
আজকে আমি এমন কিছু লেখা লিখবো যা হয়তো সবার কাছে ভালো লাগবে না। বিশেষ করে যারা নিজের ইচ্ছাকেই বেশি মূল্যায়ন করে থাকেন। আর কারো না (মা-বাবা-ভাই-বোন-পাড়া-প্রতিবেশি-বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজন)। তবুও আমি এমন লিখা আমার ওয়ালে রেখে দিতে চাই। কারণ আমি তা কখনোই করিনি এবং কখনোই তা করবো না। আর কাউকে এই ব্যাপারে সহ্যও করতে পারি না। হয়তো তাদেরকে প্রতিহত করার মতো আমার কাছে এমন কোনো ক্ষমতা নেই। তবুও লিখছি-
কেউ প্রেম করে/কেউ পরকিয়া করে//
আমার হয়েছে কোনটা!
শুধু দেখে যায় আমার দু’চোখটা।। (শিল্পি আইয়্যূব বাচ্চুর একটি গানের কথা অবলম্বনে)।
আমি গত ৫ বছর ধরে আমার খুব কাছাকাছি থাকা ৩জন মানুষকে (এরা বয়সে আমার থেকে কম করে হলেও নয় বছরের ছোট হবে, এদের মধ্যে একজন সদ্য বিবাহিত আর অপর দুজন অবিবাহিত) যেভাবে দেখে আসছি তার বিশ্লেষণ ঠিক উপরে উল্লেখিত গানের লাইনের অনুকূলে। অর্থাৎ এরা কেউ প্রেম করে আবার কেউ করে পরকিয়া। এদের ক্ষেত্রে আমরা আবার কেউ কেউ কখনো বলে ফেলি, ওর মনে হয় কন্যা রাশি। তা না হলে, মেয়েরা ওকে এতো পছন্দ করে কেনো! সব মেয়েরা ওর কাছে আসতে চায় কিংবা সঙ্গে থাকতেও চায়! আরো অবাক লাগে, যখন প্রত্যেক মেয়েই জানে যে ঐ ছেলের সাথে আরো দু-এক জনের সাথে চলছে; আর তা জেনেও অন্য মেয়েরা ঐ ছেলের সাথে স্বাভাবিক এবং মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক সম্পর্ক চালিয়ে যায় কিংবা যেতে আগ্রহ প্রকাশ করে!
আমার মাঝে মাঝে মনে হয় ইদানিং কালের মেয়েরা নিজ ঘরে থাকার চেয়েও পরিচিত বন্ধুর সঙ্গেই বেশি সময় থাকতে পছন্দ করেন! আর এই পর্যন্ত ঐ তিনটি ছেলের অতীত থেকে এই পর্যন্ত আমি তাই দেখে আসছি। ছেলেদেরকে কখনো মেয়েদের সাথে গিয়ে রাতঅব্দি বাহিরে থাকতে দেখিনি, যদিও তারা প্রতিদিনই একসঙ্গে বাহিরে যায়। কিন্তু তারপরেও তারা (মেয়েরা) তাদের বাসায় না গিয়ে ছেলের বাসায় চলে আসে এবং একসঙ্গে নিজের অস্বাভাবিক মানসিকতাও শেয়ার করে বসে। যা স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। যদিও করার কিছুই থাকে না। এদের মধ্যে একজন আবার গোপনে শেয়ার করেন না বরং সবাইকে দেখিয়ে শেয়ার করতেই বেশি পছন্দ করেন! ওনারা, ওনাদের প্রেমকে এতো বেশি উপরে তুলে ফেলেছেন যেখান থেকে আরো উপরে ওঠার কোনো সিড়িও আজঅব্দি তৈরি হয়নি; অর্থাৎ ছাদে থাকা পানির ট্যাংক এর উপরে! সেখানে ওঠে ওনারা, ওনাদের সবকিছু বিনিময় করেন, যা দেখে সত্যি বিবেকহীন হয়ে পড়ি!
এখন হয়তো আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন, তুমি সন্ধ্যায় ছাদে উঠো কেনো? কারণ আমি থাকিই বাড়ির সবচাইতে উপরের তলায় অর্থাৎ ছাদ বেষ্টিত রুমে। যেখান থেকে সবকিছু দেখা যায়। দেখার জন্য পূর্ব পরিকল্পনার প্রয়োজন হয় না। এদের মধ্যে মেয়েরাই বেশি উৎসাহ বোধ করতে দেখি। আমি অবাক হই, এরা কি প্রেম করে নাকি পতিতাবৃত্তি করে বেড়ায়!!!
আর পরকিয়ার কথা কি বলবো-অবাক হই, নিজ ঘরে (স্বামীর ক্ষেত্রে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে স্বামী) থাকা সত্ত্বেও তৃতীয় কোনো ব্যক্তির প্রতি নিজের সর্বোচ্চ ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতে দেখে! আর পুরুষেরা করবে না কেনো? যখন পুরুষ কোনো সুন্দর কথা বলে তখন মেয়েটি বলে তুমি বাড়িয়ে বলছো!? অর্থাৎ পুরুষটিকে আরো বেশি কিছু বলার এবং করার জন্য মেয়েটিই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উৎসাহ দিয়ে যেতে থাকে! অথচো নিজ স্বামীর ক্ষেত্রে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে স্বামী কে তা বলার জন্য যেনো সময়ও থাকে না। আর পরকিয়ায় আসক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রকৃত স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসার পরিপূর্ণভাবও তখন অনুপস্থিত থাকে। আর সেটা হবে না কেনো? কারণ নিজ স্বামী কিংবা স্ত্রীকে সেই ভালোবাসা দেয়ার মতো ভালোবাসা তো আর তার স্টকে নেই! বাকি থাকে শুধু তিক্ততা আর খারাপ আচরণ। যার ফলশ্রুতিতে প্রকৃত স্বামী-স্ত্রীর সংসার জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিষার অন্ধকার। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুটি পরিবারের সুখের মেল-বন্ধন! এটাই কি সংসার জীবনের মূল লক্ষ্য!? নাকি পরকিয়া প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিয়ে একটা নয়া কৌশল!!!
তবুও হয়তো তাদের কাছে এসব করতে বেশি ভালো লাগে কিন্তু আমরা তা দেখে প্রতিনিয়তই লজ্জায় মরছি!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৭ বিকাল ৫:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



