স্পটলাইট (২০১৫) । Spotlight (2015)
জনরাঃ বায়োগ্রাফি । ড্রামা
আইএমডিবি রেটিংঃ ৮.২/১০
রটেন টম্যাটোসঃ ৯৬% ফ্রেশনেস
কাস্টঃ মাইকেল কিটন, মার্ক রাফালো, র্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামস, লিভ শ্রেইবার, জন স্ল্যাটারি, স্ট্যানলি টুচি, ব্রায়ান ডি’আর্চি জেমস প্রমুখ
রাইটারঃ জশ সিঙ্গার & টম ম্যাককার্থি
ডিরেক্টরঃ টম ম্যাককার্থি

কাহিনী-সংক্ষেপঃ
সাল ২০০১, বিখ্যাত পত্রিকা “The Boston Globe” এর নতুন এডিটর হিসেবে যোগদান করেন মার্টি ব্যারন (লিভ শ্রেইবার), জয়েন করার পরে তিনি “বোস্টন গ্লোবে” পুর্বে প্রকাশিত ক্যাথলিক চার্চের এক ধর্মযাজক/প্রিস্ট এর চাইল্ড-এবিউজ/শিশু নির্যাতনের উপর একটি আর্টিকেল পড়েন এবং এই বিষয় নিয়ে পত্রিকার ইনভেস্টিগেটিং টিম “স্পটলাইট” কে দায়িত্ব দেন। “স্পটলাইট” টিমের কাজ হচ্ছে বিভিন্ন গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে সঠিক তথ্য বের করে আনা। তারপর “প্রিস্ট ও শিশু নির্যাতন” নিয়ে স্পটলাইটের চার সদস্য (মাইকেল কিটন, মার্ক রাফালো, র্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামস, ব্রায়ান ডি’আর্চি জেমস) মিলে তাদের গোপন তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত করতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে নানাবিদ ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সিনেমার সবচেয়ে পজিটিভ দিক হচ্ছে গল্পের সাথে দর্শকদের কানেক্ট রাখা। ব্যাক্তিগত ভাবে যখন থেকে স্পটলাইট টিমের ইনভেস্টিগেশন শুরু হয় তখন নিজেকেও এই টিমের একজন সদস্য মনে হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘটনা রিভিল হওয়ার সাথে সাথে নিজের ভিতর এক প্রকার থ্রিল কাজ করছিল। সিনেমাটি মূলত বায়োগ্রাফিক্যাল ড্রামা হলেও টানটান উত্তেজনারও উপস্তিত ছিল।
হতাশার কথা বললে সিনেমার এন্ডিং নিয়ে কিছুটা হতাশা কাজ করেছে। সম্পূর্ণ সিনেমায় থ্রিল ধরে রাখার পাশাপাশি শেষটাও আরো উত্তেজনার মধ্য দিয়ে হতে পারতো কিন্তু তা না করে পরিচালক সাধারনভাবে উপস্থাপন করে শেষ করেছেন। যদিও সিনেমার ক্ষেত্রে এটা বিগ ইস্যু হিসেবে কাজ করেনি।

সিনেমাটি অ্যামেরিকায় অনেক বছর ধরে ঘটতে থাকা সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে।
সিনেমায় যে ইস্যুটির উপর ফোকাস করা হয়েছে তা খুবই সেন্সেটিভ ইস্যু কেননা শিশু নির্যাতন ব্যাপারটি সাথে রিলেট আছে সংখায় অবাক করা ধর্মযাজকদের নাম। স্বাভাবিক ভাবেই কোন নেগেটিভ ইস্যুতে যখন ধর্মের নাম, ইন্ডিভিজুয়েল ফেইথ, ধর্ম কে রিপ্রেজেন্ট করা ব্যাক্তিদের নাম উল্লেখ থাকে তখন বিষয়টি আরো জটিল আকার ধারন করে। তাছাড়া শিশুদের যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে ধর্মযাজকরা সে পন্থা অবলম্বন করেছিল তা ছিল ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক। সিনেমায় পরিচালক টম ম্যাককার্থি এই বিষয় গুলো খুব সুন্দর ভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
অভিনেতাদের মধ্যে প্রথমে “মাইকেল রেজেন্দেস” চরিত্রে মার্ক রাফালো ইনভেস্টিগেট করতে গিয়ে তার অভিব্যাক্তি,ডায়লগ, চলাফেরায় এক প্রকার পার্ফেকশন কাজ করেছে। যার দরুন পেয়েছেন অস্কারে বেস্ট সাপোর্টিং এক্টর এর নমিনেশন।
আর “ওয়াল্টার রবিনসনে” চরিত্রে মাইকেল কিটনও দারুন অভিনয় করেছেন। মার্ক রাফালো ও মাইকেল কিটন যে দুজন সাংবাদিক এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সেই ওরিজিনাল দুজন পর্দায় তাদের পার্ফমেন্স দেখে বলেছেন “পর্দায় তাদের অভিনয় দেখে মনে হচ্ছিলো আয়নায় নিজেকে দেখছি”
স্ক্রীন-টাইম কম হলেও মার্টি ব্যারন চরিত্রে লিভ শ্রেইবার এর গুরুগম্ভীর এক্টিং ভাল লেগেছে।
নারী সাংবাদিক চরিত্রে র্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামস এর এক্সপ্রেশন, ভিক্টিমদের ইন্টার্ভিউ নেয়ার ধরনসহ সবকিছুতে প্রফেশনাল মনে হয়েছে। পার্ফমেন্স এর কারনে পেয়েছেন অস্কারে বেস্ট সাপোর্টিং এক্ট্রেস এর নমিনেশন। তাছাড়া অন্যান্য চরিত্রে জন স্ল্যাটারি, স্ট্যানলি টুচি, ব্রায়ান ডি’আর্চি জেমস এর পার্ফমেন্সও ভাল লেগেছে।

স্ক্রিপ্ট এর দায়িত্বে থাকা দুজন জশ সিঙ্গার ও টম ম্যাককার্থি তাদের কাজ খুব গুরুত্ব দিয়েই করেছেন কেননা অনেক জটিল গল্প হওয়ার পরেও পর্দায় অনেক সিমপ্লেসিটি কাজ করেছে। যা দর্শকদের জন্য মনস্তাত্ত্বিক আরামদায়ক। পাশাপাশি গল্পের গতির সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এর কম্বিনেশন প্রশংসনীয়। যা গল্প বলার ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করেছে।
বেস্ট মোশন পিকচারসহ সিনেমাটি এবারের অস্কারে ৬ টি ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছে। তাছাড়া তিনটি বিভাগে মনোনীত হয় গোল্ডেন গ্লোবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




