
আজ পবিত্র শবে বরাত। তাৎপর্যপূর্ণ এই রাতে বিশেষ বরকত হাসিলের মানসে মুসলিম সম্প্রদায় রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ-মাহফিল, নফল নামাজ আদায় ও কোরআন তেলাওয়াতে মশগুল থাকেন। আর পরবর্তী দিন রোজা রাখেন। কেউ কেউ তিনটি নফল রোজা পালন করেন।
শবে বরাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ নামেও অভিহিত করা হয়। শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়। হাদীস শরীফে একে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা মধ্য শাবানের রাত্রি নামে অভিহিত করা হয়েছে। আর পক্ষকাল পরেই আসবে মাহে রমজান। এর পর সূচনা ঘটবে রহমত বরকত নাজাতের মাস রমজানের। লাইলাতুল বারাআত মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা প্রশিক্ষণের পূর্ব প্রস্তুতিস্বরূপ। এজন্য একে বলা হয় রমজানের মুয়াজ্জিন বা পতাকাবাহী। মূলত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে এ রাতটি শবে বরাত হিসেবে পরিচিত। আরববাসীরা এ রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান’ বলেন।
হাদীসে বর্ণিত আছে-সূর্য অস্তমিত হওয়ার পরক্ষণ থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নূরের তাজালি পৃথিবীর কাছাকাছি আসমানে প্রকাশ পায়। তখন আল্লাহপাক বলতে থাকেন আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী? যাকে আমি ক্ষমা করব, আছে কি কেউ রিজিকপ্রার্থী? যাকে আমি রিজিক প্রদান করব। আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত? যাকে আমি বিপদমুক্ত করব। আল্লাহপাকের মহান দরবার থেকে প্রদত্ত এ আহ্বান অব্যাহত থাকে ফজর পর্যন্ত। বস্তুত শবে বরাত হলো আল্লাহপাকের মহান দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময়। আল্লাহপাকের নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় এই শবে বরাত।
অতএব, প্রতিটি কল্যাণকামী মানুষের প্রধানতম কর্তব্য হলো এ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা। আল্লাহপাকের ইবাদত-বন্দেগিতে পূর্ণ রাত অতিবাহিত করা। সাধ্যমত দান-খয়রাত করা। আর এই রাতে বেশি থেকে বেশি নফল নামাজ আদায় করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজাত হাসিল করে নেয়া। এই মহান রাতে সবাই যেনো মহান আল্লাহ কে এবাদতের মাধ্যমে খুশি করে নিজের দুনিয়া ও আখিরাতকে সুসজ্জিত জান্নাত বানিয়ে নিতে পারি সেই প্রত্যাশাই করি। সবাইকে লাইলাতুল বারাত এর মোবারকবাদ জানাই এবং আগত মাহে রমজানকে মনে প্রাণে গ্রহণ করে নিজের জিন্দেগীর মাকছাদ হাসিল করে নেয়ার অনুরোধ জানাই।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



