somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

-চরম গরমে, মরি শরমে!-

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গরম কী : গরম হচ্ছে এমন এক অদৃশ্য বস্ত যা একজন শুকনো মানুষকেও ভিজিয়ে তোলে নিমিষেই! আপনি হয়তো ভেবে পাচ্ছেন না গরমে কী করে ভেজে। আপনার ধারণার সাথে সরাসরি বিরোধিতা করে বলতে পারি গরমে মানুষ ঘামে ভিজে একেবারে চৌচির হয়ে যায়। তা ছাড়া গরম হচ্ছে মানুষের একটি ইতিবাচক দিক, যা কোনো ব্যক্তি তার নিম্ন পদস্থ ব্যক্তিদের শাসাতে এক ধরনে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। তবে আদিমকালে এই অস্ত্র খুব ভালোভাবে ব্যবহৃত হয়ে এলেও বর্তমানে এই অস্ত্র অনেকের তেমন কোনো কাজে আসছে না বলেই প্রতিয়মান।

গরমের প্রকারভেদ : সমাজে নানা রকম গরম দেখা যায়। এই গরম দেখে আপনি কখনো নরম হন আবার কখনো চরম হন। তবে নরম চরম যাই হন না কেন, মাঝে মধ্যে এই গরম আপনার শরমও কেড়ে নেয়! তাহলে জেনে নিন কিভাবে আপনি শর্মিত হন :

 আপনার বউ অত্যন্ত রাগী। আপনি তাকে ভয়ের চোটে অত্যন্ত ইজ্জত দিয়ে চলেন। কিন্তু তাকে যতই ইজ্জত দিয়ে চলেন, তিনি যদি কোনো কারণে একবার গরম হয়েই যান তাহলে আপনার চৌদ্দগোষ্ঠীসহ আপনাকে এমনভাবে সাইজ করবে, আপনি আপনার ইজ্জত বাঁচাতে কোনো প্রতিত্তোর করারও সাহস পাবেন না। কারণ জানেন তো গরম তেলে পানি দিলে তা আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এমতাবস্থায় আপনাকে নিয়ে শংকিতবোধ করছি, কখন যে- গরম বটি কিংবা গরম খুন্তি দিয়ে গায়ের ওপর আলতো করে দু-চারটা বসিয়ে দেয়। সো শর্মিত না হওয়ার কোনো কারণ নাই!
 আপনার ক্লাসের বাংলা স্যার অত্যন্ত শান্ত-সরল প্রকৃতির। ভুলেও তিনি ক্লাসে পড়া ধরেন না কিংবা কারো উপর অহেতুক রাগ করেন না। কালেভদ্রে যদি মনে চায় তবেই হয়তো। কিন্তু তিনি যদি একবার কোনো কারণে গরম হয়ে যান তাহলে ওই দিন সব ছাত্রছাত্রীর অবস্থা যে খারাপ হবে তা চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারি। কারণ স্বাভাবিক স্যার যখন অস্বাভাবিক হয়ে মাইর আরম্ভ করেন তখন ছাত্রছাত্রীরা বাংলা ভুলে সংস্কৃত কিংবা হিব্রু ভাষায়ও উত্তর দিতে দ্বিধা করেন না! কারণ ঠেলার (গরম) নাম ... আব্বা!
 আপনার অফিসের বস বেহুদাই রেগে থাকেন। কাজ করেছি বললেও রেগে যান আবার না করেছি বললেও রেগে যান। কিন্তু এই রাগের ওপর যদি তিনি মাথা গরম করে ফেলেন তাহলে তো আর তাকে বেঁধে রাখাও মুশকিল। তখন তিনি আপনাকে এমন সব কথা বলে বসতে পারেন যাতে আপনি অফিস ছেড়ে পালিয়ে আসার পথ খোঁজা ছাড়া উপায় থাকেনা। বসের এই অহেতুক মর্জি (গরম) আপনাকে সকলের সামনে ভীষনভাবে শর্মিত করবেই।

গরমের খাবার-দাবার : আপনি জাতীয় খাদক ইনস্টিটিউটের সভাপতি বলেই ধরে নিচ্ছি। খাওয়া শুরু করলে এমন পরিমাণে খান আশপাশের কোনো লোক হাপুস-হুপুস শব্দ ছাড়া আর কিচুই শুনতে পায় না। কিন্তু গরমে যদি এই পরিমাণ খাওয়া জারি রাখেন তাহলে আপনার পেটের যে বারোটা বাজবেই পাশাপাশি আশপাশের সবাই আপনার কর্মকান্ড দেখে যে শর্মিত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। এমনি গরমে শরম পাওয়ার আরো কিছু নমুনা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:

 গরমের ভর দুপুরে আপনি পথ চলতে চলতে ক্লান্ত শরীরে চিন্তা করলেন সামনের দাঁড়িয়ে থাকা বড় গাছটির ছায়ায় একটু বিশ্রাম নিয়ে তারপর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বিশ্রাম নেয়ার এক পর্যায়ে আপনি আবিষ্কার করলেন গাছের ওপর থেকে কিছু একটা আপনার মাথায় পড়ে তা আস্তে আস্তে নীচের দিকে নেমে আসছে। যখনি বুঝতে পারলেন গাছের ওপরে থাকা পাখিটি আপনাকে ট্রয়লেট ভেবে তার প্রাকৃতিক কর্ম সেরে নিয়েছে আর এজন্য আপনার গন্তব্যে যাওয়া হচ্ছে না। তখন একদিকে আপনার মেজাজটা হবে গরম অন্যদিকে আপনি যে কিঞ্চিত শর্মিত হওয়ার কারণে বাকী পথ চলতে পারছেন না, তা খু্বই স্পষ্ট।

 তবে এই গরমের সৃজনে মাঝে মাঝে বৃষ্টিও হয় এবং রাস্তা-ঘাট কদাচিৎ পিচ্ছিল হতে দেখা যায়। যখন আপনি রাস্তা চলবেন তখন একা চলার চেষ্টা করুন এবং আশেপাশে দেখে চলুন। বলা তো যায় না কখন কোথায় হঠাৎ আপনার পা দু’টো আকাশ ছুঁতে ওপরের দিকে উঠে আসে। যদি উঠে আসে তবে ধরে নিন আপনি একটু শর্মিত হয়েছেন বৈকি।

গরমে ত্বকের সুরক্ষা : আপনার চেহারার যে অবস্থা আফ্রিকার নিগ্রোরাও যদি এই চেহারা দেখে তাহলে আমি নিশ্চিত তারা হার্টফেল করবে। এই চেহারা নিয়ে আপনি বাইরে বের হতে লজ্জাবোধ করেন। লজ্জা ঢাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। বাজারে যত প্রকার ডাল আছে তা এনে ভালোভাবে বেটে মুখের ওপর ডিস্টেম্পার করে দিন। তারপর গরমে রোদে বের হযে যান। কেউ আপনাকে চিনবে না এমনকি আপনি আপনার নিজেকেও হয়তো চিনতে পারবেন না। তবে কেউ চিনুক আর না চিনুক চলচিত্র পরিচালকেরা ঠিকই চিনে নেবে। এবং পরিচালকের পরবর্তী ছবির জন্য হয়তো আপনিই হতে পারেন কাঙ্খিত ব্যক্তি (কিঞ্চিৎ শরমের ব্যাপারতো থাকছেই)।

গরমে কোথায় ঘুরতে যাবেন : আপনি একজন সুন্দরী ললনা। এই গরমে আপনি ঘুরতে না চাইলেও আপনার আশপাশের যত পুরুষ আছে তাদের নাকে রশি দিয়ে ঘুরাতে পারেন। আবার রশি নিয়ে বেশি টানাটানি করতে যাবেন না তাহলে নাক সুদ্ধ ছিঁড়ে চলে আসার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ছেঁড়া নাক নিয়ে আপনি আবার নাকানি চুবানি খেয়ে থাকতে পারেন। ফলে পারিবারিক শরমের খাঁচায় বন্দি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

গরমের ফল-ফলাদি : ফরমালিনের এই যুগে ভুলেও কোনো ফল খেতে যাবে না। তাহলে তার ফলাফল বেশি সুবিধা হবে না। এই ফল আপনার বিফলে যেতে পারে। হতে পারে ফুড পয়জনিং জাতীয় কিছু একটা। তবে একটা ফল আছে যা খেলে আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। এবং খেতেও খুব সুস্বাদু, এই ফলের নাম ‘লাউ’। আমি একশত ভাগ নিশ্চিত, আপনি সব যায়গায় খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে শরম পেলেও ‘লাউ’ খাওয়ার সময় আপনি কিঞ্চিত পরিমাণও শরম পাবেন না। :P B-)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×