ডিজনী-পিক্সার প্রোডাকশন হাউজের যৌথভাবে কাজ মানে অ্যানিমেশন প্রেমীদের জন্য বিশেষ কিছু। অ্যানিমেশন মুভি লাভাররা ডিজনী-পিক্সার কোলাবরেশনের পূর্ববর্তী মুভি গুলোর কথা অবশ্যই জানেন।

ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্স ও পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিও, এই দুই প্রোডাকশন হাউজ মিলে আমাদের উপহার দিয়েছেন “টয় স্টোরি” “ফাইন্ডিং নিমু” “দ্যা ইঙ্ক্রিডিবল” “র্যাটাটুই” “ওয়াল-ই” “আপ” “মনস্টার ইউনিভার্সিটি” এর মত অসাধারন ও মজাদার(কিন্তু শিক্ষণীয়) সব অ্যানিমেশন মুভি। এ বছর মুক্তি পেয়েছে তাদের নতুন অ্যানিমেশন মুভি “ইনসাইড আউট”,যেটি ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে ও সমালোচকদের কাছে দারুণ ভাবে সমাদৃত হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে অস্কারেও নমিনেশন পেতে পারে।
ইনসাইড আউট (২০১৫)
জনরাঃ অ্যানিমেশন । এডবেঞ্চার । কমেডি
আইএমডিবি রেটিংঃ ৮.৫/১০
রটেন টম্যাটোসঃ ৯৮% ফ্রেশ
ভয়েসঃ অ্যামি পয়েলার, ফিলিস স্মিথ, লুইস ব্ল্যাক,বিল হ্যাডার, মিলডি কেনি প্রমুখ
পরিচালকঃ পিট ডকটর
ট্রেইলারঃ
মুভির মুল বিষয়বস্তু অনেক সৃজনশীল,ব্যতিক্রমী ও উৎসাহমুলক। মুভির ট্যাগ লাইন দেখলেই প্লট সম্পর্কে বেসিক ধারনা পাওয়া যাবে “Meet the little voices inside your head”। মানুষ তার অনুভূতি দ্বারায় পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। একজন মানুষের আবেগ ও অনুভূতিগুলোকে যদি বাস্তব চরিত্রে রূপ দেয়া হয়, কেমন হবে বিষয়টা? এমনি একটি ইন্টারেস্টিং থিমের উপর তৈরি হয়েছে এই মুভিটি। মুভির শুরুটা হয় মিনেসোটায় জন্ম নেয়া এক শিশু “রাইলি” এর মাধ্যমে, যার ব্রেইনের হেড_কোয়ার্টারে(!) পাঁচটি (Joy, Sadness, Disgust, Fear, and Anger) অনুভূতি বসবাস করে এবং সেখান থেকে রাইলি কে পরিচালনা করে। আনন্দ, দুঃখ,বিরক্তি, ভয় আর রাগ এর সমন্বয়ে চলতে থাকে “রাইলি” এর জীবন।
মানব জীবনের সেরা কিছু ফিলোসফি এই মুভিতে কোন কমপ্লিকেশন ছাড়াই খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জীবনের এই পাঁচটি অনুভূতি যেন একে অন্যের পরিপুরক। মুভিটিতে পরিবার,বন্ধুত্ব,অনেস্টির মত জীবনের নানাবিদ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো কে রুপক অর্থে খুব সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে,যে গুলো বুঝার জন্য আপনাকে সিনেমা বিশারদ হতে হবেনা। আর পরিচালক অ্যামেরিকার বিখ্যাত সব সাইকোলজিস্ট দ্বারা সিনেমার প্লট পরিমার্জিত ও সংশোধন করেছেন।
তাহলে বুঝায় যাচ্ছে এই মুভির গল্পের স্বচ্ছতার উপর কতটা জোর দেয়া হয়েছে।

এবার আসি মুভির লেখক ও পরিচালক “পিট ডক্টর” প্রসঙ্গে।
এক ইন্টার্ভিউতে তাকে নিজের সম্পর্কে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করা হলে জবাবে তিনি “geeky kid from Minnesota who likes to draw cartoons” এই কথাটি বলেন
পিট ডক্টর Monsters Inc. (2001), Up (2009) মুভির পরিচালক ও লেখক, WALL-E (2008), Toy Story (1995), Toy Story 2 (1999) মুভির লেখক হিসেবে কাজ করেছেন। সুতরাং সে তার কাজের প্রতি কতটা ডেডিকেটেড তা এই মুভি গুলোর সাফল্য দেখেই বুঝা যায়। আশা করি “ইনসাইড আউট” মুভির জন্যও অ্যানিমেশন প্রেমীরা তাকে মনে রাখবেন।
আর অ্যানিমেশন এর গ্রাফিক্স ও অন্যান্য টেকনিক্যাল বিষয় গুলো আমি কম বুঝি সো বিশদ আলোচনায় যাচ্ছিনা, তবে মুভিটা অনেক কালারফুল লেগেছে, কন্সেপ্ট এর উপর মিল রেখে কালার সিলেক্ট তাছাড়া অনুভুতি গুলোর (পাঁচটি ক্যারেক্টার) কালার সিলেকশন এর ক্ষেত্রে অনেক মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন যার দরুন খুব সহজেই ক্যারেক্টার গুলোর সাথে কানেক্ট হয়া গেছে। ক্যারেক্টার গুলোর রঙই যেনো তাদের নিজেদের আইডেন্টিটি রিপ্রেজেন্ট করছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও ঠিকঠাক ছিল,পরিমিত। পরিশেষে অসাধারন একটি অ্যানিমেশন মুভির অভিজ্ঞতা অর্জন।
সুতরাং “অ্যানিমেশন শুধু শিশু-কিশোরদের জন্য” এই ধারনা থেকে বেরিয়ে এসে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই দেখে ফেলুন এই মুভিটি। সম্ভব হলে পরিবারের শিশু-কিশোরদের সাথে নিয়ে দেখুন,আশা করি এই মুভিটি তাদের জীবনে অনেক বড় শিক্ষা ও প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




