somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

-প্রেম এবং পরকিয়া অতঃপর-

০৮ ই মে, ২০১৭ বিকাল ৫:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকে আমি এমন কিছু লেখা লিখবো যা হয়তো সবার কাছে ভালো লাগবে না। বিশেষ করে যারা নিজের ইচ্ছাকেই বেশি মূল্যায়ন করে থাকেন। আর কারো না (মা-বাবা-ভাই-বোন-পাড়া-প্রতিবেশি-বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজন)। তবুও আমি এমন লিখা আমার ওয়ালে রেখে দিতে চাই। কারণ আমি তা কখনোই করিনি এবং কখনোই তা করবো না। আর কাউকে এই ব্যাপারে সহ্যও করতে পারি না। হয়তো তাদেরকে প্রতিহত করার মতো আমার কাছে এমন কোনো ক্ষমতা নেই। তবুও লিখছি-

কেউ প্রেম করে/কেউ পরকিয়া করে//
আমার হয়েছে কোনটা!
শুধু দেখে যায় আমার দু’চোখটা।। (শিল্পি আইয়্যূব বাচ্চুর একটি গানের কথা অবলম্বনে)।

আমি গত ৫ বছর ধরে আমার খুব কাছাকাছি থাকা ৩জন মানুষকে (এরা বয়সে আমার থেকে কম করে হলেও নয় বছরের ছোট হবে, এদের মধ্যে একজন সদ্য বিবাহিত আর অপর দুজন অবিবাহিত) যেভাবে দেখে আসছি তার বিশ্লেষণ ঠিক উপরে উল্লেখিত গানের লাইনের অনুকূলে। অর্থাৎ এরা কেউ প্রেম করে আবার কেউ করে পরকিয়া। এদের ক্ষেত্রে আমরা আবার কেউ কেউ কখনো বলে ফেলি, ওর মনে হয় কন্যা রাশি। তা না হলে, মেয়েরা ওকে এতো পছন্দ করে কেনো! সব মেয়েরা ওর কাছে আসতে চায় কিংবা সঙ্গে থাকতেও চায়! আরো অবাক লাগে, যখন প্রত্যেক মেয়েই জানে যে ঐ ছেলের সাথে আরো দু-এক জনের সাথে চলছে; আর তা জেনেও অন্য মেয়েরা ঐ ছেলের সাথে স্বাভাবিক এবং মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক সম্পর্ক চালিয়ে যায় কিংবা যেতে আগ্রহ প্রকাশ করে!

আমার মাঝে মাঝে মনে হয় ইদানিং কালের মেয়েরা নিজ ঘরে থাকার চেয়েও পরিচিত বন্ধুর সঙ্গেই বেশি সময় থাকতে পছন্দ করেন! আর এই পর্যন্ত ঐ তিনটি ছেলের অতীত থেকে এই পর্যন্ত আমি তাই দেখে আসছি। ছেলেদেরকে কখনো মেয়েদের সাথে গিয়ে রাতঅব্দি বাহিরে থাকতে দেখিনি, যদিও তারা প্রতিদিনই একসঙ্গে বাহিরে যায়। কিন্তু তারপরেও তারা (মেয়েরা) তাদের বাসায় না গিয়ে ছেলের বাসায় চলে আসে এবং একসঙ্গে নিজের অস্বাভাবিক মানসিকতাও শেয়ার করে বসে। যা স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। যদিও করার কিছুই থাকে না। এদের মধ্যে একজন আবার গোপনে শেয়ার করেন না বরং সবাইকে দেখিয়ে শেয়ার করতেই বেশি পছন্দ করেন! ওনারা, ওনাদের প্রেমকে এতো বেশি উপরে তুলে ফেলেছেন যেখান থেকে আরো উপরে ওঠার কোনো সিড়িও আজঅব্দি তৈরি হয়নি; অর্থাৎ ছাদে থাকা পানির ট্যাংক এর উপরে! সেখানে ওঠে ওনারা, ওনাদের সবকিছু বিনিময় করেন, যা দেখে সত্যি বিবেকহীন হয়ে পড়ি!

এখন হয়তো আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন, তুমি সন্ধ্যায় ছাদে উঠো কেনো? কারণ আমি থাকিই বাড়ির সবচাইতে উপরের তলায় অর্থাৎ ছাদ বেষ্টিত রুমে। যেখান থেকে সবকিছু দেখা যায়। দেখার জন্য পূর্ব পরিকল্পনার প্রয়োজন হয় না। এদের মধ্যে মেয়েরাই বেশি উৎসাহ বোধ করতে দেখি। আমি অবাক হই, এরা কি প্রেম করে নাকি পতিতাবৃত্তি করে বেড়ায়!!!

আর পরকিয়ার কথা কি বলবো-অবাক হই, নিজ ঘরে (স্বামীর ক্ষেত্রে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে স্বামী) থাকা সত্ত্বেও তৃতীয় কোনো ব্যক্তির প্রতি নিজের সর্বোচ্চ ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতে দেখে! আর পুরুষেরা করবে না কেনো? যখন পুরুষ কোনো সুন্দর কথা বলে তখন মেয়েটি বলে তুমি বাড়িয়ে বলছো!? অর্থাৎ পুরুষটিকে আরো বেশি কিছু বলার এবং করার জন্য মেয়েটিই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উৎসাহ দিয়ে যেতে থাকে! অথচো নিজ স্বামীর ক্ষেত্রে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে স্বামী কে তা বলার জন্য যেনো সময়ও থাকে না। আর পরকিয়ায় আসক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রকৃত স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসার পরিপূর্ণভাবও তখন অনুপস্থিত থাকে। আর সেটা হবে না কেনো? কারণ নিজ স্বামী কিংবা স্ত্রীকে সেই ভালোবাসা দেয়ার মতো ভালোবাসা তো আর তার স্টকে নেই! বাকি থাকে শুধু তিক্ততা আর খারাপ আচরণ। যার ফলশ্রুতিতে প্রকৃত স্বামী-স্ত্রীর সংসার জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিষার অন্ধকার। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুটি পরিবারের সুখের মেল-বন্ধন! এটাই কি সংসার জীবনের মূল লক্ষ্য!? নাকি পরকিয়া প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিয়ে একটা নয়া কৌশল!!!


তবুও হয়তো তাদের কাছে এসব করতে বেশি ভালো লাগে কিন্তু আমরা তা দেখে প্রতিনিয়তই লজ্জায় মরছি!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৭ বিকাল ৫:২৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×