লাঞ্চ করবে আমার সাথে? চলো এই ভরদুপুরে।জানোতো আমার ছেড়াফাটা মানিব্যাগ মানি শূন্যতায় ভুগছে।সেদিন ডাক্তার বলেছে আমার রক্তশূন্যতা রোগ হয়েছে তাই বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। কিন্তু ডাক্তার জানেনা যে আগে থেকেই আমার মানিব্যাগ মানি শূন্যতা রোগে আক্রান্ত।
নাহ কোন নামীদামী রেস্তোরাঁয় নয়। শুনেছি সেখানে রিমোটের সাহায্যে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এমন কেন হবে! সবকিছুর সাথে তাপমাত্রার স্বাধীনতা দাবি করছি। স্বাধীন জাতি বলেই স্বাধীন তাপমাত্রায় বসে পেটপুজো করবো।
মানিব্যাগের মানি শূন্যতা রোগের সময় তেহারি, বিরিয়ানি সব খাওয়া নিষেধ।শুনেছি এতে রোগ প্রকট আকার ধারন করে।
চলো ওই পার্কের নোংরা বেঞ্চে। মেনু দেখে বেছেনেও কি খাবে। বাদাম, চানাচুর নাকি চটপটি ফুচকা। এর বেশি অপশন হাতে নেই। ভরদুপুরে ফুচকা, চটপটি খেয়ে লাভ নেই।গরমে অসহায় হয়ে ওই পথশিশু কেমন চুপসে আছে দেখেছো? এই গরমে ফুচকা খেয়ে পেট ভাল রাখা কঠিন হয়েযাবে। আর জানোইতো আমার মানিব্যাগের মানিশূন্যতা রোগ হয়েছে।
চানাচুর তো ঝাল। ঝাল খেয়ে তোমার চোখবেয়ে গড়িয়ে পড়া জল আমি সইতে পারবোনা।
বাদাম! হ্যা চলতে পারে। বাদামে অদ্ভুত এক আনন্দ দেয়। খোসা ছাড়াতে একরকম আনন্দ, খেতে অন্যরকম আনন্দ। পট পট করে ফাটানো খোসারা শুনেফেলবো তোমার আমার হাজারো গোপন কথা। তবে শেষ বাদামটি দুজনে ভাগ করে খাবো।ভেতরের বাদাম একটা আমার, একটা তোমার।
জানি তোমার ক্ষুধা মেটেনি। ক্ষুধার্ত শ্রবনশক্তি নিয়ে জেনেরাখো সত্যিটা। আসলে তোমাকে লাঞ্চ করাতে নয় ক্লান্ত দুপুর দেখাতে এনেছি। কাচঢাকা রেস্তোরাঁর কন্ট্রোল করা বাতাসের চেয়ে এই দমকা বাতাসটা কত মিস্টি সেটা বোঝাতে এনেছি। শহর জুড়ে ঘুরেবেড়ানো ক্ষুধার্ত কিছু মানুষের জগত চেনাতে এনেছি।
আজকের মত বিদায়।তুমি আমি কোনএক মাঝরাতে আবার রওনা হব নতুন কোন রাজ্য জয়ে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




