একজন সিএনজি ড্রাইভার ও শিক্ষার বাণিজ্যিকিকরণ।
সেদিন সিএনজিতে চৌরাস্তা থেকে বাসায় আসছিলাম।ড্রাইভারের সাথে হরতাল নিয়ে কথা বলার একফাঁকে ড্রাইভার বলল,তার মেয়ে এসএসসি পরিক্ষার্থী।এ বছর ফরম ফিলাপের টাকা নির্ধারণ করেছে ৩৫০০ টাকা।
আমার কাছে জানতে চাইলো,এ বিষয়ে কিছু জানি কিনা?ফরম ফিলাপের জন্য আসলেই কি এত টাকা দিতে হয়?
আমি ড্রাইভারকে বললাম,আমার জানামতে ফরম ফিলাফের ফি ১৫০০-২০০০টাকার মধ্যে হতে পারে।
আমি তাকে পরামর্শ দিলাম।স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলার জন্য।
তিনি আমাকা জানালো,নভেম্বরের ৫তারিখের মধ্যে ফি জমা দিতে হবে।
তিনি আরো বললেন,কয়েকদিনের হরতালের কারনে তিনি সিএনজি চালাতে পারেননি।একদিকে সপ্তাহিক কিস্তির টাকা,অন্যদিকে মেয়ের ফরম ফিলাফের টাকা।তিনি কিভাবে কি করবেন বুঝতে পারছেন না।
আমাদের চলার পথে অনেক কিছুই ঘটে।আর স্বভাবতই আমরা সেটা ভুলে যাই।আমিও সেদিনের ঘটনাটা মনে রাখিনি।কিন্তু,আজ সকালে কালের কন্ঠে দেখলাম,এএসসি পরিক্ষার ফরম ফিলাফের জন্য রাজধানীর স্কুলগুলোতে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০০-১১০০০টাকা পর্যন্ত।স্কুলগুলো কোচিং ফি,মডেল টেষ্ট ফি,বেতন,পিকনিক ইত্যাদির নামে বোর্ডের নির্ধারিত ফি থেকে কয়েকগুন বেশী ফি নির্ধারন করেছে।
যদি ঢাকা বোর্ড ফরম ফিলাফের জন্য ১৪০০টাকা ফি নির্ধারণ করেছে।
শুধুমাত্র রাজধানী কিংবা বড়শহর নয়,দেশের প্রত্যেকটি জেলায় এ পরিস্থিতি।
হাইকোর্টে নাকি এ সংক্রান্ত রুল জারি করেছে।এবং ২০শে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কিন্তু,বোর্ড নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১৯শে নভেম্বরের মধ্যে ফি জমা দিতে হবে।তাহলে,২০শে ডিসেম্বর প্রতিবেদন দিয়ে কি হবে?
রাজধানী শহরগুলোর কথা বাদ দিলাম।জেলাশহরগুলোতে প্রতিবছর অর্থাভাবে অসংখ্য শিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশগ্রহন থেকে বঞ্চিত হয়।কারণ,এমন অনেক মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার আছে।যাদের পক্ষে একসাথে ৩৫০০টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।
একজন শিক্ষার্থী ১০বছর পড়াশুনার পর যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিকিকরণের ফলে সে যদি সেন্টার পরিক্ষায় অংশ নিতে না পারে।তাহলে,তার মানসিক পরিস্তিতি কি হবে,তার স্বপ্নগুলোর কি হবে?
আমরা কি কখনো ভেবেছি?
#ফরম_ফিলাফের_নামে_অতিরিক্ত_ফি_নেয়া_বন্ধে_আমাদের _এগিয়ে _আসা_উচিত।
#শিক্ষা_বোর্ডের_এ_ব্যাপারে_জরুরী_পদক্ষেপ_নিতে_হবে।
#বিভিন্ন_ছাত্রসংস্থাকে_প্রতিবাদ_জানতে_হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


