somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিউঃ Inside Out (2015): আবেগ ও অনুভূতির বাস্তবিক চরিত্রায়ন!

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডিজনী-পিক্সার প্রোডাকশন হাউজের যৌথভাবে কাজ মানে অ্যানিমেশন প্রেমীদের জন্য বিশেষ কিছু। অ্যানিমেশন মুভি লাভাররা ডিজনী-পিক্সার কোলাবরেশনের পূর্ববর্তী মুভি গুলোর কথা অবশ্যই জানেন।


ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্‌স ও পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিও, এই দুই প্রোডাকশন হাউজ মিলে আমাদের উপহার দিয়েছেন “টয় স্টোরি” “ফাইন্ডিং নিমু” “দ্যা ইঙ্ক্রিডিবল” “র‌্যাটাটুই” “ওয়াল-ই” “আপ” “মনস্টার ইউনিভার্সিটি” এর মত অসাধারন ও মজাদার(কিন্তু শিক্ষণীয়) সব অ্যানিমেশন মুভি। এ বছর মুক্তি পেয়েছে তাদের নতুন অ্যানিমেশন মুভি “ইনসাইড আউট”,যেটি ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে ও সমালোচকদের কাছে দারুণ ভাবে সমাদৃত হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে অস্কারেও নমিনেশন পেতে পারে।

ইনসাইড আউট (২০১৫)
জনরাঃ অ্যানিমেশন । এডবেঞ্চার । কমেডি
আইএমডিবি রেটিংঃ ৮.৫/১০
রটেন টম্যাটোসঃ ৯৮% ফ্রেশ
ভয়েসঃ অ্যামি পয়েলার, ফিলিস স্মিথ, লুইস ব্ল্যাক,বিল হ্যাডার, মিলডি কেনি প্রমুখ
পরিচালকঃ পিট ডকটর
ট্রেইলারঃ
মুভির মুল বিষয়বস্তু অনেক সৃজনশীল,ব্যতিক্রমী ও উৎসাহমুলক। মুভির ট্যাগ লাইন দেখলেই প্লট সম্পর্কে বেসিক ধারনা পাওয়া যাবে “Meet the little voices inside your head”। মানুষ তার অনুভূতি দ্বারায় পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। একজন মানুষের আবেগ ও অনুভূতিগুলোকে যদি বাস্তব চরিত্রে রূপ দেয়া হয়, কেমন হবে বিষয়টা? এমনি একটি ইন্টারেস্টিং থিমের উপর তৈরি হয়েছে এই মুভিটি। মুভির শুরুটা হয় মিনেসোটায় জন্ম নেয়া এক শিশু “রাইলি” এর মাধ্যমে, যার ব্রেইনের হেড_কোয়ার্টারে(!) পাঁচটি (Joy, Sadness, Disgust, Fear, and Anger) অনুভূতি বসবাস করে এবং সেখান থেকে রাইলি কে পরিচালনা করে। আনন্দ, দুঃখ,বিরক্তি, ভয় আর রাগ এর সমন্বয়ে চলতে থাকে “রাইলি” এর জীবন।

মানব জীবনের সেরা কিছু ফিলোসফি এই মুভিতে কোন কমপ্লিকেশন ছাড়াই খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জীবনের এই পাঁচটি অনুভূতি যেন একে অন্যের পরিপুরক। মুভিটিতে পরিবার,বন্ধুত্ব,অনেস্টির মত জীবনের নানাবিদ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো কে রুপক অর্থে খুব সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে,যে গুলো বুঝার জন্য আপনাকে সিনেমা বিশারদ হতে হবেনা। আর পরিচালক অ্যামেরিকার বিখ্যাত সব সাইকোলজিস্ট দ্বারা সিনেমার প্লট পরিমার্জিত ও সংশোধন করেছেন।
তাহলে বুঝায় যাচ্ছে এই মুভির গল্পের স্বচ্ছতার উপর কতটা জোর দেয়া হয়েছে।


এবার আসি মুভির লেখক ও পরিচালক “পিট ডক্টর” প্রসঙ্গে।
এক ইন্টার্ভিউতে তাকে নিজের সম্পর্কে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করা হলে জবাবে তিনি “geeky kid from Minnesota who likes to draw cartoons” এই কথাটি বলেন :-P অ্যানিমেশন এর প্রতি তার কমিটমেন্ট ও ভালবাসা তার কাজের মাধ্যমেই অনুধাবন করা যায়, ছয়বার অস্কারে নমিনেশন(একবার জয়ী) সহ পেয়েছেন একাধিকবার পুরস্কার। পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিওর “key figure” বলা হয় তাকে কারন পিক্সারের সব প্রজেক্টেই সে কন্ট্রিবিউট রাখে, কখনো অ্যানিমেটর হিসেবে, কখনো স্ক্রিপ্ট-রাইটার, কখনো আবার পরিচালক অথবা প্রডিউসার হিসেবে।
পিট ডক্টর Monsters Inc. (2001), Up (2009) মুভির পরিচালক ও লেখক, WALL-E (2008), Toy Story (1995), Toy Story 2 (1999) মুভির লেখক হিসেবে কাজ করেছেন। সুতরাং সে তার কাজের প্রতি কতটা ডেডিকেটেড তা এই মুভি গুলোর সাফল্য দেখেই বুঝা যায়। আশা করি “ইনসাইড আউট” মুভির জন্যও অ্যানিমেশন প্রেমীরা তাকে মনে রাখবেন।

আর অ্যানিমেশন এর গ্রাফিক্স ও অন্যান্য টেকনিক্যাল বিষয় গুলো আমি কম বুঝি সো বিশদ আলোচনায় যাচ্ছিনা, তবে মুভিটা অনেক কালারফুল লেগেছে, কন্সেপ্ট এর উপর মিল রেখে কালার সিলেক্ট তাছাড়া অনুভুতি গুলোর (পাঁচটি ক্যারেক্টার) কালার সিলেকশন এর ক্ষেত্রে অনেক মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন যার দরুন খুব সহজেই ক্যারেক্টার গুলোর সাথে কানেক্ট হয়া গেছে। ক্যারেক্টার গুলোর রঙই যেনো তাদের নিজেদের আইডেন্টিটি রিপ্রেজেন্ট করছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও ঠিকঠাক ছিল,পরিমিত। পরিশেষে অসাধারন একটি অ্যানিমেশন মুভির অভিজ্ঞতা অর্জন।

সুতরাং “অ্যানিমেশন শুধু শিশু-কিশোরদের জন্য” এই ধারনা থেকে বেরিয়ে এসে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই দেখে ফেলুন এই মুভিটি। সম্ভব হলে পরিবারের শিশু-কিশোরদের সাথে নিয়ে দেখুন,আশা করি এই মুভিটি তাদের জীবনে অনেক বড় শিক্ষা ও প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৫৮
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×