খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?

পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে, খোদার নাফরমানি করেছিলো শয়তান। তাকে খোদা নিজে অভিশপ্ত করেছেন।
খোদার বিরুদ্ধে গিয়েছিলো ফেরাউন। তাকে শাস্তি দিয়েছেন আল্লাহ্তায়ালা নিজে। নবী মুসা কি দিয়েছিলেন? খোদা কি নবী মুসাকে দিয়ে শাস্তি দিতে পারতেন না? আবরাহা ক্বাবা ধ্বংস করতে চেয়েছিল। খোদা নিজে পাখী পাঠিয়ে তাকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু, কোন মানুষকে দিয়ে শাস্তি দেন নাই।
এভাবে, অনেক কাহিনী আছে পবিত্র কালাম কোরআনে। এমনকি, খোদার পাঠানো নবীদেরকে হত্যা করা হয়েছে অথবা হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে - এমন অনেক আয়াত আছে। কিন্তু, কোথাও কোন নবী বা মানুষকে দিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা পড়ি নাই!!! আমি অনেক খুঁজেও খোদার সাথে নাফরমানি করা কোন মানুষকে অন্য মানুষ দিয়ে হত্যা করান নাই।
শুধু মুসা নবী একজন শত্রুকে এবং খোয়াজ খিজির একজন শিশুকে মেরে ফেলেছিলেন, এমন ঘটনা উল্লেখ আছে। কিন্তু, সেগুলো তো অন্য ঘটনা!!! সেগুলো ধর্মীয় অবমাননার কারণে ছিলো না।
তাহলে? আমরা কোথা থেকে মানুষকে মেরে ফেলার কোরআন এবং হাদিস পয়দা করছি?
দাঁড়ান, আমি বলছি কোথা থেকে পয়দা হয়েছে।
হযরত আবু বকর যখন খলিফা হলেন। তখন একদল মুসলমান আবু বকরের বশ্যতা স্বীকার না করে জাকাত দিতে অস্বীকার করেন। তখন আবু বকর যোদ্ধা খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে সেই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৈন্য পাঠান। সেই বিদ্রোহী ট্রাইবের নেতৃত্বে ছিলেন একজন স্বনামধন্য সাহাবী যিনি অনেক দূর থেকে নবীজির কাছে আসতেন।
খালিদ বিন ওয়ালিদ সেই সাহাবী (রাঃ)-এর স্ত্রীকে ধর্ষন করেন এবং বিদ্রোহ দমন করেন।
এই ঘটনাকে জায়েজ করতে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার কেইস সাজানো হয়। আর, আজকের তথাকথিত মুমিনরা সেই ঘটনাকেই নিজেদের পক্ষে রেফারেন্স হিসেবে নিয়ে আসেন, বুঝে কিংবা না বুঝে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

