somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

-একটি কাল্পনিক পিকনিক-

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একটি অজপাড়া গাঁয়ের নাম পাটাচোরা। তিন দিকে কুলকুল করে বইছে নদী। গ্রামটির ভেতর দিকে খালের পাড় ধরে মাটির রাস্তা শহরমূখী। আর নদী পেরিয়ে পাকা রাস্তা। পাখির গানে মুখরিত সারা গ্রাম। নদীর তীর ঘেঁষে পাটাচোরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সাহিত্য ও শীর্ষ (কাল্পনিক নাম) এ স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওরা। একই গাঁয়ে থাকে তারা। একজন আরেক জনকে ছাড়া থাকতেই পারে না। অথচ এবারের বার্ষিক পিকনিকে সাহিত্য যায়নি। শীর্ষ একাই গিয়েছে। খুব রাগ জমেছে সাহিত্যের। তাই তো স্কুলে এসেই শীর্ষ বলল সাহিত্যকে, কাল তুই পিকনিকে না গিয়ে হুট করে নানারবাড়ি গেলি কেনো!? সাহিত্য মনের কোণে ব্যথা জমা রেখে মুচকি হাসার চেষ্টা করলো।


জানিস, পিকনিকে গিয়ে কত আনন্দ করলাম? কত কিছু দেখলাম?
-সত্যিই, মুজিবনগর খুব সুন্দর?
-সুন্দর মানে কী? ওখানে না গেলে অনেক কিছুই অজানা থেকে যেতো।
-তাহলে বল না ঐতিহাসিক মুজিবনগর সম্পর্কে? খুব শুনতে ইচ্ছে করছে। বল না শীর্ষ?
-তাহলে বলছি মন দিয়ে শোন।

পিকনিকে যাওয়ার আগে তোদের বাড়িতে গিয়ে তোর কথা খালাম্মাকে জিজ্ঞাসা করলাম। তোর মা বললেন, তুই সকালেই তোর নানা বাড়ি গেছিস। ‘মনটা ভার করে স্কুলে চলে এলাম। এরপর সবাই স্কুল থেকে দল বেঁধে নৌকায় করে নদী পার হয়ে পিকনিকের জন্য ভাড়া করা বাসে উঠলাম। বার্ষিক পিকনিকে যাচ্ছি কত আনন্দ! পাকা রাস্তার দুই ধারে গাছগাছালিতে ভরা। দূরে সবুজ শ্যামল মাঠ, মায়াবী নীল চাদর মুড়িয়ে আছে। ধীরে ধীরে চলল বাস। আর আমরা চলন্ত বাসে আনন্দে আত্মহারা। মুজিবনগর স্পটে ঢুকতেই সুউচ্চ গেট পেরিয়ে বাস পার্কিংয়ে দাঁড়াল। নামতেই দেখতে পেলাম সারি সারি বাস, ট্রাক, ছোট ছোট যানবাহনে ঠাসা; লোকে লোকারণ্য।

প্রথমে সড়কের বাম দিকে মনোরম লোকেশনে সজ্জিত বিশাল পার্ক। বিনোদনের জন্য নির্মাণ করেছে ফুলের ছায়ায় গোলটেবিলে বসার স্থান। ভেতরে আম বগানের ছায়া। পাখদের গানে মুখরিত আম বগানে আড্ডার সুন্দর পরিবেশ। শহীদ মিনারের দর্শনীয় স্তম্ভ। চার পাশে সজ্জিত বিভিন্ন নকশার ভবন যেনো এক একটি চমক। পোষ্ট অফিস, থানা, মসজিদ, পিকনিকে আসা লোকজনের রান্না করার স্থান। এক কথায় অপূর্ব। কী নেই মুজিবনগরে? হরেক রকম ফুলে ফুলে সাজানো বিস্তীর্ণ এক আকর্ষণীয় ভূমি। হেলিপ্যাড, বিশাল আকৃতির বাংলার মানচিত্র। কী আঁকানো নেই সেখানে? বঙ্গোপসাগর, নদী-নালা আর ভেতরে সৌন্দর্যের বিবরণ। জেলাভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দারুণভাবে চিত্রিত হয়েছে ছবিতে।

-

জানিস সাহিত্য, তোকে একটি কথা না বলে আর পারছিনে। ওখানে এমনভাবে বাংলাদেশের স্থপতির ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, যা তাকালেই স্মৃতির দুয়ার খুলে যায়। শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের চিত্রসহ বিভিন্ন বৈঠকের নান্দনিক রুপের এক একটি ভাস্কর্য আছে সেখানে। শীর্ষের কথা শুনতে শুনতে সাহিত্যের দুই চোখ বেয়ে পানি ঝরতে থাকে!
-কী রে সাহিত্য তুই কাঁদছিস কেনো?
-কাঁদবো না কী করবো? আমারও খুব যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু...
-কিন্তু কী হলো সাহিত্য?
-তুই যখন সকালে আমাদের বাড়িতে আমাকে ডাকতে গিয়েছিলি, তখন আমি ঘরের চাটাইয়ের ফাঁক দিয়ে তোকে বারবার দেখছিলাম আর কাঁদছিলাম!
-তাহলে তুই আমার সাথে কথা বললি না কেনো!?
-কী করে বলব? তুই তো জানিস, আমার বাবা প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। একদিন তিনি কাজে যান তো পাঁচ দিন বসে থাকতে হয়। অসুস্থতার কারণে রোজ কাজ করতে পারেন না। ঘরে দু’টি বোনই তো প্রতিবন্ধী। একজনের চোখ অন্ধ, আরেকজন পঙ্গু। আর মা পরের বাড়িতে কাজ করেন। কোনো রকমে খেয়ে না-খেয়ে আমাদের দিন চলে। অভাবে অনটনে, রোগে শোকে আমাদের সংসার! পিকনিকে যাওয়ার খরচই তো নেই! তবে যাবো কী করে!?
-আর কাঁদিসনে বন্ধু। সামনের বার্ষিক পিকনিকে আমিই তোকে নিয়ে যাবো। এ কথা বলে শীর্ষ বুকে জড়িয়ে ধরে সাহিত্যকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ৯:৩৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×