আমাদের দেশের খনিজ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জনাব নসরুল হামিদ এমপি গতকালকে একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, উনি যতদিন ক্ষমতায় আছেন ঠিক ততদিন আর কেউ ইনশাল্লাহ নতুন গ্যাস সংযোগ পাবেন না! ... ব্যাপারটা ভাবতে হচ্ছে!
শুনেছি, লিবিয়ার গাদ্দাফি তার দেশের সকল নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে গ্যাস দিয়েছিলেন। যদিও কিছু কালপিট মানুষের জন্য দেশটির আজ এমন দুরাবস্থা। দেখেছি মালোয়েশিয়ার সরকার তার দেশের নাগরিকদের জন্য বিদ্যুৎ বিল ২০ রিংগিত (৪০০ টাকা) এর নিচে হলে টাকা দিতে হবে না। যদি পরপর দুই মাস ২০ রিংগিত এর নিচে বিল হয় তবে পরবর্তী মাসে ৪০ (৮০০ টাকা) রিংগিত এর নিচে হলে বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে না। এমন কি যদি পানির বিলও ২০ রিংগিত এর নিচে হয় তবে সেই বিল দিতে হয় না অর্থাৎ বিলের খাতা থাকে (০) শূন্য টাকাতে। তাদের দেশের মানুষ যদি এমন সব সুযোগ সুবিধা পেতে পারে নিজ দেশের সরকার থেকে... তাহলে আমরা কেনো তা পেতে পারি না!? অথচো আমাদের দেশের সরকারী নিয়ম অনুযায়ী, পানি/বিদ্যুৎ/টেলিফোন/গ্যাস এই সবের লাইন সংযোগ থাকলেই ব্যবহার হোক কিংবা না হোক প্রতি মাসেই গ্রাহককে ন্যুনতম একটা বিল পরিশোধ করতেই হবে! তার পরিমাণও কিন্তু কম নয়। কম করে হলেও ১৫০ টাকা। তারপরেও আমরা আটকে গেলাম উন্নয়ণশীল দেশের ‘উ’ এর মধ্যে।
এখন বলতে হয়, এই দেশে অনেক কিছুই উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও কেনো এই দেশের নাগরিকদের এমন অগ্নিশর্ত মেনে নিতে হবে!? আমাদের দেশে বিভিন্ন জেলাতে প্রায় সময় দেখা যায় কল থেকে, পুকুর থেকে, ধানক্ষেত থেকে এমন কি ঘর এর নিচ থেকে গ্যাস, তেল জাতীয় তরল পর্দাথ বের হচ্ছে। এবং সরকার মাঝে মাঝে ঘোষণাও করেছে যে, উৎপাদনের উদ্বৃত্ত অংশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রাফতানি করবে। অথচো আবার তারাই বলে আমাদের দেশে এইসবের অনেক ঘাটতি আছে! তাই রাফতানি করা যাবে না বরং আমাদের দেশের গ্যাসের চাহিদা মেটানো জন্য অন্য দেশ থেকে আমদানী করতে হবে! আজকের পত্রিকায়ও দেখেছি ব্রাক্ষ্মমবাড়িয়ায় ধানক্ষেতে তেল উঠতেছে। বলতে চাচ্ছি, যারা উৎপাদন না করেই এতো উন্নত তারা উৎপাদনের সুযোগ পেলে কতদূর যেতো বলা মুশকিল।
আমরা শুনেছি সৌদি আরবসহ বিভিন্ন আরব দেশগুলো, তাদের খনি থেকে উৎপাদিত তেল বিক্রি করে মুনাফা ভাগ করে দেয় সেসকল এলাকার লোকদের; যেখানে ঐ খনিটা পাওয়া গেছে। এবং তাদের কাছে তেল বিক্রি করে বাজার দরের অর্ধেক দামে। বলতে চাচ্ছি তারা কি দেশ হিসেবে গরিব নাকি আমাদের তুলনায় অনেক বেশি সম্পদশালী এবং ধনী? অথচো আমাদের দেশের বিভিন্ন যায়গায় থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে যেখান থেকে গ্যাস তোলা হচ্ছে সেখানকার কোনো লোককে এই প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস কমদামে পাওয়ার তেমন কোনো সুবিধাই দেয়া হয় না! এমনকি উৎপাদিত খনিজ পদার্থ বিক্রির পর তার থেকে কোনো মুনাফাও তাদেরকে দেয়া হয় না। তারপরেও বিশ্ববাজারের প্রাকৃতিক সম্পদের দামের চেয়ে আমাদের দেশে সেসকল প্রাকৃতিক সম্পদের দাম অনেক বেশি দিয়ে আমাদের ভোগ করতে হয়।
সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, যদি প্রাকৃতিক সম্পদকে সংকুচিত করে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নিশ্চয় সেটা হবে আত্মঘাতী এবং ভূল পদক্ষেপ। যদি প্রাকৃতিক সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা না হয় (বিশেষ করে প্রতিদিনের রান্নাঘরে প্রয়োজনীয় গ্যাস) গ্যাস মজুদ কমের অজুহাত দেখিয়ে তাহলেই তো বলতেই হয়, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে যারা একটি গাড়ী কেনেন তারা টাকা দিয়ে তেল কিনেও গাড়ী চালাতে পারবেন। কিন্তু এই অমূল্য সম্পদ গাড়ীতে ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে কিছু লোকের মুনাফা অর্জনের পথটুকুই সরকার সহজ করে দিয়েছে বলে মনে করি। যদি সত্যিই আমাদের চাহিদার তুলনায় গ্যাস মজুদ কম থাকে তবে প্রতিটি গাড়ীতে গ্যাস দেয়া বন্ধ করে দেয়া হোক এবং বাড়ীঘরে গ্যাসের সংযোগ বলবৎ রাখা হোক। কারণ এখন পর্যন্ত গ্যাসের গাড়ীতে আমরা তেলের ভাড়াই দিয়ে আসছি। আর এই নৈরাজ্যের জন্যও সরকার দায়ী। সেখানে গ্যাসের মজুদ কম কোনো অজুহাত হতে পারে না।
উন্নয়নের মূলা দেখিয়ে গ্যাসের লাইন বিচ্ছিন্ন করা আদৌ যৌক্তিক বলে মনে করি না। বিষয়টা ভেবে দেখার ও অনুরোধ করছি।
বিস্তারিত আজকের কাগজে : তেলের খনি পাওয়া গেছে ব্রাক্ষ্মবাড়িয়ার আশুগঞ্জে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



