
চার নাম্বার রোডের রাব্বানী টি-স্টলে চায়ের কাপে কোনো রকম ঝড়-বৃষ্টি উঠানো ছাড়াই ঝাল ঝাড়ছিলেন পৌনে বয়সের মুরব্বি আব্দুল আলিম। ঝাড়ের বিষয়বস্তু ছিলো-‘দ্রব্যমূল্য’। বাজার ব্যাগের দিকে তাকিয়ে উপস্থিত সবাইকে দেখিয়ে বলছেন-এই যে ব্যাগটি দেখতে পাচ্ছেন এটিই আমাদের শেষ করে দিয়েছে! এখন এটির দিকে তাকালেই আমার জিদ চেতে! আমার মন চায় পেট্রল ঢেলে এটি জ্বালিয়ে দিই। তারপর কিছু ঢালি নিজের গতরে। কথাগুলো বলে থামতে না থামতেই শুরু করলেন এলাকার হাফ বয়সের মুরব্বি আব্বাস উদ্দীন। তবে ঝড়-বৃষ্টি বাদ রেখে নয়। অবশ্য চায়ের কাপেও নয়। ঝড় উঠালেন তিনি পানের খিলিতে। বাবা জর্দার মাত্রা ইচ্ছে মতো বাড়িয়ে দিয়ে কষে কষে কয়েক চিবুনি দিলেন খিলিতে। তার পর প্রশ্নের স্বরে বললেন-কথাটি ঠিক বুঝতে পারলাম না। আব্দুল আলিম ঝড়ের মাত্রা বাড়িয়ে জানতে চাইলেন-কী বুঝতে পারলেন না মিয়া!?
দুনিয়াতে থাকেন না, নাকি!? থাকলে তো বুঝতে পারার কথা। অমনি ফিক করে পানের পিক ছুড়ে দিয়ে আব্বাস উদ্দীন বললেন-তা যথেষ্ট বুঝতে পেরেছি। তবে আপনার জিদ আসলেই চেতে কি না, সেটি আমি বুঝতে পারলাম না। কারণ সত্যিই যদি জিদ চেততো, তাহলে জিদের চোটে বাজার ব্যাগে নয়; পেট্রল আগে নিজের গতরে ঢালার কথাটিই বলতেন। বাজার খেয়ে সাবাড় করেন আপনি! আর কিনা পেট্রল আগে ঢালতে যান বাজার ব্যাগের ওপর! এরপর আব্দুল আলিম আর কিছু বলার সুযোগ পায় না। কারণ আচমকা মুখ গলাতে শুরু করে দোকানি গোলাম মোস্তফা ভাই নিজেই। তবে ঝড় উঠানো মোটেও বাদ দিয়ে নয়।
সিগারেটের পাছায় সুখটানের মাধ্যমে ঝড় উঠিয়ে মুখ গলায় সে। অবশ্য টান দেয়ার সাথে সাথে চাপা বাঁকা করার বেলায় কোনোই কার্পন্য করতে দেখা যায় নি তাকে। বলে-ধুর মিয়ারা, এত দ্রব্যমূল্য দ্রব্যমূল্য করেন; কিন্তু আজ পর্যন্ত এই মূল্যের একটি পশমও ছিঁড়তে পারেন নি কেউ! তার চেয়ে বরং মানুষমূল্য মানুষমূল্য করতে পারেন কি না দেখুন। এই মূল্যটি যদি একটু বাড়াতে পারেন তাহলে গোটা দেশে তথা তামাম দুনিয়াতে এইসব দ্রব্যমূল্য অটো পদ্ধতিতেই তলের দিকে নামতে থাকবো। তখন আর কেউ কারো উপর অহেতুক ঝাড় ঝাড়তে পারবো না কিংবা তা করতেও হবেনা।
মূলতপক্ষে গোলাম মোস্তফা ভাইয়ের কথায় একটি শিক্ষনীয় বিষয় আছে, আর তা হলো-পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত দেশ তথা দেশের জনগণের প্রয়োজনে যারা জীবন বাজি রেখেছেন কিংবা মুখ খুলে সঠিক কথাটি বলেছেন, পালন করেছেন অগ্রগামী ভূমিকা তারা সকলেই ঐ টি স্টল মালিক গোলাম মোস্তফা ভাইয়ের মতই লোক। আর যারা কারণে অকারণে ঝাড় ঝাড়েন তারা সব সময় রেখে যাওয়া গোলাম মোস্তফা ভাইদের অর্জনগুলোর সুবিধাভোগী উচ্ছিষ্ট দানব। অকৃতজ্ঞ আর কাহাকে বলে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


