somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"আজকেত দুর্ঘটনার সত্য কাহিনী অবলম্বনে একটি গল্প"

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চিত্রার আজকে খুব সকাল ঘুম ভেঙ্গেছে। সকাল নয় টা বাজে। সকাল নয় টা খুব বেশি সকাল নয়। ভোরের শেষের দিক আর দুপুর শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে মাত্র। কিন্তু চিত্রার কাছে সকাল নয় টা হলো খুব সকাল। ওর কাছে সকাল মানে দুপুর "বার টা"। আজকে একটা বিশেষ দিন, চিত্রাকে বরপক্ষ দেখতে আসবে। তাই আজকে অনেক কাজ। সারাগায়ে হলুদ মাখতে হবে। হলুদ মাখা শেষ হলে গোলাপ জলের পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। চিত্রার মা রোকসানা বেগম দুই দিন আগে অর্ডার করে দ্বিগুণ টাকা বেশি দিয়ে বাগানের টাটকা গোলাপ ফুল আনিয়েছেন। পাত্র বড়লোক, ইউরোপ কান্ট্রির মতো একটা দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং রেংকে জব করছে। সে দেশের সিটিজেন, বিয়ের পর বউ নিয়ে যাবে। যদিও রোকসানা বেগমের ইচ্ছে নেই একমাত্র মেয়েকে বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়ার। কিন্তু মেয়েকে আদর করে কাছে রাখলে হবে না। মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়েছে যখন তখন ত দূরে যেতেই হবে। সেটা দেশ হোক কিংবা বিদেশ। পাত্রপক্ষ রা যাতে মেয়েকে দেখে অপছন্দ না করে সে জন্য এত আয়োজন। কোনভাবেই এই পাত্র হাত ছাড়া করা চলবে না। এর আগে আরও ভাল ভাল পাত্র হাত ছাড়া চিত্রার হেয়ালীপনার জন্য। তাই এবার তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সব কাজ করছেন।
বরযাত্রী রা মাইক্রোবাস করে আসছেন। মাইক্রোবাস টি সিলেট টু ঢাকা যাবে। আনন্দঘন সময়। বরের ফেমিলির সব আসছেন। আজকে বউ পছন্দ করা হবে। গাড়িতে উঠার আগে বর আয়নার সামনে আধঘণ্টা দাঁড়িয়েছিল চুল আছড়াতে। কনে পছন্দ করতে গিয়ে যদি বর পছন্দ না হয় তাহলে সেটা বেশির লজ্জার হয়ে যাবে। গাড়িতে উঠার সময় বরের মা কনের মা রোকসানা বেগম কে জানিয়ে দিয়েছেন যে ওরা গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেছে। রোকসানা বেগম আগেই বরের সব পছন্দের খাবার জেনে নিয়ে সে রুচিমত খাবার তৈরি করেছেন।
যদিও বিয়ে নিয়ে চিত্রার মনে তেমন কোন উদ্রেক নেই তবুও চিত্রাকে দেখে বুঝা যাচ্ছে সে আজ খুব ই উৎফুল্ল। আগের রাত হয়তো অনেক স্বপ্ন দেখেছে গুটি গুটি পায়ে চিত্রা হবু বরের সামনে হেঁটে যাচ্ছে, বরের মা, বোনরা একজন একজন করে চিত্রাকে দেখছেন। কিন্তু এ সময় মেয়েদের মনে যথেষ্ট ভয় ও থাকে। বাংলাদেশে সাধারণত বরপক্ষ কনেকে পছন্দ করলো কি না সেটার উপর বিয়েটা নির্ভর করে। যদি পছন্দ হয় তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি পছন্দ না হয় তাহলে শুনতে হয় নাউজুবিল্লা।
বরেরা রওয়ানা দিয়ে দিয়েছেন শুনে রোকসানা বেগম যেন আরও উদ্রেক হয়ে গেলেন। বাড়ির কাজের বোয়াদের ধমক দিতে লাগলেন, এতক্ষণ ধরে কাজ শেষ হচ্ছে না কেন??
মনে মনে বলতে লাগলেন, আমি মহিলা মানুষ হয়ে আর কত দিক সামলাবো।
চিত্রার বাবার কথা মনে করে কিছুক্ষণ পর পর ই চোখ রাঙ্গিয়ে বলছেন, ঘরে আদা ছিল না। সেজন্য বাজারে একটু আদা আনার জন্য পাঠিয়েছিলাম এখনো আসার নাম নেই। বরের মাইক্রোবাস টি প্রায় আধ রাস্তায় চলে এসেছে। বরের পাশে বরের দুইভাই বসে আছে। বড় ভাইয়ের বিয়ে মানে আনলিমিটেড এনজয়। হাসি টাট্টা করে করেই যাচ্ছে তারা। কিন্তু সব আনন্দ যে সবার কপালে থাকে না। তা কিছুক্ষণ পরেই প্রমাণ হলো। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের আট যাত্রী নিহত হলেন। এর মধ্যে বরসহ বরের দুই ভাই আরও অনেকে একসঙ্গে নিহত হলেন। মুহূর্তেই পালটে গেলো বিয়ে বাড়ির চিত্র। ঘটনা টা শোনার পর বরের বাড়িতে শুরু হলো হাহাকার। রোকসানা বেগমের হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেলো কাচের জগ। কনে চিত্রা কিছু বলতে পারছে না। হাতে মেহেদীর লাল রঙ লাগার আগেই জীবনে রক্তের দাগ গেল। সবকিছু নির্বাক। স্তম্ভিত গ্রামবাসী।
______
এ ঘটনা কোন কাল্পনিক গল্প নয়। সত্যের মিশ্রণে একটি বানানো কাহিনী। শুধু চরিত্র গুলো কাল্পনিক।আজকে শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বর সিলেটের মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রুপশপুর গ্রামের। আমার পাশের গ্রামের চিত্র। আমার আপন খালাতো ভাই বরের সাথে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু শেষমেশ যাওয়া হয় নি। আল্লাহ ওকে রক্ষা করবছেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৪৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×