somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ- প্রথম প্রেম

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিরু আজ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেছে। ক্লাস নাইনে উঠার পর আজকেই প্রথম সকাল উঠেছে মায়ের নিরু নিরু ডাক কিংবা বকবকানি না শোনে। আজকের সকাল নিরুর কাছে হতে যাচ্ছে এক স্মৃতিময় সকাল। নয়টা হওয়ার সাথে সাথেই নিরু স্কুলে যেতে হবে। সেখানে ফারহান ওর জন্য অপেক্ষা করছে। আজ থেকে দুই সপ্তাহ আগে ফারহান জানিয়েছিল, সে নিরুকে ভালবেসে। নিরু সে উত্তর দেয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় নিয়েছিল। কিন্তু আজ দুই সপ্তাহ পর নিরু সে উত্তর জানানোর জন্য ফারহানের কাছে যাচ্ছে। এই দুই সপ্তাহ নিরু ঘুমায় নি। পড়তে পারে নি। সাধারণত ক্লাস নাইনে পড়ুয়া মেয়েরা কোন ছেলের প্রপোজ প্রত্যাখ্যান করে সে ছেলে খারাপ কিংবা দেখতে সুন্দর নয় তার উপর নির্ভর করে নয়। প্রত্যাখ্যানের বড় কারণ হলো ওরা তখনো পরিবারের শাসন কিংবা নিয়ম থেকে বেরোতে পারে না বলে। পরিবারের চোখে আঙ্গুল দিয়ে প্রেম করার মতো সে সাহস তখনো অর্জন করতে পারে না বলে। প্রেম হয়ে যাওয়ার পর যখন ওরা বিপরীত লিঙ্গের তাড়নায় একান্তে আলাপ করতে ক্যাম্পাসের কোন গোপন জায়গায় বসে থাকে তখন তাদের এই আলাপ কেমন আছ, কি করছো এমন কিছু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আর বাকি সময় কেটে যায় তাদের এই একান্ত দেখা করার দৃশ্য টা অন্যকেউ দেখে ফেলছে কি না সে ভয়ে ভয়ে। তারা একজন আরেকজনের হাত ধরে, শরীর স্পর্শ করে উষ্ণ শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য নয়, প্রেম করলে হাত ধরতে হয়, স্পর্শ করতে হয় এগুলো নাটক সিনেমায় দেখে দেখে।
নিরুও আজ ফারহান কে বলতে যাচ্ছে সে ফারহান কে ভালবাসে। এতদিনে ওর পরিবারের শাসন ডিঙ্গানোর মতো সাহস অর্জন করেছে। মাকে কি কৈফিয়ত দিবে সে ক্ষুরাযুক্তি গুলো মনের মধ্যে তৈরি করেছে। ঘুম থেকে উঠেই নিরু খুব সুন্দর করে সেজেছে। এই মুহূর্তে ঘরের মধ্যে ওর সবচাইতে প্রিয় জায়গা হলো আয়নার সামনে। মেয়েরা নিজের প্রথম লজ্জা ভাঙ্গে আয়নার সামনে নিজেকে বারবার অন্যরূপে কল্পনা করে। আয়নায় নিজেকে অন্যরূপে কল্পনা করে তারা যেভাবে লজ্জা পায় ততোটা লজ্জা একজন পুরুষের কাছে গিয়েও পায় না। নিরু আজ আয়নার সামনে নিজেকে একজন প্রেমিকা হিশেবে কল্পনা করে সে লজ্জা টাই পাচ্ছে যে লজ্জা একজন প্রেমিকা তার প্রথম প্রেমে পায়। প্রথম প্রেম এক অদ্ভুত প্রেম। এই প্রেমে যতটা সুখ তার চাইতে কষ্ট বেশি। জীবনের প্রথম প্রেমকে পাওয়ার গন্ডি পেড়িয়ে শেষ জীবন পর্যন্ত সুখি হয়েছেন এমন মানুষ নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান।
নিরু ভালভাবে সাজগোজ করে তাড়াতাড়ি স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। স্কুলে যেতে আধঘণ্টা লাগবে। এই আধঘণ্টা আজ নিরুর কাছে আটঘন্টা সম। নিরুর ধারণা ফারহান অনেক আগেই স্কুলের ক্যাম্পাসে এসে গেছে। শেষ যেদিন ফারহানের সাথে নিরুর দেখা হয়েছিল সেদিন ফারহান বলেছিল, নিরুর উত্তরের আসায় সে প্রতি সকাল স্কুল ক্যাম্পাসের বড় বটগাছ টির নিচে অপেক্ষা করবে।
নিরু আধঘণ্টার রাস্তা পেড়িয়ে এই মুহূর্তে স্কুল ক্যাম্পাসে। সে ডান পাশের ভবনের দিকে আলতো করে উঁকি দিয়ে দেখলো রাগী রাগী চেহারার ম্যাথ টিচার টা সকালের বেইজের স্টুডেন্টস দের বোর্ডে অংক করাচ্ছেন। ফারহান সেখানে নেই। তারমানে বটগাছটির নিচে নিশ্চয়ই বসে আছে। সে অংক টিচারের চোখ ফাঁকি দিয়ে বটগাছটির কাছে গেলো। দেখলো ফারহান সত্যি সত্যি সেখানে বসে আছে কিন্তু নিরু ফারহানের সামনে যাওয়ার মতো সাহস বা শক্তি দুটোই হারিয়ে ফেলেছে। এই মুহূর্তে ফারহানের সামনে গিয়ে ফারহান কে বিব্রত করার মতো শক্তি পাচ্ছে না ও। ফারহান এই মুহূর্তে সামিয়ার হাত ধরে বসে আছে। সামিয়া আর নিরু একি শাখায় পড়ে ঠিক কিন্তু ঘনিষ্ঠতা তেমন নেই। দেখা হলে কথা হত তারপর দুদিক হয়ে দুজন চলে যেতো এই টুকুই সম্পর্ক। এই সামিয়াই ফারহানের হয়ে নিরুর কাছে প্রথম বলেছিল ফারহান নিরুকে ভালবাসে। সামিয়া কয়েকদিন নিরুকে খুব জ্বালিয়েওছে যাতে ফারহান আর নিরুর রিলেশন টা হয়ে যায়। কিন্তু নিরু হুট করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো সাহস ছিল না তাই কয়েকদিন সময় নিয়েছল। কিন্তু এরই মধ্যে ফারহানের সাথে সামিয়ার রিলেশন হয়ে গেছে।
নিরু আর সামনে না গিয়ে পিছু হাঁটতে লাগলো। বিষন্ন মনে রৌদ্রপোড়া কালো চেহারা নিয়ে আস্তে আস্তে বাড়ি চলে এলো। ঘরের বারান্দায় একটি খাঁচায় বন্দি টিয়া পাখি রাখা। নিরু খাঁচায় হাত দিয়ে বললো, টিয়া পাখি আমি তকে খুব ভালবাসি, তুই আমাকে ভালবাসিস ত?? । টিয়া পাখিটি নতুন কথা বলা শিখেছে, সাথে সাথেই টিয়া পাখিটি নিরুর কথা কপি করে বলে উঠলো, ভালবাসি, ভালবাসি। নিরুর মন অদ্ভুতভাবে ভাল হয়ে গেলো, সে তার মনের ডায়রিতে লিখে রাখলো "আমার প্রথম প্রেম খাঁচায় বন্দী এক টিয়া পাখি"
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৩৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গভঙ্গ থেকে চব্বিশ, পূর্ব বাংলার ইতিহাস ও বাংলাদেশের আত্মপরিচয়

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বর্তমান সময়ে একটি বিরাট পরিবর্তনের ধাক্কা লেগেছে যা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং আত্মোপলব্ধির ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ পনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:১১

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

১৪ অক্টোবর মক্কায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×