somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পথই যেখানে পরম আশ্চর্যের

০৯ ই অক্টোবর, ২০১১ সকাল ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পথই যেখানে পরম আশ্চর্যের
- হোসাইন আব্দুল হাই


বিশ্বের নানা প্রান্তে নানা ধরনের মানুষ এবং নানা ধরনের সংস্কৃতি৷ চলন বলন সবকিছুতেই এক জাতি কিংবা দেশ থেকে আরেক জাতি ও দেশের বৈশিষ্ট্য আলাদা৷ জার্মানির এমন অনেক ভিন্ন ধারার মধ্যে বেশি করেই যেন নাড়া দেয় পথের নানা দৃশ্য৷

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে নানা দূর-দূরান্তের গ্রামে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ হয়েছে পেশাগত কারণেই৷ যানজট থেকে শুরু করে ভাঙাচোরা পথে চলা৷ পথের মাঝে সময়ের কিংবা গাড়ির থমকে দাঁড়ানো৷ দূর পাল্লার কিংবা স্বল্প দূরত্বের পরিবহনেও গাড়ি ভাড়া নিয়ে চিল্লাপাল্লা থেকে হাতাহাতি কিংবা খুনাখুনি৷ তুচ্ছ ঘটনা থেকেই গাড়ি ভাঙচুর৷ পরিবহন মালিক-শ্রমিক পক্ষের সাথে যাত্রীদের বচসা থেকে হরতাল-ধর্মঘট৷ পরিবহন আইন লঙ্ঘন করে বেপরোয়া গাড়ি দৌড়৷ ছোট থেকে বড় নানা দুর্ঘটনা৷ এমন বহু ঘটনা দেখতে, শুনতে কিংবা তার শিকার হতে হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে৷ সেকারণেই হয়তো জার্মানির পথেঘাটে এমন একটি ঘটনাও দেখতে না পেয়ে বেশ অবাক হয়ে থমকে দাঁড়াতে হয় বারবার৷ প্রতিনিয়তই আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয় এদিক-ওদিক পথের বাঁকে৷ আর বারবার শুধু মনে হয় আমার প্রিয় জন্মভূমির পথ-ঘাটের সব স্মৃতি৷

সাইকেল, মটরসাইকেল, রিক্সা, গাড়ি, বাস, ট্রেন, ট্রাকসহ প্রতিটি যানবাহনেই বেল, বাঁশি অর্থাৎ ভেঁপু থাকতে হবে এটিই স্বাভাবিক৷ ছোট হোক বড় হোক প্রতিটি বাহনের প্রচণ্ড জোরে ভেঁপু বাজিয়ে পথ চেয়ে নেওয়ার অধিকার যেন শাশ্বত৷ আর পরিবহন যানটি যতো বড় হবে ততোই উচ্চ হবে ভেঁপুর জোর৷ এসব দেখে এবং জেনেই বড় হয়েছি সেই ছোট্ট বয়স থেকে৷ তাছাড়া কেউ পথ ছেড়ে না দিলে গালমন্দ থেকে শুরু করে মারামারি পর্যন্ত দেখতে হয়েছে৷ অথচ জার্মানির পথে চলতে গিয়ে দেখি কোথাও কোন গাড়ির ভেঁপুর আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না৷ তাহলে কি গাড়ি-ঘোড়া নেই? নাকি কোন গাড়িতেই ভেঁপু নেই? দু'টোর কোনটিই আসলে সঠিক নয়৷

বাস, কার, ট্রেন, ট্রাম, বিশালাকারের লরি থেকে সাইকেল, মোটরসাইকেল সবকিছুই রয়েছে পথে৷ সব বাহনেই ভেঁপু রয়েছে৷ অথচ কখনও কেউ ভেঁপু বাজাচ্ছে না৷ কেউ কাউকে ধাক্কা দিচ্ছে না৷ অথচ কেউ কারো পথও আটকে রাখছে না৷ সবাই ঠিকঠাক মতো এগিয়ে যাচ্ছে৷ আমাদের মতো ভিন্ন সংস্কৃতির কেউ যদি গাড়ির বাঁশি শোনার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করতে পারে, তবে অবশ্য কালেভদ্রে গাড়ির শব্দ শোনা যেতেও পারে৷ কিন্তু তা মোটেও স্বাভাবিক ঘটনা নয়৷ একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, হয় কারো বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছে বরযাত্রীর দল৷ নতুবা বিয়ে করে ফিরছেন নতুন দম্পতি৷ নতুবা খুব বড় মাপের কোন জাতীয় উল্লাসের কারণে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেই গাড়ির বাঁশি বাজিয়ে একসাথে লম্বা লাইন ধরে যেতে থাকে অনেকগুলো গাড়ির বহর৷

তবে এর বাইরে আরো একটা কারণ থাকতে পারে গাড়ির বাঁশি বাজানোর৷ না, তা মোটেও কাউকে অপমান করার জন্য নয়৷ বরং পথে হয়তো খুব কাছের মানুষ কাউকে দেখা যাচ্ছে অথচ তিনি গাড়ি চালককে দেখেননি৷ তাই সেই চেনা মানুষটির দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য টুপ করে ছোট্ট একটা হর্ন দেওয়া হয়৷ আবার হয়তো কেউ না জেনে হোক কিংবা বেখেয়ালেই হোক এতোটুকু নিয়ম ভেঙে এগিয়ে গেছেন অথবা ভুল জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন তার জন্যও ছোট্ট করে একবার ভেঁপুর বোতামে চাপ দেওয়া যেতে পারে৷ কিন্তু এছাড়া তেড়ে বাঁশি বাজানোর মতো অভদ্রতা কিংবা অসৌজন্যতা কখনও চোখে পড়বে না কিংবা কানেও শোনা যাবে না৷
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×