somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঁদো বাগদাদ কাঁদো

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাঁদো বাগদাদ কাঁদো
------ এম, এ, জি, হান্নান
কাঁদো বাগদাদ কাঁদো; তুমি জন্মের
নান্দনিকতা ভুলে যাও; টাইগ্রিস নদীর
কিনারে তোমার জন্মস্হান;
খলিফা মনসুর মহান, বাগদাদ নামক
নগরের নামে যার নাম মহিয়ান।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধার এই নগরী,
অতীতের গৌরবের রাজধানী,
আজ ভূ-লুন্ঠিত,পদানত-রক্তস্নাত।
কাঁদো বাগদাদ কাঁদো; তুমি জন্মের
নান্দনিকতা ভুলে যাও; ৭৬২ সাল
থেকে আজ অবদি কতইনা কল্প কথা,
রূপকথা, কতইনা বিজেতা স্বগৌরবে
রঁচিছে ইতিহাস,নতুন করে তোমার বুকে।
হালাকু, চেঙ্গিস-মোঙ্গল, মামলুক
অটোমান-ইরান, কতইনা জাতি –যোদ্ধা
করেছে অস্রবান তোমার বুক চিরে
রক্তের প্লাবন মিশেছে টাইগ্রিসের
জলছুঁয়ে পারস্য উপসাগরে।
শান্তির এই নগরী –দার আল ইসলাম
কবিতা, দর্শন, ইতিহাস, বিজ্ঞান
জ্যোতিসশাস্ত্র,গণিত,সংগীত, চিকিৎসা
সকল জ্ঞানের শাখায়-তোমার অবদান
থাকবে অম্লান; বায়তুল হিকমা
তোমার অপর নাম।।
ইউক্লিডিয় জ্যামিতিক বৃত্তাকার
প্রাচীর বেষ্টিত নগরীর নকশা
তোমার অলংকার, কালের পুরাণে
গাঁথা অতীতের চেয়ে আগুয়ান;
নিনেভা, উর, ব্যাবিলনের ভূমিতে
বাগদাদ এক নয়া নাম।
কাঁদো বাগদাদ কাঁদো; তুমি জন্মের
নান্দনিকতা ভুলে যাও; বোমা, গোলা
গ্রেনেডের আঘাতে এখন এখানে
শুধুই রক্ত ঝরে; তোমার বুকে আজ
অমানুষেরা যুদ্ধ করে।
কবিতা এখানে বেমানান, দর্শন
বিলুপ্ত প্রাণীর মত অতীত;
সংগীতে সুর শোনা যায় কখনো –কখনো
কিন্তু বোমার আঘাতে তা এক
নয়া ব্যঞ্জনা রচে; বিজ্ঞানের চর্চা হয়
খুব বেশী-মানুষের প্রাণ সংহারে।
কাঁদো বাগদাদ কাঁদো; তুমি জন্মের
নান্দনিকতা ভুলে যাও; মিদাদ পাশার
দ্রোহে ভেঙ্গেছে তোমার প্রাচীর কাঠামো,
সব হারিয়ে হয়েছে শুন্য তোমার
কেন্দ্র ভূমি –বিরান অকাতরে।
দু’হাত বাড়ায়ে প্রসস্ত বুকে যখনি
মেলেছ পাখা, শকুনিরা খামছে ধরেছে
তোমার ডানা।
১৯১৪-১৯৩২, ফিরিঙ্গিরা এসেছে
এখানে মানচিত্র হরনে;
নয়া দেশে নয়া বেশে-ইসরাইলের পাশে।
অতঃপর স্বাধীন ইরাকে
তোমার আদিপ্রাচীর লাগোয়া-কিছুটা
দক্ষিনে-সাদ্দাম বিষের পেয়ালা
ধরেছিল তুলে; মানুষ মেরেছে অকারনে
কারাদাদ মারিয়ামে।
কাঁদো বাগদাদ কাঁদো; তুমি জন্মের
নান্দনিকতা ভুলে যাও; কেনানা
মৃত্যুর মিছিলে আজ আজরাইল
পতাকা নাড়ে; তোমার বুকে
হেনেছে পদাঘাত, পদাতিক,
অশ্বারোহী ও ট্যাংকের বহর, শব্দহীন
বোমারু বিমানের গোলার আঘাতে
করেছে ভেদ তোমার প্রাণের মন্দির।
ধ্বসেছে প্রাসাদ, মসজিদ, প্রার্থনালয়;
মৃত্যুর কোলে ঢলেছে নারী-পুরুষ
শিশু –বৃদ্ধ সকলই; কেবল পোড়া মাটি
আর লাশের গন্ধে বাতাস হয়েছে ভারী।
কাঁদো বাগদাদ কাঁদো; তুমি জন্মের
নান্দনিকতা ভুলে যাও; কেনানা
তোমার বুকে দাঁড়িয়ে একদিন
শুধু বিউগলের করুন রাগিণী
শোনা যাবে –প্রহরে প্রহরে।
চোখের জলে নিবিয়ে দাও
তোমার অন্তর্দহন,ফোরাতের জলে
আর কত রক্ত প্রবাহ ঝরাবে ?
খলিফা মামুন আজো বুঝি কাঁদে?
কেনানা কান্নার বীজ বপণ
করেছিল সে নিজ হাতে।
কাঁদো বাগদাদ কাঁদো; তুমি জন্মের
নান্দনিকতা ভুলে যাও; কেনানা
কান্নাই তোমার উৎসব, লাশ আর
লাশ, মৃত্যুর উপত্যকায় শুধু
লাশের রাশি। এইত সেদিন ২০০৩ সালে
রাতের আধাঁর ছেঁদিয়ে আলোর ঝলকানি
তোমার আকাশ জুড়ে ওঠিল ফোটে,
কেঁপে ওঠিল ভূতল,লাশের স্তুপে চাঁপা
পড়ল শিশুর ক্রন্দন-কান্না থেমে থাকেনি,
আজও কাঁদে শিশু প্রতিদিন, অবুঝ
শিশুর কান্নায় তোমার বাতাস বুঝি ভারী?
কাঁদো বাগদাদ কাঁদো; তুমি জন্মের
নান্দনিকতা ভুলে যাও; কেনানা
এখানে মৃত্যু আসে স্বশব্দে, শরীরে
বোমা জড়িয়ে-আত্মঘাতি রূপে;
স্বাভাবিক মৃত্যুর দাবি নিরর্থক, এখানে
বোমা ফোটে মসজিদে, স্কুলে, হাসপাতালে
ঘরের মেঝেতে-ঘুমন্ত মায়ের বুকে; যেখানে
নবজাতকেরা আশ্রয় খুঁজে, অবুঝ মনে।
কাঁদো বাগদাদ কাঁদো; তুমি জন্মের
নান্দনিকতা ভুলে যাও; কেনানা
পাষণ্ড দানবেরা এখানে নৃত্য করে,
মৃত্যুর নৃত্য, ওরা তৃষ্ণার্ত –প্রসস্ত উদরের
ক্ষুদা- তৃষ্ণা মেটাতে রক্ত, মাংশ আর কিছু
কংকাল চাই; এখানে মৃত্যু আসে বাতাসে
নিঃশব্দে –গ্যাসের কুন্ডুলি পাঁকিয়ে;
ঘুম পারিয়ে মৃত্যুর ঘুম; কোন বেদনা ছাড়াই।
কাঁদো বাগদাদ কাঁদো; তুমি জন্মের
নান্দনিকতা ভুলে যাও; কেনানা
তোমার কান্নার শব্দে যদি-ঘুমন্ত
পৃথিবী একদিন জেগে যায়; যদি
লাশেরা তাদের পোষ্টমর্টমের রিপোর্ট
পেয়ে যায়; যদি আগামী দিনে অনাগত
প্রজন্ম জানতে চায় তাদের পূর্ব পুরুষের
মৃত্যুর কারন, তবে কি জবাব দেবে?
কাঁদো বাগদাদ কাঁদো; তুমি জন্মের
নান্দনিকতা ভুলে যাও!!!
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×