somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিক্রি হয়ে গেছে আমাদের রেলমন্ত্রী, ফুটপাতের দোকানে।

০৮ ই মার্চ, ২০১২ বিকাল ৫:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা একটু আগের। বন্ধুকে নিয়ে রওয়ানা হলাম শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এর দিকে। আমার বন্ধু আগামীকাল ঢাকা যাবে। উদ্দেশ্য আগামীকালের যে কোনো ট্রেনের একটা টিকেট সংগ্রহ করা। স্টেশনে দেখলাম কোনো ভিড় নেই। ভাবলাম অনায়াসে টিকেট পেয়ে যাবো। কাউন্টারে গিয়ে বললাম, "আগামীকালের একটা টিকেট দিন।"
প্রাগৈতিহাসিক যুগের চশমা পরিহিত ভদ্রলোক চশমা ব্যবহারের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে বাঁকা চোখে বললেন, "১১ তারিখ পর্যন্ত কোনো টিকেট নেই।"
মনে হলো ধাক্কা খেলাম। বললাম, "টিকেট নেই মানে!"
"নেই মানে নেই, সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে।" বলে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
মনটা খারাপ হয়ে গেল। টিকেট পাওয়ার জন্য ১২ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করার সময় নেই আমাদের। তাই বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। পরিচিত এক ভদ্রলোককে বলাতে উনি বললেন, "এখানে কালোবাজারি ছাড়া টিকেট পাওয়া যায় না। এদিকে এসো, দেখি যদি কিছু ব্যবস্থা করতে পারি। আমাদের একটু দূরে দাঁড়াতে বলে উনি পাশেই এক দোকানে গেলেন। কিছুক্ষণ পরই চোখের ইশারায় ডাকলেন আমাদের। ভদ্রলোক বললেন, "এর সাথে কথা বলো, আমার কাজ আছে, আমি চললাম।" দোকানদারের সাথে আমাদের যে কথা হলো তার মর্মার্থ এই যে, আমাদের টিকেট পেতে হলে আজ রাত ১২ টার পর এইখানে আসতে হবে। যদিও টিকেটের দাম ১৩৫ টাকা, উনাকে দিতে হবে ২০০ টাকা। ভ্যাট, আয়কর (!) কর্তন বাবদ কিছু হয়তো থাকবে উনার জন্য। এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে উনি বললেন, "বলা যাবেনা, তবে টিকেট পেতে হলে অত্যন্ত গোপনে আসতে হবে ঠিক সময়ে।" রাজী হলাম আর ভাবতে থাকলাম। এই হলো আমাদের রেল ব্যবস্থা।

টিকেট পাওয়ার সময় এখনও আসেনি। তবে জানি, সময়মতো পৌঁছাতে পারলে টিকেট পাবো।

রেল বাংলাদেশ সরকারী সম্পদ। সরকারী সম্পদ বলেই ভাগ-বটোয়ারা একটু বেশী। এই ভাগাভাগির সর্বশেষ অংশীদার ফুটপাতের এক দোকানদার।

ক'দিন আদেই রেলমন্ত্রী বললেন, "প্রধানমন্ত্রী আমাকে ভাঙা-চোরা ট্রেনে চড়িয়ে দিয়েছেন।" বাহ! ট্রেনের দুরাবস্থা দেখে উনি ভয় পেয়ে গেলেন। সুপুষের মত সাহস দেখাতে পারলেন না। ট্রেনের যদি বেহাল দশা না-ই হবে, তবে আপনার মত নায়কের হাতে এর দায়িত্ব কেন দিবে সরকার? কদিন আগেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বড় বড় বুলি ছাড়তেন। আজ ভাঙা-চোরা ট্রেন দেখে ভয় কেন?

ভয় ভাঙা-চোরা ট্রেন দেখে, না ফুটপাতের ঐ দোকানদারকে?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১২ বিকাল ৫:৪৭
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×