somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডাক্তার বন্ধুরা ক্ষমা করবেন ৩

০১ লা অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২০০০ সালের কথা আমি ব্যাংকে কাজ করি। আমার কর্মস্হল চান্দিনা। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সবে মাত্র যোগ দিয়েছি। আমাদের শাখার সেকেন্ড অফিসার সাহেব একদিন অফিসে এসে খুবই মর্মাহত। উনার এক ছেলে গ্রামের বাড়ি যাবার পথে রাস্তায় এক্সিডেন্ট এর কবলে পড়ে। বাসে যাচ্ছিল। দেবিদ্বার বাজার পার হয়ে ব্রাহ্মনবাড়িয়া সড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষ হবার উপক্রম হয়। ফলে দ্রুত টার্ননেয়। একটি বাস সড়কের পাশে খাটে পড়ে যায়। অনেকেই আহত হয়। সম্ভবত দুইজন মারা যায়। উনার আরেক ছেলে পেছনের আরেকবাসে ছিল। সে এক্সিডেন্ট কাছে গেলে বাস থেকে নামতে হয়। রাস্তা বন্ধ ছিল। মানুষের চিৎকার কান্নাকাটি শোনে সামনে যায়। গিয়ে দেখে তার ভাইকে মাটিতে শুইয়ে রাখা আছে। আহত, চিৎকার করছে। দাঁড়াতে পারছে না। তাকে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সারা শরীর ফুলে যায়। ব্যথা অসহ্য। খেতে পারছে না। কোন কিছু খেলেই বমি হচ্ছে। শরীরে পানি জমে যাচ্ছে। হাত পা ফুলে মোটা হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্হায় দুইদিন। শরীরে জ্বর আছে। কমছে না। কাজেই ছেলের শরীর খারাপ থাকায় মন খারাপ নিয়ে অফিসে আসে। পরেরদিন আমি ও আমাদের শাখা ব্যবস্হাপক ছেলেটা কে দেখার জন্য হাসপাতালে গেলাম। গিয়ে কি মনে করে জানি তার কাগজপত্র, বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরিক্ষার রিপোর্ট দেখলাম। আমার পাশাপাশি ম্যানেজার সাহেব ও দেখছেন। মজার ব্যাপার হল তার আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে পরিষ্কার করে হাতে লেখা আছে, ছেলেটার বামদিকের কিডনি ভেঙ্গে গেছে। যিনি রিপোর্ট করেছেন তার নিজ হাতে লাল কালি দিয়ে লেখেছেন, Left Kidney has been broken down. Right one is okay.

এই লেখাটি দেখার পর আমি ডাক্তারের সাথে আলাপ করতে বললাম। ডাক্তার এসে বলল আমাদের এখানে কিডনির কোন চিকিৎসা নাই। আমি বললাম চিকিৎসা নাই তা’হলে একে আটকে রেখেছেন কেন। রিলিজ করে দিতে পারেন, যেখানে গেলে কিডনির চিকিৎসা পাবে সেখানে যাবে। ডাক্তার আমাদের অত্যন্ত রূঢ় ভাষায় বুঝাতে চাইল, আপনারা এখানে ওকে ভর্তি করেছেন। আমি বললাম, আপনি রিপোর্ট দেখার পর বলতে পারতেন; যেহেতু কিডনি সমস্যা ওকে ঢাকা নিয়ে যান। যাক শেষে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকা নেয়ার পর কিডনির ডাক্তার পরীক্ষা নিরিক্ষা করে বললেন, অপারেশন করে বিকল হওয়া কিডনি ফেলে দিতে হবে। আহত ছেলেটার এক চাচা দেশের বাইরে থাকতেন। উনার সাথে পরামর্শ করে। ওকে কোলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঢাকার ডাক্তারের মত কিডনি অপারেশন করে ফেলে দিতে বলে। শেষে ছেলেটা কে নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বাই। সেখানে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ডাক্তার আগে কিডনি ভেতরের অংশে জমে থাকা ফ্লোইড বের করে। পরিক্ষা করে দেখা যায়, যতটুকু অংশ ভেঙ্গে গেছে তা বাদ দিয়ে বাকি অংশ ফাংশান করতে পারে তাদের মত। শেষে ওকে একমাসে ঔষধ পত্র দিয়ে বিশ্রামে থাকতে বলে। খাওয়া দাওয়া পরিমাপ করে দেয়। পানির পরিমান ঠিক করে দেয়। এক মাস পর আবার দেখা করতে বলে। আস্তে আস্তে ছেলেটা সুস্হ্য হয়ে যায়। তার আর অপারেশন করতে হয়নি।
অন্যদিকে ২০০৩ সালের ঘটনা আমাদের এক কলিগের বাবা কিডনি সমস্যায় ভোগছিলেন। জানা গেল, উনাকে ঢাকায় ডাক্তার পরমর্শ দিলেন অপারেশন করে লাভ হবে না। তোমরা চিকিৎসার জন্য যেখানে যাও একই মত হবে। যতদিন বাঁচেন ঔষধের উপর থাকতে হবে। আবার এও বলে দিলেন তোমরা যদি দেশের বাইরে যাও চিকিৎসার জন্য, দেশে আসলে আমাকে উনার রিপোর্টগুলো দেখাবে। উনাকে ভারতে নেয়া হল। সমস্যা বিবেচনায় কয়েকদিন পার করে দিলেন। শেষে সিদ্ধান্ত নিলেন অপারেশন করতে হবে। অপারেশন করা হল। দুইদিন হাসপাতালে থাকা হল। যেদিন উনাকে রিলিজ করা হয়, সেদিন অপরেশনের জন্য জমা দেয়ার টাকার একটা অংশ ফেরৎ দিলেন। বাবার সাথে গিয়েছিল আমাদের কলিগ। সেতো অনেক খুশি। টাকা ফেরৎ পেয়ে। পরামর্শ দেয়া হল যেন তাড়াতাড়ি দেশে চলে আসতে। উনারা সবাই দেশে চলে আসে। দেশে আসার পর কি মনে করে ঢাকা গিয়ে আগের ডাক্তারকে রিপোর্টগুলো দেখায়। উনি রিপোর্ট দেখে বলে দেন, তোমার বাবাকে উরা মেরে ফেলেছে। অপরেশন করা জন্য সবকিছু করেছে; তারপর আবার অপরেশন না করে সেলাই করে বন্ধ করে দিয়েছে। ছোট্ট করে নোট দেয়া আছে, ইনঅপারেবল। ফলে বুঝা গেল কেন টাকা ফেরৎ দেয়া হয়েছে। এই ঘটনার কয়েকদিন পর উনি মারা যান। তবে এখানে উল্লেখ্য কাজ হয়নি বলে টাকা নেয়নি। আর আমাদের দেশে মৃতরোগিকে আইসিওতে আটকে রেখে বাড়তি বিল করার নজির আছে। এমনি ঢাকার নামিধামী হাসপাতালেও এমন ঘটনার নজির পাওয়া যায়।

আমাদের দেশে টাকা দিয়েও অনেক সময় সেবা পাওয়া যায় না। এই জন্য অনেকেই দেশের বাইরে যায় টাকা খরচ করে চিকিৎসা সেবা পেতে। অনেক সময় ইচ্ছার বিরুদ্ধেও যেতে হয়। একজন ডাক্তারের সেরিয়াল থেকে আরম্ভ করে প্রতি পদে পদে এখানে অনেক বিড়ম্ভনা পোহাতে হয়। দেশের বাইরে গেলেই যে ভাল চিকিৎসা হবে তা নয়। কিন্তু মানুষ বিশ্বাস করতে পারে না। নানা যক্কি ঝালেমা পোহানোর চেয়ে বাইরে যাওয়া ভাল। এতে করে আমাদের দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে বাইরে। বছর খানেক আগে ভুল চিকিৎসায় একজন রোগি মারা যায় চট্টগ্রামে। রোগির পরিবার আদালতের আশ্রয় নেয়। ফলে সব ডাক্তার ধর্মঘটে যায়। কয়েকদিন অচল ছিল প্রাইভেট হাসপাতাল। অনেক মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছে। কয়েকদিন হল, এক প্রাইভেট হাসপাতালে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ ব্যবহার করে অপারেশন থিয়েটারে। সবকিছুর পেছনে শুধু ডাক্তার দায়ি তা নয়। একটা একটা দুষ্টু চক্র কাজ করছে। হাসপাতাল, ডাক্তার, ঔষধ শিল্প, ঔষধসহ অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ কারি থেকে আরম্ভ করে এই সেবার সাথে জড়িত অন্য সকল কাঠামোগত বিষয়কেএখানে দায়ি করা যায়। তবে ডাক্তার কে কেন বলা হচ্ছে, ইচ্ছে করলে তা লোভ লালসার বাইরে থেকে রোগির কল্যানে প্রকৃত সেবা দিতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:০৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×