হ্যাঁ তিনিই বাঙালির জাতির জনক এবং তিনিই জয় বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা। আর তাঁকেই ভালবেসে বরণ করেছিল সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাকে নিয়ে লিখা শুরু করা যাবে কিন্তু সে লিখার শেষ নাই।
কলমের কালিও শেষ পর্যন্ত ঐ ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের কাছে নত করে এক অপার শ্রদ্ধাভরে।
আমি তাঁরে নিয়ে আজ লিখবো না, লিখবো ৭১ সালে তাঁর আদর্শকে বরণ করে নেওয়া এক পিতা ও পুত্রের গল্প,
না এটা কোন শহর নয়, একটি গ্রাম চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩০ কি.মি দক্ষিণে আনোয়ারা উপজেলা বরুমচড়া ইউনিয়ন।
মোহাম্মদ ইদ্রিস এই এলাকার এক সাধারণ তরুণ। তার বাবা তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং একনিষ্ঠ আওয়ামীলীগ সমর্থক নুর আহমদ।
ইদ্রিস কিন্তু রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল না তার পিতার মতো। কিন্তু স্বপ্ন দেখতো আর দশটা মুক্তিকামী মানুষের মতো দেশটারে জয় বাংলা স্লোগানে স্বাধীন করতে।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলা মাকে বাঁচাতে ইদ্রিস মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিলো।
৯ অক্টোবর ১৯৭১, একই উপজেলার বটতলী রুস্তম হাটে ধরা পরলেন মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস। তাঁকে দেখে রাজাকার কুলাঙ্গাররা আর অপেক্ষা করলো না ৩ সে.মি গুলিতে তাঁকে থেথলিয়ে ফেলা হলো। কিন্তু তিনি তখনও মরে নি। মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটপট করতে করতে তিনি গড়িয়ে গড়িয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেই।
কিভাবে যেন রাজাকাররা বুঝতে পারে ইদ্রিস মারা যান নি। রক্তের দাগ অনুসরণ করে রাজাকাররা ইদ্রিসকে আবার ধরে ফেলে এবং কয়েক রাউন্ড গুলি করে অনেকে বলে ঐটা আর শরীর ছিল না কিছু তরল খন্ডকার মাংশপিন্ড।
ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস হত্যার খবর তার পিতা জানতে পারে। রাজাকার কমান্ডার এই ফাঁকে এক কূট ষড়যন্ত্র আটে ইদ্রিসের পিতা নূর আহমদকে ধরার জন্য কারণ তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধের একান্ত সমন্বয়ক । ছেলে মরে নি এরকমই একটি চিঠি দিয়ে ছেলেরে নিয়ে যেতে রাজাকার অফিসে আসতে বলে রাজাকার কমান্ডার।
চিঠির জবাবে নূর আহমদ একজন পিতা কি বলেছিলেন, জানেন? সে এমন এক জবাব যা শুধুই বাঙালি পিতারাই পারে।
তিনি বলেছিলেন, "এদেশের হাজার ছেলের মতো আমার পুত্রও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হবে, তাতে কষ্ট কিসের? "
সন্তানের রক্ত আর ঐ পিতার কঠিন ব্যক্তিত্বের এক দেশপ্রেমে আমরা পেয়েছি একটি লাল সবুজের পতাকা।
আর ঐ পতাকাটি বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনার, আমার এবং সবার।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





