকেটের রাজাকার ট্যাগ পাচ্ছেন বুলবুল আহমেদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌর বিদুৎ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১৮


আমি বিটিভি দেখতে ভালোবাসি। একদিন বিটিভিতে একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। এটি কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ছিল না। সেখানে তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী/মন্ত্রী সোলার বিদ্যুৎ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

বাধ্যতামূলক ভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে।
বর্তমানে আইন অনুযায়ী এনআইডি নবায়নের সুযোগ থাকলেও সেটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×