somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানসিক সুস্থ্যতা এবং আপনি...

৩১ শে জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৩:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সেদিন এক বন্ধু বলছিলো - এখন তুই কাশি দে, তোকে ২ঘন্টা পরই ডাক্তার-এর কাছে পাঠাবে। কালকে কেউ তোর পার্স ছিনতাই করুক, তুই সাথে সাথে থানায় গিয়ে মামলা করে আসবি। কিন্তু আজকে তুই ডিপ্রেশনে ভোগ, তুই কাউকে সেটা বলবি না! নিজের মধ্যে চেপে রাখবি, বেশি হলে গুগল মামাকে জিজ্ঞেস করে এরপর চুপ করে ঘরে বসে থাকবি। একটা সময় ভয়াবহ ডিপ্রেশনের শিকার হলে হয়ত পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারবে কিন্তু সবাই চেপে যাবে। ভাববে, হায় হায়! আমার মেয়ে পাগল! চুপ চুপ! এই কথা কেউকে বলা যাবে না! আর নাহলে, নিজেরাই তোকে ইচ্ছামত ব্রেইনওয়াশের চেষ্টা করবে, কিছু না পারলে ধরে মারবে। তাও কোন কাউন্সেলর এর কাছে নিয়ে যাবে না। যতই বলিস যে সুস্থতার জন্য শারীরিক, মানসিক আর সামাজিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে সেটায় কাজ হয় না রে বোন! তোর শারীরিক আর সামাজিক সুস্থতা নিয়ে সবারই মাথা ব্যাথা আছে কিন্তু তোর মানসিক সুস্থতাকে কেউ ঘন্টাও দাম দেয় না।

আমিও চিন্তা করে দেখলাম, কাহিনী তো সত্যি! আসলেই তো আমরা মানসিক সুস্থতাকে ঘন্টাও দাম দেই না! আমি নিজেই দেখেছি, অভিভাবক সন্তানের ঘাড়ে তুলে দিচ্ছে তার চেয়েও বেশি ওজনের ব্যাগ আর ঠেলে দিচ্ছে টিউশনের গোলক ধাধায়। সবারই ইচ্ছা, আমার বাচ্চা রেসে ফার্স্ট হবে, সামাজিকভাবে সুস্থ থাকবে। কিন্তু এই সামাজিক সুস্থতা আনতে গিয়ে বাচ্চাটাকে যে কি পরিমাণ মানসিক বলি দিতে হয় তা কেউ একবার ভেবেও দেখে না।

টিনএজ বয়সে এসে এই রেসে দৌড়াতে দৌড়াতে বাচ্চাটা বাবা-মা কে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায় অনেক সামনে। একা পথে দৌড়াতে ভয় পায় তারপরও একবার কারো সাহায্যের জন্য মুখফুটে বলে না, শারীরিক আর সামাজিকভাবে দুর্বল প্রমাণিত হবে যে! এটা হতে দেয়া যাবে না! যা হয় হোক! নিজের মনে কষ্ট থাকুক, একা হাটার ভয় থাকুক কিন্তু আমি বাইরে দৌড়াতে থাকি।
আরেকটু বড় হলে হয়ত প্রেমে পড়ে অথবা প্রেম ভেংগে যায়। তখনও মুখ ফুটে বলে না কিছু। যত্ন করে আড়াল করে রাখে ওই মনটাকে।
আরেকটু বড় হলে, ভালো ক্যারিয়ার আর উচ্চ শিক্ষার জন্য দৌড়াদৌড়ি। এখানেও সামাজিক এবং শারীরিক সুস্থতার লড়াই আর মানসিক সুস্থতা লুকিয়ে থাকে একদম খাটের তলানীতে।

এরপর বিয়ে করো লাখ লাখ টাকা খরচ করে, বাচ্চা সামলাও, বাবা-মায়ের দায়িত্ব নাও। সুতরাং আবার দৌড়াও। দৌড়াতে দৌড়াতে সবার সামাজিক আর শারীরিক সু-স্বাস্থ্য নিশ্চিত করো কিন্তু নিজের মনটা লুকিয়ে থাকুক খাটের তলাতেই!

এই খাটের তলায় লুকিয়ে থাকা মানসিক স্বাস্থ্যকে যে আর লুকিয়ে রাখতে পারে না তার মধ্যেই দেখা দেয় হাইপার একটিভ ডিজঅর্ডার, হিংস্রতা আর না হলে নির্বাক আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা (আরো আমার অজানা নানান ব্যাপার)। নিজের মনকে লুকিয়ে রেখে নিজের ক্ষতি তো হয়ই সেটা জানা কথা কিন্তু একটা সময়ে যদি মানুষ অন্যের ক্ষতিও শুরু করে তখন কিন্তু ওই সামাজিক আর শারীরিক স্বাস্থ্যও আসমানে ওঠে!

বাচ্চার সাথে আধা ঘন্টা খেললে তার পড়ার ক্ষতি হবে ভেবে যদি তাকে রেসের ঘোড়ায় চড়িয়ে দেন, পাশের মানুষটিকে কাউন্সেলরের কাছে পাঠালে সমাজ তাকে পাগল চিহ্নিত করবে এই ভয়ে যদি ঘরে বসে থাকেন, আর নিজেও রেসে দৌড়াতে গিয়ে কাছের মানুষের সাথে কথা বলতে ভুলে যান তাহলে একদিন দেখবেন আজ যে শারীরিক আর সামাজিক সুস্থতার পেছনে দৌড়াচ্ছেন তার আর নাগাল পাচ্ছেন না। কতদিন আর অমুকে কি ভাবলো, তমুকে কতবার কাদলো ভেবে নিজেকে আড়াল করবেন! কতদিন আর মুখে সাময়িক হাসি ফোটাতে গিয়ে নিজের সারাজীবনের হাসির বলি দেবেন! কতদিন আর জীবন সিড়ি উপরে ওঠাতে গিয়ে মাথার চুল সাদা করবেন! একটা সময়ে যখন থামবেন তখন দেখবেন আর কেউ হাসছে না! আপনিও পারছেন না হাসতে! পাশে হাত ধরে হাটার জন্য যাকে চেয়েছিলেন সে হয়ত মানসিকভাবে এতই মরে গিয়েছে যে আপনি আর তার হাতটা ধরেও কিছু অনুভব করছেন না। আদরের বাচ্চাটাও হয়ত আবার আপনার মত একই রেসে দৌড়াচ্ছে। আপনি যা করেছেন, সেও হয়ত তা করছে।

জীবন একটা চক্রের মত। সুস্থ চক্র চাইলে আপনাকে শারীরিক, সামাজিক আর মানসিক- সকল সুস্থতার দিকেই সমান মনযোগ দিতে হবে। আর তার জন্য মরীচীকার পেছনে দৌড়ানো বন্ধ করতে হবে। স্বপ্নের সাথে হাটুন, সাথে দৌড়ান, সাথে নাচুন, সাথে হাসুন! পেছনে দৌড়াবেন না আর তাকে পেছনে ফেলে চলেও যাবেন না।

শেষ হাসিটা আসবে তাহলে! আহা! জীবন কত সুন্দর! :)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৩:৫১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঝিনুক ফোটা সাগর বেলায় কারো হাত না ধরে (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন জুন, ০৩ রা মে, ২০২৪ রাত ৮:০৯

ঐ নীল নীলান্তে দূর দুরান্তে কিছু জানতে না জানতে শান্ত শান্ত মন অশান্ত হয়ে যায়। ১৯২৯ সালে রবার্ট মোস নামে এক ব্যাক্তি লং আইল্যান্ড এর বিস্তীর্ণ সমুদ্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

মামুনুলের মুক্তির খবরে কাল বৃষ্টি নেমেছিল

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৩ রা মে, ২০২৪ রাত ৯:৪৯


হেফাজত নেতা মামুনুল হক কারামুক্ত হওয়ায় তার অনুসারীদের মধ্যে খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ তো বলল, তার মুক্তির খবরে কাল রাতে বৃষ্টি নেমেছিল। কিন্তু পিছিয়ে যাওয়ায় আজ গাজীপুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'চুরি তো চুরি, আবার সিনাজুরি'

লিখেছেন এমজেডএফ, ০৩ রা মে, ২০২৪ রাত ১০:৪৮


নীলসাধুকে চকলেট বিতরণের দায়িত্ব দিয়ে প্রবাসী ব্লগার সোহানীর যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা বিলম্বে হলেও আমরা জেনেছি। যাদেরকে চকলেট দেওয়ার কথা ছিল তাদের একজনকেও তিনি চকলেট দেননি। এমতাবস্থায় প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বরাবর ব্লগ কর্তৃপক্ষ

লিখেছেন নীলসাধু, ০৩ রা মে, ২০২৪ রাত ১১:২২

আমি ব্লগে নিয়মিত নই।
মাঝে মাঝে আসি। নিজের লেখা পোষ্ট করি আবার চলে যাই।
মাঝেমাঝে সহ ব্লগারদের পোষ্টে মন্তব্য করি
তাদের লেখা পড়ি।
এই ব্লগের কয়েকজন ব্লগার নিজ নিক ও ফেইক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাঁদ কুঠরির কাব্যঃ অপেক্ষা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৩ রা মে, ২০২৪ রাত ১১:২৩



গরমের সময় ক্লাশ গুলো বেশ লম্বা মনে হয়, তার উপর সানোয়ার স্যারের ক্লাশ এমনিতেই লম্বা হয় । তার একটা মুদ্রা দোষ আছে প্যারা প্রতি একটা শব্দ তিনি করেন, ব্যাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×