একটি থ্রিলার জনরার মুভিতে সাধারন দর্শকের কি এক্সপেকটেশন থাকে? থ্রিল, সাসপেন্স, মনের মত ক্লাইম্যাক্স? আর সাথে যদি থাকে ক্রাইম উপকরন ও হিউমার এর ছোঁয়া? তাহলে আর কি লাগে। এমনই সব উপকরনে ভরপুর আর্জেন্টিয়ান ক্লাসিক মুভি “নাইন কোয়িন”।

অরিজিনাল টাইটেলঃ “Nueve reinas”
জনরাঃ ক্রাইম । ড্রামা । থ্রিলার
আইএমডিবি রেটিংঃ ৭.৯/১০
রটেন টম্যাটোসঃ ৯২% ফ্রেশ
দেশঃ আর্জেন্টিনা
কাস্টঃ রিকার্ডো দারিন,গাজটুন পল,লেটেশিয়া ব্রেডিক প্রমুখ
স্টোরি ও পরিচালকঃ ফ্যাবিয়ান বিলাস্কি
◆মুল গল্পঃ
কন আর্টিস্ট হোয়ান (গাজটুন পল), ট্রিক করে একটি কনভিনিইয়েন্স স্টোরের টাকা লুটে নেয়। তার এই অভিনব ট্রিক দূর থেকে ফলো করছিল আরেক কন আর্টিস্ট মার্কোস (রিকার্ডো দারিন)। তো হোয়ান যখন একই ট্রিক ব্যাবহার করে আবার টাকা লুটে নেয়ার চেষ্টা করে তখন সে স্টোরের মালিকের কাছে ধরা পরে যায়। অন্যদিকে মার্কোস নিজেকে পুলিশ অফিসার দাবী করে হোয়ান কে স্টোরের মালিকের কাছ থেকে মিথ্যে গ্রেফতার করে আনে। পরবর্তিতে মার্কোস হোয়ান কে নিজের আসল পরিচয় দেয় ও তাকে কন পার্টনার করার অফার করে, প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে দুজন কন পার্টনার হয়ে যায় এবং ছোটখাটো কন করতে থাকে একসাথে। তো একসময়ে দুজন মিলে “”The Nine Queens” নামক রেয়ার স্ট্যাম্প এর বড় ধরনের কন এর প্ল্যান করে। তারপরেই সিনেমার মুল গল্পের শুরু।
সিনেমাটি দেখার সময় মুল গল্প থেকে ডিস্ট্রাক্ট হওয়ার কোন সুযোগ নেয়। আর একবার দেখে সন্তুষ্ট হওয়ার মত এই সিনেমা নয়। এই সিনেমা দ্বিতীয় বার দেখার পর সবকিছু নতুন করে আরো স্পস্ট মনে হবে।
সিনেমার স্টোরি অনেক ইউনিক ও অভিনব যদিনা আপনি একই কন্সেপ্ট ব্যাবহার করে তৈরি করা অন্যান্য মুভি গুলো না দেখে থাকেন। কারন এই কনসেপ্ট রিলেট করে অনেক সিনেমায় তৈরি হয়েছে। স্পয়লার না দেয়ার স্বার্থে মুভি গুলোর নাম ম্যানশন করা থেকে বিরত থাকলাম। জানার ইচ্ছে হলে গোগোল এর সহায়তা নিতে পারেন।

পরিচালক ফ্যাবিয়ান বিলাস্কির পুর্বের কোন কাজের সাথে আমি পরিচিত নয় (যদিও তার পরিচালিত The Aura সিনেমার সুনাম শুনেছি, অতিসত্বর এই সিনেমাটি দেখে নেব), তবে এই সিনেমায় পরিচালনার পাশাপাশি স্ক্রিপ্টও তার নিজের। এমন দারুন একটি স্ক্রিপ্ট এর জন্য সে প্রশংসার দাবীদার এবং প্রশংসা পেয়েছেনও বিভিন্ন মহলে।
বিখ্যাত মুভি সমালোচক রজার্ট ইবার্ট এই সিনেমার স্ক্রিনপ্লে এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাছাড়া অন্যান্য মুভি ক্রিটিক্সদের কাছ থেকেও রটেন টম্যাটোসে ৯৬% ফ্রেশ্ননেস পেয়েছেন। সিনেমাটি দেখানো হয়েছে বিভিন্ন বিখ্যাত ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। প্রশংসা পেয়েছেন ফেস্টিভ্যাল গুলোতেও।
অভিনয়ের প্রসঙ্গে বলতে গেলে,ফরেন মুভি যারা নিয়মিত দেখেন তাদের কাছে রিকার্ডো দারিন নামটি সুপরিচিত। আর্জেন্টিনা ফিল্ম ইন্ড্রাস্টির ওয়ান অফ দ্যা ফাইনেস্ট এক্টর দারিন। “The Secret in Their Eyes” , “Wild Tales” সিনেমা গুলোতে তার পার্ফমেন্স সারা বিশ্বে সিনেমাপ্রেমিদের কাছে পরিচিতি এনে দিয়েছে। সুতরাং এই সিনেমাতেও তার অভিনয় যথার্থ ছিল। সিনেমায় তার চতুর আচার-আচরণ ও কন আর্টিস্টের লুক পার্ফেক্ট ছিল। তাছাড়া গাজটুন পলও তার ক্যারেক্টারের সাথে সুবিচার করেছেন। কন আর্টিস্ট হিসেবে দুজনের জুটি পার্ফেক্ট ছিল।

সিনেমার অন্যান্য দিক গুলোর (সিনেমাটোগ্রাফি, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক) কথা বললে, খুব একটা আহামরি লাগবেনা কারন সিনেমার মুক্তির সন ২০০০, সুতরাং টেকনিক্যাল দিক গুলো তৎকালীন সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু স্টোরি ও স্টোরি প্রেজেন্ট যখন অসাধারণ তখন এই ব্যাপার গুলো স্কিপ করায় শ্রেয় বলে মনে করি।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




