
কাতারের সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার পরও যুক্তরাষ্ট্রের এফ -১৫ জঙ্গী বিমান কিনতে ১২০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে ওয়াশিংটন।
"এটি অবশ্যই প্রমাণস্বরূপ যে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলি আমাদের সাথে রয়েছে কিন্তু আমাদের এই বিষয়ে সন্দেহ নেই", দোহা কাতারের একজন কর্মকর্তা বলেন। "আমাদের জঙ্গিরা ভাইদের মতো। কাতারের আমেরিকার সমর্থন গভীরভাবে স্থায়ী এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দ্বারা সহজে প্রভাবিত হয় না।" আবার ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও এর অন্যান্য অঞ্চলে ইসলামী রাষ্ট্র জঙ্গি ও অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য কাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
অপরদিকে সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের কাতারের "সন্ত্রাসী সংগঠন" এর সমর্থনের জন্য কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নেপথ্যে মার্কিন হাত রয়েছে, এটা সবারই জানা।
একদিকে সৌদি আরবের সাথে সমরাস্ত্র চুক্তি, যার উদ্দেশ্য জঙ্গিবাদ দূর করা অপরদিকে জঙ্গিবাদ আশ্রয়দাতা কাতারের সাথে যুদ্ধ বিমান চুক্তি – যেন পুলিশ চোরকে বলে চুরি কর আর গৃহস্তকে বলে পাহারা দে!
আবার সৌদি আরব ও তার মিত্রদের কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দুই দিন পর তুরস্ক তার সামরিক বাহিনীকে কাতারের একটি তুর্কি সামরিক বেসে নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে। এটি তুরস্কের কাতারের সমর্থনের একটি আপাত প্রদর্শন।
মূল বিষয়, কাতারের সামরিক বাহিনী তুরস্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি অভিক্ষেপ সম্পদ। তুরস্ক সবসময় এই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত সহযোগী কাতারকে বিবেচনা করেছে এবং এই দৃশ্যটি প্রদর্শন করার জন্য এই বেস ব্যবহার করছে।
আবার তুরস্ক কাতারের সাথে তার অংশীদারিত্বের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়, কিন্তু সৌদি আরবের ছোট কিন্তু প্রভাবশালী আমিরদের ওপর খবরদারি পছন্দ নয়, আবার রিয়াদের সাথে লড়াই করার মানসিকতাও নেই।
তাই বিশেষজ্ঞরা বলছে, তুরস্ক সৌদি বিরোধী নয়, এটি নিশ্চিতভাবেই একটি কাতার-সমর্থক এবং রিয়াদ ইরানকে যেমন একটি অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখছে, কিন্তু তুরস্কের মতো কাতারও ইরানের বিরুদ্ধে একটি জটিল ও বহুমুখী কৌশল অনুসরণ করছে।
ভৌগলিক কারণে কাতারের আবস্থান বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তাই মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে রাজনীতি শেষমেশ কোনদিকে যায় তাই দেখার বিষয়!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৭ রাত ১২:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




