আমি জীবনে অনক শিক্ষক - শিক্ষিকার ছায়াতলে বড় হয়েছি। ইনফ্যাক্ট, উনাদের দয়ায় আজ আমি টিকে আছি। আজ আমার জীবনের অন্যতম একজন শিক্ষকের কথা বলতে চাই।
স্যার প্রোফেসর ব্র্যাডফোর্ট শর্ট।।।
ধর্মে ছিলেন ক্যাথলিক। অসম্ভব রকমের জ্ঞানী চরিত্রের অধিকারী তিনি। উনার সবচেয়ে প্রিয় খাবার ছিল পিজ্জা!
একদিন ক্লাস নিতে নিতে প্রসঙ্গত কারনে তিনি একবার বলে উঠলেন যে, তিনি নাকি পিজ্জা খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা সবাই তো আকাশ থেকে পড়লাম! কারন জানতে চাওয়ার পর তিনি যা বললেন তা হল, উনারা ক্যাথলিক গণ উনাদের একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে (নাম মনে নাই) নাকি নিজেদের জীবনের সবচেয়ে পছন্দের কিছু না কিছু ত্যাগ করেন সারাজীবনের জন্য। আর স্যার সারাজীবনের জন্য কোরবানি দিয়েছিলেন তার পিজ্জার প্রতি ভালোবাসাটা কে!
তারপর থেকে আর কোনদিন স্যারকে পিজ্জা ছুতেও দেখা যায়নি কখনো।
তো আপনাদের বলছি যে, আমাদের মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে কাল একটি। আর তা হল কুরবানি। এই ঈদ শুধুমাত্র পশু কুরবানি করে গোশত খাওয়ার নয়। এই ঈদ, কিছু না কিছু প্রিয় জিনিস আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি র জন্য কুরবানি করার একটা সুযোগ মাত্র! সুতরাং আপনাদের বলছি, কিছু একটা পছন্দের জিনিস মনে মনে স্থির করে ফেলুন আর কুরবান করে দিন সারাজীবনের জন্য আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। আমি আমার টা ঠিক করে নিয়েছি, আপনারা নিচ্ছেন তো?
প্রফেসর ব্র্যাডফোর্ট শর্ট যদি তার পছন্দ কুরবানি করতে পারেন তার ধর্ম পালনের জন্য তাহলে আমাদের ও পারা উচিত আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি আর্জনের জন্য। কারন আমরা ও মানুষ। একই লাল রক্ত আমাদের শরীরেও আছে, সবার ই মন আছে। শুধু ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভক্ত। অথচ দেখুন, কতটাই না মিল আমাদের!
অতএব, কোরবানি করুন মন থেকে আর পশু জবাই করুন ধর্মীয় আচার হিসেবে।
সবাইকে আল্লাহ পাক সত্যিকারের কোরবানি দেয়ার তৌফিক দান করবেন ইনশাআল্লাহ।
ঈদ মোবারক!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




