somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মান্ধদের বর্বরতা::গনমানুষের নিরন্তর প্রতিরোধ

২৫ শে জুন, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ ক্ষ্যপা নামের একজন ব্লগারের একটা পোষ্ট চোখে পড়লো । আরো কয়েকজন ব্লগারকে তিনি সতর্ককরে দিয়েছেন ধর্মান্ধতা বিরোধী লেখার জন্য । ক্ষ্যপা - আপনার উদ্্বেগের জন্য ধন্যবাদ । আর এ লেখাটা আপনার সেই বন্ধুকে ---যিনি নির্যাতিত হয়েছিলেন তার লেখার জন্য ]

মধ্যযুগের মারাঠী কবি তোকারামকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল আর তার কবিতাগুলো ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল নদীতে ।
কাজটা করেছিলেন ধার্মিক ব্রাম্মনরা । তোকারামের অপরাধ ছিল তিনি অন্ত্যজ জন হয়ে ও কবিতা লিখেছিলেন ধমর্ীয় বিষয় নিয়ে ।

শুরুটা তারো আগে ।
ধর্মান্ধ আর সৃষ্টিশীলদের দ্্বন্দ্ব।

সেই চর্যাপদের কবি কাহ্নপা , শবরদের ও মোকাবেলা করতে হয়েছে ধর্মান্ধদের ।
এই জনপদের মানুষ ধর্মকে অস্বীকার করেনি কোনোদিনই । বরং চারিত্রিক নমনীয়তার কারনে সমস্ত দুযের্াগে বিশ্বাস করেছে, ভরসা করেছেঐশী শক্তির উপর ।
কিন্তু এই জন গোসঠীই কখনো ধর্মান্ধদের সুযোগ দেয়নি চেপে বসার ।
বাংগালীর শেকড়ের যে সংস্কৃতি তার ভেতর রয়েছে চমৎকার উদারতা, ধর্ম নিয়ে বিচার বিশ্লেষন, অসামপ্রদায়িকতা আর ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধাচরন ।
চর্যাপদ থেকে শুরু করে আমাদের মুর্শিদী ,মারফতি,বাউল গান গুলো তার প্রমান ।
লালন সাঁই,হাসন রাজা,রাধারমন,সিরাজ সাঁই, বিজয় সরকার,সৈয়দ শাহনুর,শিতালং শাহ, দুর্বিন শাহ,আবদুল করিমের গান এদেশের মানুষ যুগের পর যুগ ধরে ধারন করেছে । কিন্তু এদের প্রত্যেককেই লাঞ্চিত হতে হয়েছে ধর্মান্ধদের হাতে ।
শরিয়তপন্থীরা বাউলদের বে-শরা ঘোষনা করেছে, একতারা ভেংগে দেয়া হয়েছে, দাড়ি-চুল কেটে দেয়া হয়েছে তবু প্রচলিত ধর্মচর্চার বদলে মানবতার জয়গান বন্ধ হয়নি ।
বিজয় সরকার এক গানে পাই:
' বাউল বাউল করো তোমরা
বাউল কি আর আছে?
বড় দু:খে বাংলাদেশের বাউল মইরাছে....'

শাহ আবদুল করিমের মুখে শুনে ছিলাম মসজিদের ইমাম তার এক সাগরেদের জানাযা পড়াননি, তিনি গান গাইতেন বলে ।
সিলেটের গ্রামা ঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয় এক গায়ক ক্বারী আমীর উদ্দীন । নিজে ক্বারী হলে ও তার গানগুলোতে মোল্লা মৌলভীদের বিরুদ্ধে অনেক কিছু থাকে । তাই কয়েক গ্রামের মওলানারা তার বাড়ী ঘেরাও করে আগুন দিয়েছিল ।
তাই ছাহাবা সৈনিক পরিষদ নাসরীনের মাথার দাম ঘোষনা করে কিংবা শায়খ রহমানের ভাই হুমায়ুন আজাদকে কোপায় ---এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় ।
যুগ যুগ ধরে এই জনপদে ধর্মান্ধদের মোকাবেলা করেছে সৃষ্টিশীল মানুষেরাই । আর সাধারন মানুষ ধর্মকে সম্মান করলেও ধর্মান্ধতাকে বর্জন করে এসেছে সবসময়ই । কারন মানুষ দেখেছে মাতব্বরের ছেলে ধর্ষন করলে ও ইমাম তাকে বাঁচানো র ফতোয়া দেন কিনতু শরীয়ার নামে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হয় নিস্পাপ নুরজাহানকে [ কমলগনজের ছাতকছড়ায় ] । মোল্লা মুন্সীদের ব্যাংগ বিদ্্রুপ আমাদের গ্রামীন সংস্কৃতিতেই বিদ্যমান ।

---------------------------------------
এই ব্লগে সত্যি অনেক সাহসী লেখা হচ্ছে । অপবাক, দীক্ষক কিংবা রাসেলের লেখা গুলো তসলিমা নাসরীনের লেখার চেয়ে অনেক বেশী স্পষ্ট , সাহসী এবং সুনির্দিষ্ট (আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি)।এগুলো কোনো জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ হলে এবং ইসলামের কোনো ঠিকাদারের চোখে পড়লে --- কেজানে হয়তো আরো কয়েকটা মাথার দাম ঘোষিত হয়ে যাবে , বেড়ে যাবে আরো কয়েকজন মুরতাদের সংখ্যা । এমনকি ধর্মপরায়ন সাদিকের তথ্যব হুল পোস্টগুলো ও হয়তো উসকে দেবে জেহাদের আগুন।
আমার ছোটো বেলায় দেখেছি সুরা ফাতেহায় দোআললীন না যোআললীন বলা হবে সেটা নিয়ে দুদল মওলানার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, মাদ্্রাসা পুড়িয়ে দেয়া ।

---------------------------------------

মানুষের বেঁচে থাকা ধর্মের চেয়ে অনেক বড় সত্য ।
বাংলাদেশে খুব নীরবে একটা বিপ্লব ঘটে গেছে । এটা ঘটিয়েছেন শ্রমজীবি নারীরা । হাজার হাজার নারী
গার্মেন্টসে কাজ করছেন । হাজার হাজর নারী মাটি কাটছেন , পাথর ভাংছেন । বাংলাদেশের ফতোয়াবাজ ধর্মান্ধ আর মেকী নারী বিপ্লবী দের গালে এটা একটা চমৎকার থাপ্পড় । কোনো ফতোয়া আর শরীয়া আইনের দোহাই দিয়ে এই নারীদের ফেরানো যাবেনা ।
আর হ্যাঁপশ্চিমা দেশে থাকা যেসব বুকিশদের কাছে হিজাবের মতো ফালতু বিষয় খুব গুরত্ব পায় তাদের,বাংলাদেশের এই শ্রমজীবি নারীদের কাছ থেকে শেখার আছে অনেক ।

---------------------------------------
ধর্মান্ধরা মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করবে, যা তারা বোঝেনা তা ও নিয়ন্ত্রন করতে চাইবে আবার সৃষ্টিশীল স্বাধীনচেতা মানুষেরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবে --- এটাই বাস্তবতা । যুগ যুগ ধরে এই প্রতিরোধ চলে এসেছে । ভিন্ন রুপে , ভিন্ন ভিন্ন ধারায় ।
এই চলমান প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে কেউ হাল ছেড়ে দেবে , কেউ আত্নসমর্পন করবে, কেউ পক্ষ ত্যাগ করবে । কিন্তু এই প্রতিরোধ থামেনি, থামবেনা ।
এই দ্্বান্দিক বাস্তবতা ই গড়ে তোলবে মানুষের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭০টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×