somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

।। স্বামী ।।

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৫:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



(জুয়েল ভাই থেকে প্রণীত একটি অট্ট হাসির বাস্তবিক রচনা)

ভুমিকাঃ স্বামী একটি গৃহপালিত প্রাণী। জন্ম থেকে এরা গৃহে পালিত না হলেও স্বামী হবার পর এরা এমনিতেও কাজ ছাড়া গৃহের বাহিরে খুব একটা থাকতে পারে না। যদিও পুরুষ মানুষ বিয়ের মাধ্যমে স্বামীতে রূপান্তরিত হয়ে থাকে। এদের সঠিকভাবে পোষ মানালে ঘর ও বাইরের সমস্ত রকম কাজে ব্যবহার করা যায়। অবশ্য আধুনিক যুগে ‘বফ’ (বয়ফ্রেন্ড) নামেও এক প্রজাতি দেখা যায়, যারা স্বামীর অল্টারনেটিভ হিসেবে কবুল বলা ছাড়া বাকি সব কাজ কাজ করে থাকে!!! (মৃদু হাসি)

খাদ্যঃ এরা সাধারনত সর্বভুক প্রাণী। অনেক ক্ষেত্রে এরা স্ত্রীর স্বযত্নে তৈরী করা (প্রায় অখাদ্য) যে কোন খাদ্য প্রশংসার সহিত সানন্দে ও তৃপ্তি সহকারে খেয়ে হজম করে।

আকৃতিঃ স্বামীর সাধারনত দুইটি হাত, দুইটি পা, দুইটি কান, দুইটি চোখ, একটি ভুঁড়ি, দুর্বল মেরুদণ্ড এবং একটি মগজবিহীন মাথা থাকে। (মৃদু হাসি)

প্রকৃতিঃ এরা সাধারণত নিরীহ, শান্তিপ্রিয় ও ঝগড়াঝাঁটিতে অপটু প্রকৃতির হয়ে থাকে। বিয়ের আগে এরা বাঘের মত থাকলেও বিয়ের পর তারা ঝগড়ার সময় বিলাই এবং শপিং এর সময় গাধার মত স্ত্রীর বাহনে পরিনত হয়! তাই এরা স্ত্রী নামক (প্রভুর) অবাধ্য হয়ে চরম অশান্তি ভোগের আশঙ্কায় চিরকাল মিনমিনে স্বভাবের মিনসে হয়ে থাকে। এরা পুরনো কথার দিনক্ষণ, নাড়ি-নক্ষত্র সেভাবে মনে রাখতে পারেনা বলে ঝগড়া বা বিতর্কে প্রায়শই পরাজিত হয়।

উপকারিতাঃ স্বামী উপকারী ও ভীষণভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি প্রাণী। এরা ছুটির দিনে সংসারের নানাবিধ কাজ, যেমন প্যান পরিস্কার, ফ্যান পরিষ্কার প্রভৃতি করে থাকে। এছাড়া এরা স্ত্রীর শাড়ির কুঁচি ধরে স্ত্রীকে সাজগোজেও সাহায্য করে। এরা ভ্রমণের সময়ে কুলীরূপ ধারণ করে ভারী ব্যাগ বহন করে! কখনো বা এরা ড্রাইভার রূপ ধারণ করে স্ত্রীকে লং ড্রাইভে নিয়ে যায়। কর্মক্ষেত্রে অবসরের পর এদেরকে নাতি নাতনী প্রতিপালন, ঘর পাহারা, বারবার দোকানে গিয়ে প্রয়োজনীয় টুকিটাকি জিনিস কিনে আনা– এই ধরনের গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

অপকারিতাঃ অনেক প্রকার স্বামী অফিসের কাজে অধিকাংশ সময় দিন কে; রাতকরে বাড়ী ফেরে। অনেকে আবার বাড়ীতে অফিসের কাজও নিয়ে আসে। তাই এরা স্ত্রীকে তাদের চাহিদামতো সময় দিতে পারে না। অধিকাংশ স্বামীই স্ত্রীকে শপিং- এ নিয়ে গিয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। অনেকে স্ত্রীর সাথে “কাসোটকি জিন্দেগী” (হিন্দি জগত) মার্কা সিরিয়াল দেখা, না দেখা নিয়ে কাউমাউ করতে করতে স্ত্রীর জিন্দেগীই বরবাদ করে ফেলে।

উপসংহারঃ গৃহপালিত প্রাণীদের মধ্যে স্বামীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রাণী বিরল। যে আবিষ্কারক ‘স্বামী’ নামক ‘দামী’ পোষ মানানো যোগ্য ‘প্রাণী’-টি আবিষ্কার করেছিলেন, তাঁর কাছে পৃথিবীবাসী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৫:২২
১০টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×